মোদি-ইরানি শিক্ষাগত যোগ্যতা: হাইকোর্টের নির্দেশনায় রহস্য আরও গভীর হলো

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৫
  • ৬৪ বার
মোদি-ইরানি শিক্ষাগত যোগ্যতা: হাইকোর্টের নির্দেশনায় রহস্য আরও গভীর হলো

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে দ্বিধা ও বিতর্ক বহু বছর ধরে চলছিল, তবে দিল্লি হাইকোর্টের সাম্প্রতিক রায়ে সেই বিষয়টি আরও রহস্যময় হয়ে উঠেছে। হাইকোর্ট সোমবার ঘোষণা করেছে, প্রধানমন্ত্রী মোদির স্নাতক ডিগ্রি প্রকাশ করতে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় বাধ্য নয়। একইসঙ্গে সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি নেত্রী স্মৃতি ইরানির স্কুলের দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির ফল প্রকাশের বিষয়েও হাইকোর্ট স্পষ্ট করেছেন, কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাদের প্রকাশে বাধ্য নয়।

বিচারপতি সচিন দত্তের যুক্তি, কোনো ব্যক্তির শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য ব্যক্তিগত বিষয়ভুক্ত এবং তা সর্বজনীন করা উচিত নয়। এই ধরণের তথ্য তথ্য জানার অধিকার আইনের আওতায়ও পড়ে না। হাইকোর্টের রায় একদিকে যেমন ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করেছে, তেমনি রাজনৈতিক নেতাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রকাশের বিষয়ে জনস্বার্থের দাবির সীমারেখা স্থাপন করেছে।

মোদির শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তার শিক্ষাগত ইতিহাস নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে। কৈশোরে স্কুলের গণ্ডি পেরোতে না পারা, তারপরে হঠাৎ দিল্লি ও গুজরাট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের দাবি, প্রশংসাপত্রের তারিখ ও বিষয়বস্তুর অসঙ্গতি—সব মিলিয়ে জনমনে সংশয় তৈরি করেছে। নির্বাচনী হলফনামায় মোদি জানিয়েছেন, ১৯৭৮ সালে তিনি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘এন্টায়ার পলিটিক্যাল সায়েন্স’ বিষয়ে বিএ পাস করেছেন, যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এই বিষয়টি কখনও শিক্ষাক্রমে ছিল না। এছাড়া ১৯৮৩ সালে গুজরাট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি এমএ পাস করেছেন বলেও দাবি করেছেন।

একইভাবে, বিজেপি নেত্রী স্মৃতি ইরানির দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির ফল প্রকাশে কেন্দ্রীয় তথ্য কমিশনের নির্দেশনা বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাবোর্ড মানতে অস্বীকার করায় আদালতে মামলাও হয়েছে। দিল্লি হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব পালনের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা বাধ্যতামূলক নয়।

সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে বলেন, তথ্য কমিশনের নির্দেশনা মানলে হাজার হাজার ছাত্রের গোপনীয়তা লঙ্ঘিত হবে। আদালতও এই যুক্তি মেনে নিয়েছে। হাইকোর্টের রায়ে মোদি ও ইরানির শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রকাশের দাবিকে জনস্বার্থের বিষয় হিসেবে গ্রহণ করা হয়নি।

এই রায়ের ফলে মোদির ডিগ্রি নিয়ে যে দীর্ঘদিন ধরে উঠা প্রশ্ন এবং জনমনের সংশয়, তা সমাধান হয়নি বরং আরও গভীরতর হয়েছে। নির্বাচনী সময় ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিষয়টি নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত