আল আইনের কাছে ৪-০ হারে নতুন রেকর্ড রোনালদোর

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৭ বার
আল আইনের কাছে ৪-০ হারে নতুন রেকর্ড রোনালদোর

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ এলিটের নতুন মৌসুমে শুরুটাই ভালো হলো না ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দল আল নাসরের। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্লাব আল আইনের বিপক্ষে ৪-০ গোলের বড় ব্যবধানে হেরে এশিয়ার শীর্ষ ক্লাব প্রতিযোগিতায় নিজেদের অভিযান শুরু করেছে সৌদি আরবের দলটি। এই পরাজয় শুধু তিন পয়েন্ট হারানোর ঘটনা নয়, রোনালদো আল নাসরে যোগ দেওয়ার পর ক্লাবটির হয়ে সবচেয়ে বড় ব্যবধানের পরাজয়ও এটি।

মঙ্গলবার রাতে আল আইনের হাজ্জা বিন জায়েদ স্টেডিয়ামে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়। শুরু থেকেই স্বাগতিকরা আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও আল নাসরও কয়েকটি মুহূর্তে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। কিন্তু ম্যাচ যত এগিয়েছে, আল আইনের নিয়ন্ত্রণ ততই বেড়েছে। শেষ পর্যন্ত চার গোলের ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দলটি।

আল আইনের জয়ের নায়ক ছিলেন মরক্কোর দুই ভাই হুসাইন রহিমি ও সুফিয়ান রহিমি। হুসাইন একাই দুটি গোল করেন। পরে তার ভাই সুফিয়ান করেন তৃতীয় গোল। ম্যাচের শেষ দিকে গ্রিক ফরোয়ার্ড জিওর্গোস গিয়াকুমাকিস চতুর্থ গোল করে আল নাসরের পরাজয় আরও বড় করেন। এএফসির ম্যাচ প্রতিবেদনে চার গোলের সময় যথাক্রমে ২৫, ৬৩, ৭২ ও ৮৫ মিনিট উল্লেখ করা হয়েছে।

ম্যাচের ২৫ মিনিটে আল আইনের প্রথম গোলটি আসে আল নাসরের রক্ষণভাগের ভুল থেকে। সাদ আল নাসেরের একটি দুর্বল পাস কাজে লাগিয়ে হুসাইন রহিমি বল নিয়ে গোলরক্ষক নওয়াফ আল-আকিদির পাশ দিয়ে বল জালে পাঠান। এতে স্বাগতিকরা এগিয়ে যায় এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তভাবে নিজেদের হাতে নিতে শুরু করে।

প্রথমার্ধে পিছিয়ে থাকলেও বিরতির পর আল নাসর কিছুটা বেশি সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু আক্রমণে কার্যকর সমন্বয় তৈরি করতে না পারায় গোলের সুযোগ খুব বেশি তৈরি করতে পারেনি তারা। বিপরীতে আল আইন নিজেদের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্যবধান বাড়িয়ে নেয়।

৬৩ মিনিটে আবারও গোল করেন হুসাইন রহিমি। কাকুর সঙ্গে দারুণ সমন্বয়ের পর বল পেয়ে তিনি আল নাসরের রক্ষণ ভেঙে দ্বিতীয়বারের মতো জালে বল পাঠান। তার দ্বিতীয় গোলের পর আল নাসরের জন্য ম্যাচে ফিরে আসা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

এরপর ৭২ মিনিটে ম্যাচের তৃতীয় গোলটি করেন হুসাইনের ভাই সুফিয়ান রহিমি। আলেহান্দ্রো রোমেরোর বাড়ানো বলের দিকে সঠিক সময়ে ছুটে গিয়ে প্রথম স্পর্শেই শট নেন তিনি। বল নিচু দিয়ে জালে ঢুকে গেলে আল আইনের জয় কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায়।

ম্যাচের শেষের দিকে আরও একটি গোল হজম করে আল নাসর। ৮৫ মিনিটে সুফিয়ান রহিমির সহায়তায় জিওর্গোস গিয়াকুমাকিস গোল করেন। এর ফলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৪-০। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় বড় ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আল আইন।

রোনালদোর জন্য ম্যাচটি ছিল ব্যক্তিগতভাবেও হতাশার। পর্তুগিজ এই তারকা ম্যাচের শুরু থেকেই আল নাসরের আক্রমণভাগে ছিলেন। তবে দলের আক্রমণ প্রত্যাশামতো কার্যকর না হওয়ায় তিনি গোলের দেখা পাননি। আল আইনের গোলরক্ষক খালিদ ঈসা ম্যাচের শেষ দিকে রোনালদোর একটি ফ্রি-কিকও ঠেকিয়ে দেন।

ম্যাচের একটি পর্যায়ে রোনালদো গোলের সুযোগ তৈরির চেষ্টা করেছিলেন। তবে আল আইনের রক্ষণভাগ তাকে খুব বেশি জায়গা দেয়নি। ফলে পুরো ম্যাচে আল নাসরের আক্রমণভাগের অন্যতম প্রধান তারকাও দলকে বিপর্যয় থেকে উদ্ধার করতে পারেননি। ম্যাচ শেষে চার গোলের ব্যবধানে হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় সৌদি ক্লাবটিকে।

এই ফল রোনালদোর আল নাসর অধ্যায়ের পরিসংখ্যানেও আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে সৌদি ক্লাবে যোগ দেওয়ার পর এটিই তার দলের সবচেয়ে বড় পরাজয়। এর আগে আল নাসর সৌদি প্রো লিগে আল হিলালের কাছে ৩-০ গোলে এবং সৌদি সুপার কাপে একই প্রতিপক্ষের কাছে ৪-১ গোলে হেরেছিল। তবে রোনালদোর পুরো ক্লাব ক্যারিয়ারে এর চেয়েও বড় ব্যবধানের পরাজয়ের নজির রয়েছে।

ব্যক্তিগতভাবে রোনালদোর জন্য এটি ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় হার নয়। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে ২০২১ সালে লিভারপুলের কাছে এবং রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ২০১০ সালে বার্সেলোনার কাছে ৫-০ গোলের পরাজয়ের ম্যাচেও তিনি মাঠে ছিলেন। অর্থাৎ আল আইনের কাছে ৪-০ ব্যবধানের হারটি তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ ব্যবধানের হার নয়; বরং আল নাসরের হয়ে সবচেয়ে বড় ব্যবধানের হার।

আল আইনের এই জয়ের পেছনে রহিমি ভাইদের পারফরম্যান্সও ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। হুসাইন ও সুফিয়ান দুজনই গোল করেন এবং দলের আক্রমণকে ধারাবাহিকভাবে বিপজ্জনক করে তোলেন। ম্যাচের পর আল আইনের খেলোয়াড়দের উদযাপনেও আবেগের ছাপ ছিল। আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রহিমি ভাইরা ম্যাচের আগে তাদের বাবাকে হারিয়েছিলেন। এই প্রেক্ষাপটে তাদের মাঠের পারফরম্যান্স ও গোল উদযাপন আরও আবেগঘন হয়ে ওঠে।

অন্যদিকে আল নাসরের জন্য এই পরাজয় এসেছে এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ এলিটে নতুন মৌসুমের প্রথম ম্যাচেই। গত মৌসুমে এশিয়ার শীর্ষ ক্লাব প্রতিযোগিতার বদলে দ্বিতীয় স্তরের এশিয়ান প্রতিযোগিতায় খেলার পর এবার আবার শীর্ষ পর্যায়ে ফিরেছে সৌদি ক্লাবটি। তাই প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে এমন ফল দলটির জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে এসেছে।

তবে একটি ম্যাচের ফল দিয়ে পুরো টুর্নামেন্টের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হয়ে যাচ্ছে না। এবারের প্রতিযোগিতার লিগ পর্বে ১৬টি দল অংশ নিচ্ছে এবং শীর্ষ আট দল নকআউট পর্বে যাবে। ফলে আল নাসরের সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ থাকবে।

ম্যাচের পর আল নাসরের কোচ আনজে পোস্টেকোগ্লুর সংবাদ সম্মেলন নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক সাংবাদিক রোনালদোর উপস্থিতি দলটির জন্য কতটা কার্যকর—এমন প্রশ্ন তুললে কোচের সঙ্গে তার উত্তপ্ত কথোপকথন হয়। কোচ রোনালদোকে নিয়ে প্রশ্নের জবাব দেন এবং দলের পারফরম্যান্সের প্রসঙ্গও সামনে আসে।

সব মিলিয়ে আল আইনের বিপক্ষে ৪-০ গোলের হার আল নাসরের জন্য নতুন মৌসুমের একটি কঠিন সূচনা। রোনালদোর উপস্থিতি, তারকা-সমৃদ্ধ দল এবং এশিয়ার শীর্ষ প্রতিযোগিতায় ফেরার প্রত্যাশা—সবকিছুর পরও ম্যাচে আল আইনই ছিল স্পষ্টত এগিয়ে। এখন আল নাসরের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে এই পরাজয় থেকে দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়ে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে নিজেদের অবস্থান শক্ত করা। আর রোনালদোর ভক্তদের অপেক্ষা থাকবে, পরের ম্যাচেই তিনি ও তার দল কীভাবে এই হতাশাজনক রাতের জবাব দেন, সেটি দেখার জন্য।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত