টাইমস স্কয়ারে ছুরিকাঘাতে নিহত ১, পুলিশের গুলিতে নারী নিহত

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১১ বার
টাইমস স্কয়ারে ছুরিকাঘাতে নিহত ১, পুলিশের গুলিতে নারী নিহত

প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ব্যস্ততম পর্যটনকেন্দ্র টাইমস স্কয়ারে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এক পুরুষ আহত হয়েছেন। পরে হামলাকারী হিসেবে চিহ্নিত ৪৯ বছর বয়সী এক নারীকে পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ।

সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার কিছু আগে ওয়ান টাইমস স্কয়ার ভবনের বাইরে একটি পুলিশ সাব-স্টেশনের কাছে এ ঘটনা ঘটে। ব্যস্ততম এই এলাকায় তখন স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক পর্যটকের উপস্থিতি ছিল। ফলে আকস্মিক হামলার ঘটনায় সেখানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়।

নিউইয়র্ক পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কুইন্সের বাসিন্দা ওই নারী একটি শপিং ব্যাগ থেকে দুটি ছুরি বের করেন। এরপর সাবওয়ে স্টেশন থেকে বেরিয়ে আসা ৬৮ বছর বয়সী এক পুরুষের পেটে ছুরিকাঘাত করেন। ওই ব্যক্তি তখন তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে রাস্তা পার হওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন।

এর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ৩২ বছর বয়সী আরেক নারীকে ছুরিকাঘাত করা হয়। হামলায় দুইজনই গুরুতর আহত হন। পরে তাদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে ৩২ বছর বয়সী নারী মারা যান। ৬৮ বছর বয়সী পুরুষ চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ঘটনার পর হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সদস্যরা কয়েক মিনিট ধরে চেষ্টা করেন। পুলিশ কর্মকর্তারা তাকে ছুরি ফেলে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন এবং পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু ওই প্রচেষ্টা সফল হয়নি। পরে পুলিশ তাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে টেজার ব্যবহার করে। তাতেও কাজ না হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে ছুরি হাতে ওই নারী পুলিশ কর্মকর্তাদের দিকে এগিয়ে যান। তখন দুই পুলিশ কর্মকর্তা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তিনি মাটিতে পড়ে যান। পরে পুলিশ সদস্যরা তাকে হাতকড়া পরিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে শেষ পর্যন্ত তিনিও মারা যান।

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে পুলিশ কর্মকর্তাদের ওই নারীকে ঘিরে থাকতে দেখা যায়। তাঁর হাতে দুটি বড় রান্নাঘরের ছুরি ছিল বলে ভিডিওতে দেখা গেছে। পরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকা ওই নারীকে ঘিরে পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসা দেওয়ার দৃশ্যও দেখা যায়।

পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ বলেন, টাইমস স্কয়ারের মতো জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করেছিল। তাঁর মতে, ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ কর্মকর্তাদের দ্রুত পদক্ষেপের ফলে আরও বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, হামলাকারী নারীর মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যার বিষয়ে পুলিশের কাছে আগের কিছু তথ্য ছিল। ২০১৮ ও ২০১৯ সালে তাঁর সঙ্গে সম্পর্কিত কয়েকটি ঘটনার তথ্য পুলিশের নথিতে রয়েছে। তবে ওই নারীকে গ্রেপ্তার করার কোনো রেকর্ড পুলিশের হাতে নেই বলে জানানো হয়েছে।

এখন পর্যন্ত ঘটনাটিকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে বিবেচনা করার মতো কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক পুলিশ। হামলার পেছনে কী কারণ ছিল, ওই নারী কেন আকস্মিকভাবে দুই ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে ছুরিকাঘাত করেছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে আগে থেকেই কারও বিরোধ ছিল কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঘটনার পর নিরাপত্তার স্বার্থে সেভেন্থ অ্যাভিনিউয়ের একটি অংশ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। ওই এলাকা এড়িয়ে চলার জন্য সাধারণ মানুষকে পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

টাইমস স্কয়ার নিউইয়র্কের অন্যতম ব্যস্ত ও পরিচিত স্থান। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ সেখানে যাতায়াত করেন। বিশাল বিজ্ঞাপন বিলবোর্ড, থিয়েটার, দোকানপাট ও পর্যটকদের ভিড়ের কারণে এলাকাটি সবসময়ই সরব থাকে। এমন একটি জনবহুল স্থানে সহিংসতার ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এদিকে নিউইয়র্ক পুলিশ জানিয়েছে, চলতি বছরে শহরে সামগ্রিক সহিংস অপরাধের হার কমেছে। হত্যাকাণ্ডের সংখ্যাও আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে পুলিশের পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে। কয়েক দশকের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামার পথে রয়েছে বলেও পুলিশ দাবি করেছে।

তবে অপরাধ কমে এলেও জনবহুল স্থানে বিচ্ছিন্ন সহিংসতার ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করে। বিশেষ করে পর্যটনকেন্দ্র ও গণপরিবহন ব্যবস্থার আশপাশে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নিউইয়র্ক কর্তৃপক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চলতি বছরে টাইমস স্কয়ারে এটি দ্বিতীয় হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বলে জানিয়েছে পুলিশ। এর আগে গত মে মাসে একই এলাকায় ছুরিকাঘাতে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছিলেন। ফলে মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে একই এলাকায় আবারও ছুরিকাঘাতের ঘটনায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

সাম্প্রতিক ঘটনার নিহত ও আহত ব্যক্তিদের পরিচয় তাদের নিকটাত্মীয়দের অবহিত করার পর প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে হামলাকারী নারীর পরিচয় ও তাঁর অতীত কর্মকাণ্ড নিয়েও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

এই ঘটনায় পুলিশের গুলির ব্যবহার নিয়েও তদন্ত হতে পারে। কারণ, জনবহুল একটি এলাকায় একজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে কী পরিস্থিতিতে গুলি চালানো হয়েছে, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পুলিশ বলছে, ওই নারী ছুরি হাতে কর্মকর্তাদের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পরই গুলি চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

একদিকে আকস্মিক ছুরিকাঘাতে একজন নিরপরাধ মানুষের প্রাণহানি, অন্যদিকে হামলাকারীকে থামাতে পুলিশের গুলিতে আরেকটি প্রাণহানি—পুরো ঘটনাই টাইমস স্কয়ারের মতো ব্যস্ত নগরকেন্দ্রে নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়টিকে সামনে নিয়ে এসেছে। তদন্ত শেষ হলে হামলার কারণ, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ধারাবাহিকতা এবং পুলিশের পদক্ষেপ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

বর্তমানে নিউইয়র্ক পুলিশ ঘটনাটির বিভিন্ন দিক তদন্ত করছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, ভিডিও ফুটেজ এবং অন্যান্য আলামত পর্যালোচনা করে হামলার প্রকৃত কারণ ও পরিস্থিতি নির্ধারণের চেষ্টা চলছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটির উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত