বন্দিবিনিময় প্রস্তাব মেনে নেওয়ার আহ্বান ইসরায়েলি সেনাপ্রধানের

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৫
  • ৩৮ বার

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ‘ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

গাজায় ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তি নিশ্চিত করতে বন্দিবিনিময় প্রস্তাব গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন ইসরায়েলের সেনাপ্রধান ইয়াল জামির। তিনি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি সরাসরি আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করে বলেছেন, গাজা সিটি দখলের সামরিক অভিযান চালালে সেখানে বন্দি ইসরায়েলিদের জীবন ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে পড়বে। তাঁর এই মন্তব্যকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে, কারণ ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ অঙ্গনে এখন জিম্মিদের মুক্তি ও সামরিক অভিযানের মধ্যে অগ্রাধিকার বেছে নেওয়ার প্রশ্নে বিতর্ক তীব্র আকার ধারণ করেছে।

বার্তা সংস্থা আনাদোলুর খবরে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের ভেতরে জিম্মি পরিবারগুলো দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছে। তারা সরকারের প্রতি চাপ সৃষ্টি করছে যেন দ্রুত একটি চুক্তি করে প্রিয়জনদের মুক্তির পথ সুগম করা হয়। তাদের মতে, সামরিক পদক্ষেপ যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে জিম্মিদের মৃত্যুঝুঁকি। সেনাপ্রধানের এই আহ্বান সেই জনমতের প্রতিফলন হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

ইসরায়েলি চ্যানেল ১৩-তে সম্প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে ইয়াল জামির বলেন, “একটি চুক্তি আলোচনার টেবিলে আছে এবং এটি এখনই গ্রহণ করা উচিত।” তিনি আরও জানান, সেনাবাহিনী যুদ্ধবিরতি সম্পন্ন করার শর্ত দিয়েছে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখন সরকারের হাতে। তাঁর মতে, ইসরায়েলি বাহিনী চাইলে গাজা দখল করতে সক্ষম, কিন্তু সেই অভিযানের ফলেই সবচেয়ে বড় বিপদের মুখে পড়তে পারেন জিম্মিরা। তাই মানবিক দিক বিবেচনায় এ মুহূর্তে কূটনৈতিক পথই উত্তম বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বৃহস্পতিবার নির্দেশ দিয়েছেন যেন জিম্মিদের মুক্তির জন্য তাৎক্ষণিক আলোচনা শুরু করা হয়। তবে একইসঙ্গে তিনি গাজা সিটি দখল এবং সেখানকার বাসিন্দাদের স্থানান্তরের পরিকল্পনাও অব্যাহত রাখার কথা ঘোষণা দেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, নেতানিয়াহুর এই দ্বৈত অবস্থান ইঙ্গিত দেয় যে তিনি নতুন শর্তে চুক্তি করতে চাইছেন, যেখানে সামরিক চাপ এবং কূটনৈতিক আলোচনাকে একসঙ্গে ব্যবহার করা হবে। অন্যদিকে মিশর ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা ইতিমধ্যেই বন্দিবিনিময় প্রস্তাবের বিষয়ে ইসরায়েলের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় আছেন। হামাস এর আগে প্রস্তাবটি মেনে নেওয়ার সম্মতি জানিয়েছিল।

ইসরায়েলি সেনাপ্রধানের বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছে জিম্মিদের পরিবারগুলো। তাদের বক্তব্য, সেনাপ্রধান নিজেই যখন বলছেন জিম্মিদের জীবন বিপদের মুখে, তখন সরকারের আর দেরি করার কোনো সুযোগ নেই। দ্রুত বন্দিবিনিময়ের মাধ্যমে সংকট সমাধান করতে হবে।

বর্তমানে ইসরায়েলের ধারণা, হামাসের হাতে অন্তত ৫০ জন ইসরায়েলি বন্দি রয়েছে, যাদের মধ্যে ২০ জন জীবিত বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। অপরদিকে তেলআবিবের কারাগারে আটক রয়েছে ১০ হাজার ৮০০-এরও বেশি ফিলিস্তিনি। মানবাধিকার সংস্থাগুলো অভিযোগ করেছে, ফিলিস্তিনি বন্দিরা সেখানে নির্যাতন, অমানবিক আচরণ এবং চিকিৎসা অবহেলার শিকার হচ্ছেন। এই বাস্তবতা ইসরায়েলি নীতি এবং মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে আরও প্রশ্ন তুলছে।

এর আগে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎজ গাজা সিটি দখলের জন্য নতুন সামরিক পরিকল্পনা অনুমোদন করেন। তবে সেনাপ্রধানের এই সতর্কবার্তা ও জিম্মিদের পরিবারের চাপ সরকারের সিদ্ধান্তকে কঠিন করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনও ঘনিষ্ঠভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে, কারণ বন্দিবিনিময় চুক্তি না হলে সংঘাত আরও জটিল ও দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে শঙ্কা করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত