সর্বশেষ :
এনসিপি সরকার গড়লে মন্ত্রী কারা? জানালেন পাটওয়ারী ভারতের স্বার্থ রক্ষায় লিপ্ত বিএনপি: জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি সৌদিতে মৃত্যুদণ্ডের শীর্ষে বিদেশিরা: উদ্বেগজনক তথ্য ঐতিহাসিক শান্তিতে দেশজুড়ে দুর্গোৎসব উদযাপন হেফাজতের নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক জোট সমমনা ইসলামী দল কক্সবাজারে ৪ পর্যটকের সাগরে প্রানহানি, এখনও নিখোঁজ ১ ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু অসুস্থ: উন্নত চিকিৎসায় বিএমইউতে স্থানান্তর রংপুরের গঙ্গাচড়ায় বিড়ির বাজার দখল কেন্দ্রিক কোন্দলে বিএনপি অফিসে ভাঙচুর ‘ইশরাক পোষ্য কোটায় রাজনীতিতে এসেছেন, অভিজ্ঞতার ঘাটতি রয়েছে’: নিলোফার চৌধুরী খুলনার দাকোপে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

এনসিপি পাচ্ছে না শাপলা প্রতীক

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৭১ বার
এনসিপি পাচ্ছে না শাপলা প্রতীক

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা, একটি বাংলাদেশ অনলাইন

আগামী সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতীক বরাদ্দের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সর্তক অবস্থান গ্রহণ করেছে। সম্প্রতি নির্বাচন ভবনে এ সংক্রান্ত বিস্তারিত বিবরণ প্রদান করেন ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। তিনি জানান, আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে নির্বাচন কমিশন অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপে বসবে। সংলাপের শুরু হবে শিক্ষাবিদদের সঙ্গে, পরে বিস্তারিত আলোচনায় যুক্ত হবেন মুক্তিযুদ্ধের ভুক্তভোগী, নারী নেত্রী, পর্যবেক্ষক, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল।

ইসি সচিব জানান, এনসিপি শাপলা প্রতীক পাবে না। কারণ সংসদ নির্বাচনের জন্য ইসি পাঠানো ১১৫টি অনুমোদিত প্রতীকের তালিকায় শাপলা প্রতীক নেই। তবে নৌকা প্রতীক রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এনসিপি নিবন্ধন পেলে বিকল্প প্রতীক চেয়ে প্রস্তাব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কমিশন। সচিবের মতে, সংসদ নির্বাচনের আচরণবিধি ইতোমধ্যেই আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং কমিশনে পাঠানো হয়েছে।

ট্রাম্প-এর্দোগান বৈঠক: ২৫ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউসে

শাপলা প্রতীক সম্পর্কিত এই সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন দেশের সংবিধান ও নির্বাচনি আইন অনুযায়ী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতীক বরাদ্দের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার চেষ্টা করছে। এ ধরনের পদক্ষেপ দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আরও নির্ভরযোগ্য ও জনমতসম্মত করে তোলে।

অর্থাৎ, যেসব রাজনৈতিক দল ইতিমধ্যেই শাপলা প্রতীককে কেন্দ্র করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করছিল, তাদের জন্য বিকল্প প্রতীক নির্বাচন একটি বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া। এই পরিবর্তনের ফলে দলগুলোকে নিজেদের প্রচারণার কৌশল এবং ভোটারদের কাছে প্রচারের মাধ্যম পরিবর্তন করতে হতে পারে। নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যেই সংলাপের মাধ্যমে অংশীজনদের এই প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা জানাবে।

ইসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংলাপ প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য হলো রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি অন্যান্য অংশীজনদেরও মতামত গ্রহণ করা। শিক্ষাবিদ, নারী নেত্রী, সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকরা সংলাপে অংশ নিয়ে নির্বাচনী আচরণবিধি, প্রতীক বরাদ্দ, ভোটার সেবা এবং ভোটগ্রহণের স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে বিভিন্ন পরামর্শ দেবেন। এতে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত গ্রহণে আরও সমন্বিত ও সম্যক তথ্যের ভিত্তিতে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।

শাপলা প্রতীক না পাওয়া এনসিপি এবং অন্যান্য দলগুলোর জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হলেও কমিশনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, বিকল্প প্রতীকের মাধ্যমে ভোটারদের বিভ্রান্তি এড়ানো সম্ভব। ভোটারদের সচেতন করার জন্য প্রচারণার কৌশল এবং নির্বাচনী শিক্ষার উপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে। কমিশন নিশ্চিত করেছে যে, প্রতীক পরিবর্তন হলেও ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি কমানোর জন্য প্রচারণার যথাযথ ব্যবস্থা করা হবে।

নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, “আমরা সমস্ত অংশীজনকে সময়মতো জানাচ্ছি এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছি। প্রতীকের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অসুবিধা এড়াতে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।” তিনি আরও জানান, সংলাপ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অংশীজনদের প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করা হবে এবং তাদের মতামত গ্রহণের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতীক বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে চাচ্ছে। শাপলা প্রতীকের বিষয়টি বিশেষভাবে নজরে রাখা হয়েছে, কারণ এটি দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় রাজনীতিতে পরিচিত প্রতীক হিসেবে পরিচিত। রাজনৈতিক দল এবং ভোটাররা এটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করে থাকেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শাপলা প্রতীকের পরিবর্তন জাতীয় পার্টি বা এনসিপির মতো দলের নির্বাচনী প্রচারণার উপর প্রভাব ফেলতে পারে। ভোটাররা প্রায়শই প্রতীককে দলটির পরিচিতি হিসেবে গ্রহণ করেন। তাই বিকল্প প্রতীক নির্বাচন এবং ভোটারদের সচেতন করার জন্য যথাযথ প্রচারণা অপরিহার্য।

এ প্রসঙ্গে রাজনৈতিক বিশ্লেষক মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, “প্রতীক বরাদ্দ একটি সংবিধানগত অধিকার। ইসি যখন শাপলা প্রতীকের পরিবর্তে বিকল্প প্রতীকের প্রস্তাব দিচ্ছে, তখন তা সুষ্ঠু ও সমন্বিতভাবে করতে হবে। ভোটারদের বিভ্রান্তি এড়ানো এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমন্বয় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

এদিকে, সংলাপে শিক্ষাবিদরা ভোটার সচেতনতা, নির্বাচনী আচরণবিধি এবং প্রতীক ব্যবহারের বিষয়গুলো নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে মতামত দেবেন। নারীনেত্রী ও পর্যবেক্ষকরা ভোটারদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং ভোটের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে পরামর্শ দেবেন। সাংবাদিকরা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও তথ্য প্রচারের ক্ষেত্রে কমিশনের ভূমিকা পর্যালোচনা করবেন।

নির্বাচন কমিশনের এমন উদ্যোগ দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া পদক্ষেপগুলোর অংশ। শাপলা প্রতীকের পরিবর্তন শুধু একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নয়, এটি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি এবং দায়িত্বশীলতার প্রতিফলন।

এবারের সংলাপ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইসি প্রত্যাশা করছে, রাজনৈতিক দল ও অংশীজনরা নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতি পূর্ণ সহযোগিতা দেখাবে। এটি ভবিষ্যতের নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও দৃঢ় ও বিশ্বস্ত করবে। নির্বাচনী আচরণবিধি, ভোটার সচেতনতা, প্রতীক বরাদ্দ এবং অন্যান্য নির্বাচনী পদক্ষেপগুলো সংলাপে আলোচিত হবে এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা চূড়ান্তভাবে প্রদান করা হবে।

নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপে প্রতীক পরিবর্তনের ফলে রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের নির্বাচনী কৌশল সমন্বয় করতে হবে। ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি কমাতে, ইসি বিকল্প প্রতীক এবং সচেতনতা কার্যক্রমের মাধ্যমে সমাধান করতে চাচ্ছে। এটি দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে এবং ভোটের ন্যায্যতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com