প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সদ্য শেষ হওয়া দুই টেস্টের সিরিজে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ছিল দুই রকম। ডারউইনে দাপুটে ক্রিকেট খেলে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ম্যাকাইয়ে দ্বিতীয় টেস্টে মাত্র দুই দিনে ইনিংস ও ৫১ রানে হেরে যায় টাইগাররা। ফলে সিরিজ ১-১ ব্যবধানে ড্র হলেও শেষ ম্যাচের হতাশাজনক পারফরম্যান্সই আলোচনায় বেশি জায়গা করে নিয়েছে।
সিরিজ শেষে সংবাদ সম্মেলনে কঠিন প্রশ্নের মুখে পড়েন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। দ্বিতীয় টেস্টে দলের ব্যর্থতার কথা স্বীকার করলেও তিনি ম্যাচের কঠিন কন্ডিশনের বিষয়টি সামনে আনেন। শান্ত বলেন, অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের বিশ্বমানের বোলিংয়ের বিপক্ষে এমন কন্ডিশনে ২৩ বছর পর খেলতে এসে মানিয়ে নেওয়া সহজ ছিল না।
শান্ত বলেন, দলের কেউই ম্যাচে ক্যাজুয়াল ছিল না এবং সবাই ভালো করার চেষ্টা করেছে। তবে ব্যাটিংয়ে দল প্রত্যাশা অনুযায়ী খেলতে পারেনি। তাঁর মতে, কঠিন কন্ডিশনের কারণে বাংলাদেশ ব্যর্থ হয়েছে, যদিও এটিকে অজুহাত হিসেবে দেখছেন না তিনি। একই সঙ্গে স্বীকার করেছেন, দল আরও ভালো ক্রিকেট খেলতে পারত।
ম্যাকাইয়ের পেস ও বাউন্সি উইকেটে সিরিজ বাঁচানোর লক্ষ্যে অস্ট্রেলিয়ার বোলিং আক্রমণ ছিল দুর্দান্ত। মিচেল স্টার্ক একাই সিরিজে ১০ উইকেট নিয়েছেন। প্যাট কামিন্সও ছিলেন ধারাবাহিক। এমন উইকেটে অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের মোকাবিলা করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলা বাংলাদেশের ব্যাটারদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।
তবে প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়কে ছোট করে দেখতে চান না শান্ত। তিনি জানান, প্রথম ম্যাচ জয়ের পরও দলের মধ্যে অতিরিক্ত আত্মতুষ্টি কাজ করেনি। বরং বিশ্বসেরা দলকে হারানোর অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হয়ে থাকবে।
দ্বিতীয় টেস্টে বাংলাদেশের বোলারদের পারফরম্যান্স অবশ্য ইতিবাচক ছিল। প্রথম টেস্টে হাসান মাহমুদ ও মেহেদী হাসান মিরাজ ভালো বোলিং করেন। আর দ্বিতীয় টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ২১০ রানে অলআউট করার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম। কিন্তু ব্যাটাররা সামান্য ভালো করতে পারলেও ম্যাচের চিত্র ভিন্ন হতে পারত বলে মনে করেন অধিনায়ক।
দ্বিতীয় ইনিংসে নিজের ব্যাটিং নিয়েও আত্মসমালোচনা করেছেন শান্ত। তিনি বলেন, সেট হওয়ার পর যে সময়ে তিনি আউট হয়েছেন, সেটি গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর আরও কিছুক্ষণ ক্রিজে থাকা উচিত ছিল। তবে দলের কোনো নির্দিষ্ট ব্যাটারকে দায়ী করতে চাননি তিনি। তাঁর মতে, পুরো দল হিসেবেই বাংলাদেশ ভালো করতে পারেনি।
ম্যাকাইয়ের উইকেট নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ম্যাচের পর থেকেই। প্রথম দিনেই দুই দলের ১৮টি উইকেট পড়ে যায়। দুই দিনে টেস্ট শেষ হওয়ায় উইকেটের মান নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। এ প্রসঙ্গে শান্ত মনে করিয়ে দেন, উপমহাদেশে এক দিনে ১৮-১৯ উইকেট পড়লে যেমন সমালোচনা হয়, একই ঘটনা অস্ট্রেলিয়াতেও ঘটেছে। তাঁর মতে, উইকেটটি দুই দলের ব্যাটারদের জন্যই কঠিন ছিল।
দুই দিনে টেস্ট শেষ হওয়া নিয়ে এক অস্ট্রেলীয় সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবেও শান্ত অতীতের উদাহরণ টানেন। তাঁর বক্তব্য, এমন কন্ডিশনে দুই বা তিন দিনে টেস্ট শেষ হয়ে যাওয়ার ঘটনা নতুন নয়। তাই এ ধরনের ফলাফল ক্রিকেটে ঘটতেই পারে।
তবে দ্বিতীয় টেস্টের ফলকে পুরো সিরিজের মূল্যায়নের একমাত্র ভিত্তি না করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তাঁর মতে, অস্ট্রেলিয়ার মতো দলকে প্রথম টেস্টে হারানো বাংলাদেশের জন্য বড় অর্জন। দ্বিতীয় টেস্টে ব্যাটিং ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে উন্নতি করতে হবে।
সিরিজের ইতিবাচক দিকগুলো সঙ্গে নিয়েই সামনে এগোতে চান শান্ত। বিশেষ করে বোলারদের পারফরম্যান্স এবং অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়কে তিনি বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখছেন। সামনে নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো কঠিন সফরে এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে বলে আশা করছেন তিনি।
শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ ১-১ ব্যবধানে ড্র করেছে বাংলাদেশ। ডারউইনের জয় যেমন আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে, তেমনি ম্যাকাইয়ের দুই দিনের পরাজয় ব্যাটিংয়ের দুর্বলতা ও কঠিন কন্ডিশনে মানিয়ে নেওয়ার সীমাবদ্ধতা সামনে এনেছে। শান্তর মতে, এই দুই অভিজ্ঞতা থেকেই শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হওয়াই এখন বাংলাদেশের প্রধান কাজ।