কুষ্টিয়ায় বিএনপি কার্যালয়ে হামলা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ২৫ বার
কুষ্টিয়ায় বিএনপি কার্যালয়ে হামলা

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার পাটিকাবাড়ী ইউনিয়নের নলকোলা গ্রামে বিএনপির একটি ওয়ার্ড কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেছেন, নাশকতার একটি মামলায় জামিনে মুক্ত হয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ওই কার্যালয়ে হামলা চালান। এ ঘটনায় বিএনপির পাঁচ থেকে ছয়জন সমর্থক আহত হয়েছেন বলে দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। পরে পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগ নেতা রুহুলের বাড়িতে ভাঙচুর এবং তাঁর পাটের গোডাউনে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার আওতাধীন পাটিকাবাড়ী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের নলকোলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, ঘটনা তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের ভাষ্য, মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর নলকোলা গ্রামের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি কার্যালয়ে কয়েকজন নেতাকর্মী ও সমর্থক বসে ছিলেন। তারা নিজেদের মধ্যে কথা বলছিলেন এবং মুড়ি-চানাচুর খাচ্ছিলেন। এ সময় পাটিকাবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. রুহুলের নেতৃত্বে কয়েক ডজন ব্যক্তি সেখানে গিয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ করা হয়। হামলাকারীদের সংখ্যা প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন ছিল বলেও দাবি করেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।

অভিযোগ অনুযায়ী, হামলার সময় কার্যালয়ে থাকা আসবাব ও বিভিন্ন জিনিসপত্রে ভাঙচুর করা হয়। সেখানে উপস্থিত বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের কয়েকজনকে মারধর করা হয়। এতে পাঁচ থেকে ছয়জন আহত হন বলে বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। হামলার সময় স্লোগান দেওয়ার কথাও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

ঘটনার পেছনে কয়েক দিন আগের একটি নাশকতার মামলার বিষয় রয়েছে বলে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা দাবি করেছেন। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের সমর্থকদের একটি মিছিলকে কেন্দ্র করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় একটি নাশকতার মামলা করা হয়। ওই মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা রুহুলসহ আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছিল। পরে তাঁরা আদালত থেকে জামিন পান এবং এলাকায় ফিরে আসেন।

বিএনপির নেতাকর্মীদের অভিযোগ, জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় ফেরার পর আওয়ামী লীগের ওই নেতাকর্মীরা আনন্দ প্রকাশ করেন এবং এরপরই বিএনপি কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। তবে হামলার সঙ্গে জামিন পাওয়ার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়। ঘটনাটি নিয়ে কোনো পক্ষের অভিযোগই তদন্তের আগে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না।

বিএনপি কার্যালয়ে হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলার অভিযোগ ওঠে। তাঁদের একটি অংশ আওয়ামী লীগ নেতা রুহুলের বাড়িতে গিয়ে ভাঙচুর চালায় বলে জানা গেছে। একই সময় তাঁর পাটের গোডাউনে আগুন দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয় এবং দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।

স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক বিরোধ যখন সহিংসতায় রূপ নেয়, তখন তার প্রভাব শুধু রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। সাধারণ বাসিন্দাদের মধ্যেও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। বিশেষ করে গ্রামের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় একটি রাজনৈতিক কার্যালয়কে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের দোকানপাট, বসতবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। নলকোলার ঘটনাতেও হামলা, পাল্টা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ ওঠায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

ঘটনার খবর পাওয়ার পর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতির পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা এবং প্রকৃত ঘটনা কীভাবে ঘটেছে, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. ফয়সাল মাহমুদ জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত রয়েছে এবং পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি জানান, ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করা হবে এবং তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে হামলার ঘটনায় আহত বিএনপির নেতাকর্মীদের চিকিৎসার বিষয়ে স্থানীয়ভাবে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে আহতদের সুনির্দিষ্ট পরিচয় ও চিকিৎসার বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। একইভাবে আওয়ামী লীগ নেতা রুহুলের বাড়ি ও পাটের গোডাউনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

ঘটনাটি ঘিরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে দুই পক্ষের অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ। একদিকে বিএনপির নেতাকর্মীরা দাবি করছেন, তাদের কার্যালয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছে। অন্যদিকে পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগ নেতা ও তাঁর সম্পদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। ফলে ঘটনার শুরু থেকে পরবর্তী পর্যায়ের প্রতিটি ঘটনা আলাদাভাবে যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক সংঘাতের ক্ষেত্রে প্রতিশোধমূলক হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। একটি ঘটনার জেরে পাল্টা হামলা হলে সংঘাত দ্রুত বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা কিংবা অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও সম্পদের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করে। এ কারণে ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা ঠেকাতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

নলকোলা গ্রামের ঘটনার পর স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যেও উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে জানা গেছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে। কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, মারধর, বাড়িতে হামলা এবং অগ্নিসংযোগ—প্রতিটি অভিযোগই তদন্তের আওতায় আসবে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

এখন পর্যন্ত প্রকাশ্য তথ্য অনুযায়ী, ঘটনায় কোনো পক্ষের অভিযোগই আদালত বা তদন্তকারী সংস্থার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে প্রমাণিত হয়নি। পুলিশ তদন্তের মাধ্যমে হামলার প্রকৃত কারণ, অংশগ্রহণকারীদের পরিচয় এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এলাকায় যাতে নতুন করে সংঘর্ষ বা সহিংসতা না ছড়ায়, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নজরদারিতে রাখার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

কুষ্টিয়ার পাটিকাবাড়ীর নলকোলা গ্রামের এই ঘটনা স্থানীয় রাজনীতিতে উত্তেজনার নতুন মাত্রা তৈরি করেছে। একটি রাজনৈতিক কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ থেকে শুরু করে পাল্টা বাড়িঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ পর্যন্ত গড়ানো ঘটনায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টিও সামনে এসেছে। এখন তদন্তের ফলাফল এবং আইনগত পদক্ষেপের দিকেই নজর থাকবে। একই সঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং সংঘাত এড়িয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত