বিএনপি নেতা মিলন বিদেশযাত্রা ব্যাহত: অভিযোগ সরকারের নীরবতায়

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৩৫ বার
বিএনপি নেতা মিলন বিদেশযাত্রা ব্যাহত: অভিযোগ সরকারের নীরবতায়

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা, একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বিএনপি নেতা ও সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেছেন, ব্যাংককে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে যাত্রার সময় ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন কাউন্টারে তাকে বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞার কারণ জানতে চাইলেও কোনো সদুত্তর পাননি।

মিলন জানান, তিনি ব্যাংককে অবস্থানকালীন সময়ে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের বৈঠকে অংশগ্রহণের জন্য দলের নির্দেশনা পেয়েছিলেন। এজন্য তিনি তার চিকিৎসা অসম্পূর্ণ রেখেই গত ২৫ অক্টোবর ঢাকায় ফিরে আসেন। দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করার পর ৩০ অক্টোবর পুনরায় চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ব্যাংককে রওনা হন। কিন্তু সেই সময় বিমানবন্দরে তাকে বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি জানানো হয়।

নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে মিলন বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে স্বচ্ছ, গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী। তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন, কখনো কোনো চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র বা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না। তিনি বলেন, দেশের মানুষের কল্যাণ ও ভালোবাসার কারণে আমেরিকার নাগরিকত্ব এবং পাসপোর্ট ত্যাগ করে রাজনীতিতে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তিনি বিগত সরকারের সময়ের পরিস্থিতিও তুলে ধরেন। মিলন বলেন, সেই সময় বিরোধী মতাদর্শী ব্যক্তিবর্গের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হতো। বিদেশ ভ্রমণ করতে না দেওয়া ছিল অত্যাচারের একটি হাতিয়ার। তিনি এই প্রেক্ষাপটে সরকারের কাছে জানতে চেয়েছেন, কেন তাকে বিদেশে যেতে দেওয়া হলো না।

মিলন বর্তমান সরকারের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “এই সরকার মহান ২৪ গণঅভ্যুত্থানের সরকার। আমার দল বিএনপি শুরু থেকেই প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তার নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সমর্থন দিয়ে এসেছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সরকারের কোনো সংস্থা বা বিভাগ ভুল তথ্য বা ষড়যন্ত্রে বিভ্রান্ত হবে না। আমাদের সহ সকল নাগরিকের সাংবিধানিক, নাগরিক ও মানবিক অধিকার রক্ষার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে সরকার।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মিলনের অভিযোগ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। একজন সাবেক মন্ত্রী এমন অভিযোগ উত্থাপন করলে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া এবং গণমাধ্যমের নজর সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। মিলন এই পরিস্থিতি সংবিধানগত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধান হওয়ার প্রতি বিশ্বাস প্রকাশ করেছেন।

মিলনের অভিযোগের সঙ্গে সময়মতো দেশের পর্যটন খাতও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। বিশেষ করে সেন্টমার্টিন দ্বীপ পুনরায় পর্যটকদের জন্য খুলতে যাচ্ছে। সরকার ইতিমধ্যেই দ্বীপে পর্যটন কার্যক্রম পরিচালনার সময় নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যবিধি, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জনগণের অধিকার রক্ষার জন্য ১২টি নির্দেশনা জারি করেছে। হোটেল, আবাসন ব্যবস্থা, পরিবহন এবং পর্যটকদের আচরণবিধি নিশ্চিত করা হয়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী, হোটেল মালিক এবং পরিবহন সংস্থা এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচকভাবে দেখছে। পর্যটকরা দ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করা হবে এবং নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। সরকারের পর্যটন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পর্যটন খাত পুনরায় চালু হলেও পর্যবেক্ষণ অব্যাহত থাকবে এবং দ্বীপের পরিবেশ সংরক্ষণে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মিলনের অভিযোগ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সম্প্রদায়ের নজরেও এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নাগরিকদের মৌলিক অধিকার এবং চিকিৎসা গ্রহণের অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অঙ্গীকার। সরকারের উচিত স্বচ্ছতা বজায় রেখে নীতি ও প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, মিলনের অভিযোগ প্রশাসন, রাজনীতি এবং নাগরিক অধিকারকে সমন্বিতভাবে মোকাবিলা করার প্রয়োজনীয়তার ওপর আলোকপাত করছে। বিদেশযাত্রার নিষেধাজ্ঞা এবং নাগরিক অধিকার নিয়ে এই বিতর্ক দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে সেন্টমার্টিন দ্বীপ খোলার ঘটনা অর্থনৈতিক এবং পর্যটন খাতের জন্য ইতিবাচক।

অতীতের অভিজ্ঞতা দেখায়, বিএনপি নেতাদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া বা নাগরিকদের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্কের সৃষ্টি করতে পারে। মিলন এই অভিযোগের প্রেক্ষাপটে সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর স্বচ্ছ ও ন্যায়নিষ্ঠ পদক্ষেপ আশা করছেন। সরকারের উচিত নাগরিকদের আস্থা বজায় রেখে আইন এবং সংবিধান অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

সার্বিকভাবে বলা যায়, বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গন এবং পর্যটন খাত দুই-ই গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গে মিলনের অভিযোগ ও সেন্টমার্টিন দ্বীপ খোলার সিদ্ধান্ত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। সরকারের স্বচ্ছ ও ন্যায়নিষ্ঠ পদক্ষেপ এবং পর্যটন খাতের সুষ্ঠু পুনরায় কার্যক্রম নিশ্চিত করা দেশের নাগরিক ও পর্যটকদের জন্য সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত