আজকের স্বর্ণের দাম: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৫২ বার
স্বর্ণের দাম আজ বাংলাদেশ

প্রকাশ: ১৮সেপ্টেম্বর’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলাদেশের স্বর্ণের বাজার আবারও আলোচনায় এসেছে। টানা আট দফা বাড়ানোর পর অবশেষে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। বুধবার রাতে বাজুস এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন দামের ঘোষণা দেয়। সেই ঘোষণার ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে দেশের বাজারে স্বর্ণের ভরি প্রতি নতুন মূল্য কার্যকর হবে।

বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ এখন থেকে বিক্রি হবে ১ লাখ ৮৮ হাজার ১৫২ টাকায়। যা আগের দামের চেয়ে কিছুটা কম। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের ভরি প্রতি দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৬০২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি ১ লাখ ৫৩ হাজার ৯৪১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি স্বর্ণের দাম ধরা হয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার ৬৭৪ টাকা। এ দাম নির্ধারণের সঙ্গে অবশ্যই যোগ হবে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) এবং বাজুসের নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ। তবে গহনার মান, ডিজাইন ও কারিগরি জটিলতার ভিত্তিতে এই মজুরিতে তারতম্য হতে পারে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

এর আগে ১৬ সেপ্টেম্বর বাজুস সর্বশেষ দাম সমন্বয় করেছিল। তখন ২২ ক্যারেটের ভরি প্রতি স্বর্ণের দাম বাড়িয়ে ১ লাখ ৮৯ হাজার ৬২২ টাকা করা হয়, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দাম হিসেবে রেকর্ড তৈরি করে। ফলে দীর্ঘদিনের ধারাবাহিক বৃদ্ধি অবশেষে থেমে গিয়ে দামের সামান্য পতন ঘটেছে।

চলতি বছরে এ নিয়ে মোট ৫৪ বার দেশের স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হলো। এর মধ্যে ৩৭ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং মাত্র ১৭ বার কমানো হয়েছে। তুলনায় দেখা যায়, দাম বাড়ার প্রবণতাই বেশি ছিল। ২০২৪ সালে মোট ৬২ বার দাম সমন্বয় হয়েছিল, যেখানে ৩৫ বার দাম বেড়েছিল এবং ২৭ বার কমানো হয়েছিল। এ পরিসংখ্যান প্রমাণ করে, আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা এবং স্থানীয় চাহিদা-বাহুল্যের কারণে বাংলাদেশের স্বর্ণ বাজার এক অস্থির পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, টানা মূল্যবৃদ্ধির পর দাম কিছুটা কমানো বাজারকে স্বাভাবিক করার একটি প্রচেষ্টা। তবে বৈশ্বিক অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক স্বর্ণের দাম, ডলারের বিনিময় হার এবং আমদানি ব্যয়ের ওপর নির্ভর করেই ভবিষ্যতে দামের প্রবণতা নির্ধারণ হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে যখন স্বর্ণের দাম বাড়ে, তখন বাংলাদেশের বাজারেও সেই প্রভাব পড়ে। আবার ডলার সংকট বা রিজার্ভের চাপ থাকলে তা আরও বেশি প্রভাবিত করে।

অন্যদিকে দেশের বাজারে রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৪৭৬ টাকায়, যা ইতিহাসের সর্বোচ্চ দাম। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপা ৩ হাজার ৩১৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি ২ হাজার ৮৪৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ভরি প্রতি ২ হাজার ১৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রুপার দাম বাড়তি অবস্থানে স্থির থাকলেও স্বর্ণের দামের তারতম্য বাজারের স্বাভাবিক চিত্রকে প্রভাবিত করছে।

বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বর্ণ কেবল অলঙ্কার নয়, বরং বিনিয়োগের একটি নিরাপদ ক্ষেত্র হিসেবেও বিবেচিত হয়। তাই দাম বাড়া-কমার সঙ্গে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরাও গভীরভাবে যুক্ত। দাম যখন বেড়ে যায় তখন অনেকে ক্রয় থেকে বিরত থাকেন, আবার দাম কমলে চাহিদা বেড়ে যায়। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিয়ের মৌসুম, উৎসবকালীন কেনাকাটা এবং বিনিয়োগের চাহিদা মিলে স্বর্ণের বাজার চাঙ্গা ছিল। তবে টানা মূল্যবৃদ্ধির ফলে সাধারণ ক্রেতারা ধীরে ধীরে বাজার থেকে সরে যাচ্ছিলেন।

ঢাকার বিভিন্ন স্বর্ণের দোকান ঘুরে দেখা গেছে, দাম বাড়ার ফলে ক্রেতারা গহনা কেনায় অনীহা প্রকাশ করছিলেন। তবে দাম কিছুটা কমার কারণে ক্রেতাদের আগ্রহ কিছুটা ফিরতে পারে বলে ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা। দোকান মালিকদের অনেকে জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে ক্রেতারা শুধু পুরোনো স্বর্ণ বিক্রি করছিলেন, কিন্তু নতুন গহনা কেনার প্রবণতা কম ছিল। এখন দাম কমায় হয়তো আবারও বিক্রি বাড়বে।

অন্যদিকে ক্রেতাদের একাংশ বলছে, বাজারে যেভাবে টানা দাম বেড়েছে তাতে সামান্য কমানোতে তাদের স্বস্তি আসবে না। সাধারণ মানুষের ধারণা, যদি আন্তর্জাতিক বাজারে দাম স্থিতিশীল থাকে তবে দেশের বাজারেও তা প্রভাব ফেলবে। তবে বর্তমানে যেভাবে বৈশ্বিক অর্থনীতি অস্থিরতার মধ্যে আছে, তাতে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা ফিরবে কিনা সে বিষয়ে শঙ্কা রয়ে গেছে।

বাংলাদেশে স্বর্ণের দাম নির্ধারণে বাজুস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও তারা আন্তর্জাতিক বাজার, স্থানীয় চাহিদা, মুদ্রাস্ফীতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রতিবার সমন্বয় করে থাকে। এর ফলে মাসের মধ্যে একাধিকবার দাম পরিবর্তন হওয়াটা এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, এ ধরনের ঘন ঘন মূল্য পরিবর্তন বাজারে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। এতে দীর্ঘমেয়াদে ক্রেতাদের আস্থা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

তবে অনেকে আবার ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিও দেখাচ্ছেন। তারা বলছেন, বাজুস যদি বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্রুত সমন্বয় না করে তবে দালাল ও অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ নেবে। তাই মূল্য সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি স্বচ্ছ কাঠামো তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে দেশের বাজারে স্বর্ণের দামের ওঠানামা একটি বড় আলোচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। টানা আট দফা বৃদ্ধির পর সামান্য হ্রাস ক্রেতাদের মধ্যে আশা জাগালেও সামনে কী অপেক্ষা করছে তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজার, বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ এবং দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা নির্ধারণ করবে স্বর্ণের ভবিষ্যৎ দাম কোন দিকে যাবে। তবে সাধারণ ক্রেতাদের প্রত্যাশা, অন্তত স্থিতিশীল বাজারে ফিরে এসে যেন তারা স্বাচ্ছন্দ্যে বিয়ের গহনা বা বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে স্বর্ণ ক্রয় করতে পারেন।

স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দাম অপরিবর্তিত থাকা এ বাজারের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইতিহাসের সর্বোচ্চ দামে রুপা বিক্রি হলেও স্বর্ণের চেয়ে এ বাজারে চাপ তুলনামূলক কম। স্বর্ণের প্রতি মানুষের যে ঐতিহ্যবাহী আগ্রহ রয়েছে, তার তুলনায় রুপার চাহিদা সীমিত থাকায় দাম নিয়ে এত আলোচনা হয় না। তবুও এই দুই মূল্যবান ধাতুর দাম দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক চিত্রকে প্রভাবিত করে।

আজকের ঘোষণার পর দেশের বাজারে স্বর্ণের ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের দৃষ্টি আবারও বাজুসের দিকে নিবদ্ধ হয়েছে। স্বর্ণের দাম কমলেও রুপার দাম অটুট থেকে যাওয়ায় সামগ্রিক বাজারে বৈপরীত্য দেখা দিয়েছে। ফলে সবাই অপেক্ষা করছে সামনে বাজুস কী ধরনের সমন্বয় করে এবং আন্তর্জাতিক বাজার কেমন প্রতিক্রিয়া দেখায়। বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় এই স্বর্ণের বাজারের ওঠানামা বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে, যা আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত