২০ আগস্ট ২০২৫| নিজস্ব সংবাদদাতা| একটি বাংলাদেশ অনলাইন
পটুয়াখালীর কুয়াকাটাসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার ট্রলার ‘এফবি মায়ের দোয়া’ ডুবে যাওয়ার পাঁচ দিন পর ১৪ জন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও পাঁচজন জেলে নিখোঁজ রয়েছেন, যা এই দুর্ঘটনার মানবিক ও নিরাপত্তা দিক উভয়কেই সামনে নিয়ে এসেছে। বুধবার (২০ আগস্ট) দুপুরে কুয়াকাটার গঙ্গামতি সমুদ্র উপকূল থেকে স্থানীয় জেলেরা ১৩ জনকে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করেন। এর আগে, একই দিনে সকালে পায়রা বন্দরের ২০ কিলোমিটার গভীর সাগর থেকে অন্য একটি ট্রলার একজন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করে।
উদ্ধার হওয়া জেলেরা হলো তৌহিদ ইসলাম (১৮), মো. মোরশেদ (২০), মো. হেলাল (২২), সাজ্জাদ (২২), শেখ অপু (২২), মো. নুরুল হাসান (২৫), আলী (২৬), আনসার (২৭), ফয়সাল (২৮), আনিস (২৮), বাদশা মাঝি (৩২), আবুল কাশেম (৪০), কবির (৪৫) ও নুরুল আলম (৬০)। তারা সকলেই চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাসিন্দা। বর্তমানে এই জেলেরা কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জেলেরা জানিয়েছেন, গত ১৪ আগস্ট রাতে চট্টগ্রামের বাঁশখালী থেকে ১৯ জন জেলেসহ ট্রলারটি মাছ ধরার উদ্দেশ্যে সমুদ্রে যাত্রা করেছিল। গভীর সমুদ্রে প্রবল ঝোড়ো হাওয়ার কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। জেলেরা পানির ড্রাম ও অন্যান্য ভাসমান বস্তু আঁকড়ে ধরে পাঁচদিন ধরে সাগরে ভেসে ছিলেন। পরে অন্য ট্রলারের জেলেরা তাদের জীবিত উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আসে।
কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শংকর প্রসাদ অধিকারী জানান, “উদ্ধার হওয়া জেলেদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের শরীরে পানিশূন্যতা এবং শারীরিক দুর্বলতা থাকলেও সবাই আশঙ্কামুক্ত।” কুয়াকাটা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বিকাশ মন্ডল জানান, “উদ্ধার হওয়া জেলেরা চিকিৎসাধীন আছেন। নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারের জন্য কোস্টগার্ডকে অবিলম্বে জানানো হয়েছে।”
দুর্যোগপূর্ণ এই পরিস্থিতি এবং দীর্ঘ পাঁচদিন ধরে জীবিত থাকার ঘটনা চট্টগ্রাম উপকূলীয় অঞ্চলের জেলেদের সহনশীলতা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে টিকে থাকার সক্ষমতাকে তুলে ধরে। পাশাপাশি, এ ধরনের দুর্ঘটনা সমুদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্বকেও সামনে আনে, যা ভবিষ্যতে আরও কঠোর নজরদারি এবং প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তার দিকে নির্দেশ করছে।