সুনামগঞ্জে সড়ক-নদীতীরে কাটা হচ্ছে ৪৩৪ গাছ

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৭ বার

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সুনামগঞ্জের ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলার সড়ক ও নদীতীরবর্তী এলাকায় সড়ক প্রশস্তকরণের জন্য ৪৩৪টি পুরোনো গাছ কাটার কার্যক্রম চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ৫০ বছরেরও বেশি বয়সী এসব গাছ নদীতীরের ভাঙন ঠেকানোসহ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিল। গাছগুলো কেটে ফেলায় আগামী দিনে পরিবেশ ও নদীভাঙনের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

সড়ক প্রশস্তকরণের কথা বলে এসব গাছ কাটার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, গাছ কাটার পাশাপাশি নতুন করে বনায়ন কিংবা প্রতিটি গাছের বিপরীতে দুটি করে চারা রোপণের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সরকারি নিলাম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গাছ বিক্রি করে বর্তমানে ঠিকাদারের লোকজন সেগুলো কেটে নিয়ে যাচ্ছেন।

ছাতক বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়কের ১৩ কিলোমিটার অংশ প্রশস্ত করার কাজ শিগগির শুরু হবে। এ কারণে সড়কের পাশের ৪৩৪টি গাছ সরকারি নিলাম প্রক্রিয়ায় বিক্রি করা হয়েছে। তকিপুর মসজিদ থেকে তাজপুর বাজার পর্যন্ত এসব গাছে আগেই চিহ্ন দেওয়া হয়েছিল। সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর গাছগুলো নিলামে তোলা হয়।

নিলামে বিক্রি হওয়া গাছের মধ্যে রয়েছে ১৭৪টি রেইনট্রি, ১১৪টি মেহগনি, ২৮টি আকাশমণি, ৪৫টি শিশু, ২৬টি জাম, ১০টি পিটালি, ১০টি অর্জুন, সাতটি ছাতিয়ান, ছয়টি জারুল, ছয়টি গামার, তিনটি কড়ই, দুটি চাম্বুল, দুটি কদম ও একটি বাবলা গাছ।

বন বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, এসব গাছ থেকে ৩ হাজার ৫২৯ ঘনফুট কাঠ এবং ২ হাজার ৬৭১ ঘনফুট জ্বালানি কাঠ পাওয়ার কথা। সিলেটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবদুর রহমানের স্বাক্ষর করা কার্যাদেশে বলা হয়েছে, ৪৩৪টি গাছ ১৩ লাখ ৪০ হাজার টাকায় নিলামে বিক্রি করা হয়েছে। এর মধ্যে উপকারভোগীরা পাবেন ৯ লাখ ৬৪ হাজার ৮০০ টাকা এবং সরকারি কোষাগারে জমা হবে ৩ লাখ ৭৫ হাজার ২০০ টাকা।

এলাকাবাসী বলছেন, ছাতক থেকে দোয়ারাবাজার পর্যন্ত সড়কের একটি বড় অংশ নদীতীরঘেঁষা। দীর্ঘদিন ধরে সড়কের পাশে বেড়ে ওঠা পুরোনো গাছগুলোর শিকড় নদীতীরের মাটিকে শক্ত করে ধরে রেখেছিল। বর্ষায় নদীর পানি বাড়লে ঢেউয়ের আঘাত থেকে তীর রক্ষায় গাছগুলো প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করত।

তাদের আশঙ্কা, গাছ কেটে ফেলার ফলে নদীতীরের মাটি দুর্বল হয়ে পড়বে। ভারী বর্ষণ ও নদীর প্রবল স্রোতে তীর ভাঙনের ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এর প্রভাব বেশি দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

সড়কে নিয়মিত চলাচলকারী গাড়িচালক কামাল উদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি এই সড়কে গাড়ি চালাচ্ছেন। পুরোনো বড় গাছগুলো পথচারী ও যাত্রীদের ছায়া দিত এবং চালকদেরও স্বস্তি দিত। নদীতীরঘেঁষা গাছগুলো কেটে ফেলায় আগামী বর্ষায় দোয়ারাবাজার অংশে নদীভাঙনের আশঙ্কা বেড়ে যেতে পারে।

নোয়ারাই ইউনিয়নের লক্ষ্মীবাউড় গ্রামের বাসিন্দা ও শিক্ষার্থী সুমন আহমেদ বলেন, রাস্তার পাশের পুরোনো গাছগুলো এলাকার সৌন্দর্য ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখত। নদীতীরের দৃশ্যও এসব গাছের কারণে আকর্ষণীয় ছিল। সড়ক উন্নয়নের নামে এতগুলো পুরোনো গাছ কেটে ফেলার প্রভাব ইতিবাচক হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক উন্নয়ন বা আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সুরক্ষার বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তাদের মতে, সড়ক প্রশস্ত করা প্রয়োজন হলেও পরিকল্পিতভাবে গাছ সংরক্ষণ এবং ক্ষতিপূরণমূলক বনায়নের ব্যবস্থা করা উচিত ছিল।

তবে ছাতক-দোয়ারাবাজার অঞ্চলের স্থানীয় বন কর্মকর্তা কেবিএম ফেরদৌস বলেন, গাছগুলো কাটার জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে আগেই কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল। সড়ক প্রশস্তকরণ কাজে প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত গাছ নিয়ম অনুযায়ী নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে।

সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে পরিবেশগত সুরক্ষা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, সে বিষয়ে স্থানীয়দের মধ্যে এখনো উদ্বেগ রয়েছে। তাদের দাবি, উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি নদীতীর রক্ষা, নতুন বৃক্ষরোপণ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

বিস্তারিত জানতে আরো পড়ুন>> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত