প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ইরান ও ওমান হরমুজ প্রণালিতে অস্থায়ী ট্রানজিট করিডোর চালু এবং মাইন অপসারণ নিয়ে আলোচনা করেছে। তবে তেহরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বন্ধ না করা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ পুনরায় চালু করা হবে না।
তেহরানে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ইরান ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ধাপে ধাপে বাস্তবায়নযোগ্য একটি রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করেন। সংশ্লিষ্ট বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত রূপরেখায় নৌ-চলাচলের জন্য একটি অস্থায়ী করিডোর চালু এবং সমুদ্রপথ থেকে মাইন অপসারণের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
মঙ্গলবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, প্রস্তাবিত রূপরেখাটি শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রতি অঙ্গীকারের পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের অব্যাহত কূটনৈতিক প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।
হরমুজ প্রণালির তীরবর্তী ইরান ও ওমান জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি পরিকল্পনা চূড়ান্ত করারও চেষ্টা করছে। গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারকে এ ধরনের একটি পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।
তবে বুধবার তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যুদ্ধ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি পুনরায় চালু করার বিষয়ে তারা সম্মত নয়। ফলে অস্থায়ী করিডোর চালুর উদ্যোগের পাশাপাশি জলপথের নিরাপত্তা ও সামরিক পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
যুদ্ধ শুরুর প্রায় ছয় মাস পরও হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে রয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সাধারণত এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।
হরমুজ প্রণালি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ। উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি রপ্তানির বড় অংশ এই পথের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থান অনুযায়ী প্রণালিতে অবরোধ আরোপ করে রেখেছে। এই পরিস্থিতিতে ইরান-ওমানের আলোচনায় অস্থায়ী নৌ-করিডোর ও মাইন অপসারণের উদ্যোগ বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।