‘এশিয়ার নোবেল’ র‍্যামন ম্যাগসাইসাই পেলেন রুনা খান

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১১ বার

প্রকাশ: ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

‘এশিয়ার নোবেল’ হিসেবে পরিচিত র‍্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পেয়েছেন বাংলাদেশের বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ফ্রেন্ডশিপের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক রুনা খান। প্রান্তিক, নদীভাঙনপ্রবণ ও জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে দীর্ঘদিনের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে ২০২৬ সালের এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় র‍্যামন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশন ২০২৬ সালের বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে। রুনা খানের সঙ্গে এ বছর আরও দুজন এই পুরস্কার পেয়েছেন। তারা হলেন সিঙ্গাপুরের কূটনীতিক ও শিক্ষাবিদ টমি কোহ এবং মিয়ানমারের মানবাধিকারকর্মী বো কিই।

আগামী ১৫ নভেম্বর ম্যানিলার মেট্রোপলিটন থিয়েটারে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিন বিজয়ীর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।

র‍্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার এশিয়ার অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার। ১৯৫৮ সাল থেকে এ পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। ফিলিপাইনের সপ্তম প্রেসিডেন্ট র‍্যামন ম্যাগসাইসাইয়ের স্মরণে এই পুরস্কারের নামকরণ করা হয়। ১৯৫৭ সালে বিমান দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়।

২০২৬ সালের বিজয়ীদের নির্বাচনে মানুষের নিঃস্বার্থ সেবা, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের জন্য সুযোগ সৃষ্টি এবং মানুষকে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে নেওয়ার সক্ষমতা তৈরির বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফাউন্ডেশনের ভাষ্য অনুযায়ী, এবারের বিজয়ীদের কাজ মানবিকতা, সাহস, নেতৃত্ব ও সামাজিক পরিবর্তনের মূল্যবোধকে প্রতিফলিত করে।

রুনা খানকে বিশেষভাবে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের প্রতি গভীর সহমর্মিতা এবং তাদের জন্য কাজ করতে সাহস, দূরদর্শিতা ও অধ্যবসায়ের জন্য স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। র‍্যামন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশনের মতে, তার নেতৃত্বে ফ্রেন্ডশিপ দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, জলবায়ু অভিযোজন, জীবিকা ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তির মতো নানা কার্যক্রম পৌঁছে দিয়েছে।

রুনা খান ২০০২ সালে ফ্রেন্ডশিপ প্রতিষ্ঠা করেন। শুরুতে যমুনা নদীর দুর্গম চরাঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের জন্য একটি ভাসমান হাসপাতালের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম শুরু হয়। সময়ের সঙ্গে ফ্রেন্ডশিপের কার্যক্রম স্বাস্থ্যসেবা থেকে শুরু করে দুর্যোগ মোকাবিলা, জলবায়ু সহনশীলতা, শিক্ষা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, নাগরিক অধিকার ও সাংস্কৃতিক সংরক্ষণ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে।

ফ্রেন্ডশিপের কার্যক্রম বর্তমানে দেশের প্রত্যন্ত ও জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর বড় একটি অংশকে সেবা দিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির সাতটি ভাসমান হাসপাতাল, দুটি স্থলভিত্তিক হাসপাতাল এবং শত শত মোবাইল ক্লিনিক রয়েছে। জলবায়ু অভিযোজনের পাশাপাশি জীবিকা ও কর্মসংস্থান তৈরিতেও প্রতিষ্ঠানটি কাজ করছে।

পুরস্কার পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় রুনা খান আনন্দ ও গভীর বিনয়ের সঙ্গে এই স্বীকৃতি গ্রহণের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, কোনো নেতা একা এগিয়ে যেতে পারেন না। তাই প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং ফ্রেন্ডশিপের কর্মীদের এই স্বীকৃতির অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

র‍্যামন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট সুসানা বি আফান বলেন, বর্তমান বিশ্ব যখন অনিশ্চয়তা, বিভাজন ও জটিল নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, তখন ২০২৬ সালের পুরস্কারের মূল ভাবনা ‘A World for All’ বা সবার জন্য একটি বিশ্ব। তিন বিজয়ীর কাজ দেখায়, মানুষের অভিজ্ঞতা ভিন্ন হলেও ভবিষ্যৎ নির্মাণের দায়িত্ব সবার।

রুনা খানের এই অর্জন বাংলাদেশের সামাজিক উন্নয়ন ও মানবিক কর্মকাণ্ডের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবেও দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্রমবর্ধমান ঝুঁকিতে থাকা চর, নদীভাঙনপ্রবণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জন্য দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নমূলক কাজের কারণে তার নেতৃত্বাধীন ফ্রেন্ডশিপ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিতি পেয়েছে।

র‍্যামন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, ১৯৫৮ সালে প্রথম পুরস্কার দেওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত এশিয়ার বিভিন্ন দেশের অসংখ্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে তাদের অসাধারণ সেবা ও নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের পুরস্কারের মাধ্যমে সেই ধারাবাহিকতায় রুনা খানও যুক্ত হলেন।

বিস্তারিত জানতে আরো পড়ুন>> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত