আমরা সংস্কার চাই না এমন ‘ব্যাক্কল’ ও ‘আহাম্মক’ নই-নুরুল হক নুর

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৪২ বার

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা| একটি বাংলাদেশ অনলাইন

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় একটি তীব্র মন্তব্য করেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের বিরুদ্ধে চলমান বুলিং এবং সাইবার হেনস্থার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে প্রশ্ন করেছেন, “যারা বলে বিএনপি যা বলে আমরা তা চাই, তাদের চেয়ে ব্যাক্কল ও আহাম্মক আর কোথাও আছে?”

নুরুল হক নুর বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে লাঞ্চিত, নির্যাতিত এবং নিগৃহীত হয়েছি। এখন যদি আমাদেরকে সোশ্যাল মিডিয়াতে বুলিং করে বা সাইবার হেনস্থার মাধ্যমে বলে আমরা সংস্কারের পক্ষের লোক না, আমরা সংস্কার চাই না, আমরা বিএনপি যেটা চায় এবং বলে, সেটা চাই—তাহলে এই ধরনের বক্তব্য দেওয়া ব্যক্তিরা সত্যি ‘ব্যাক্কল’ ও ‘আহাম্মক’।”

তিনি আরো বলেন, “যারা আমাদের নিয়ে এসব মন্তব্য করছে, তারা যে কেবল একটি শ্রেণীর প্রতিনিধিত্ব করছে, তা স্পষ্ট। এই শ্রেণীটা একত্রে একটি কালেকটিভ ক্যাম্পেইন চালাচ্ছে, যাদের উদ্দেশ্য আমাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা।”

নুরুল হক নুর এরপর নির্বাচনের এবং গণভোটের বিতর্ক নিয়েও তার মতামত ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, “আমরা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। জানুয়ারিতেই নির্বাচন হতে পারে। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে, তবে এটা রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি আশা করছি, নির্বাচন কমিশনকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবেন। এই ক্ষেত্রে আমাদের প্রত্যাশা হলো, আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত হবে এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে।”

এছাড়া, তিনি একটি নির্দিষ্ট মহলের সমালোচনা করেন যারা নির্বাচনের আগে গণভোটের কথা বলে জনগণের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করার চেষ্টা করছে। “এটি কেবল ব্যক্তিগত স্বার্থের খেলা, যা আমাদের জনগণের জন্য ক্ষতিকর,” তিনি মন্তব্য করেন। নুরুল হক নুর আরও বলেন, কিছু রাজনৈতিক শক্তি একে অপরকে বিপদে ফেলতে গণভোটের মাধ্যমে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে, যার ফলে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে।

বিএনপির কিছু নেতাকর্মীদের আচরণেরও তিনি সমালোচনা করেছেন। “যদি আমাদের মতো মিত্র দলের সভায় বাধা দেওয়া হয় এবং নেতাদের অবরুদ্ধ করা হয়, তাহলে তা শুধু বিএনপির জন্য নয়, পুরো দেশের জন্যই একটি নেতিবাচক বার্তা হয়ে উঠবে। রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের সহনশীলতা বজায় রাখতে হবে। বিএনপি, জামায়াতসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলদের এ বিষয়ে যথাযথ ভূমিকা পালন করা উচিত,” বলছিলেন নুর।

এসময় তিনি আরো জানান, গণতন্ত্রের সঠিক চর্চার জন্য সকল রাজনৈতিক দলকে তাদের অবস্থা এবং ক্ষমতার প্রতি সহনশীল মনোভাব পোষণ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “শুধু বিএনপিই নয়, সব রাজনৈতিক দল যদি একে অপরের সভা ও রাজনৈতিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করে, তবে তা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশের জন্য একেবারে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি করবে।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেএসডি সিনিয়র সহ-সভাপতি তানিয়া রব, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, সাইফুল হক প্রমুখ। তারা সবাই বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন এবং গণভোট নিয়ে তাদের মতামত ব্যক্ত করেন এবং একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান।

এদিকে, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বারবার আন্দোলন এবং নির্বাচন কমিশনের দিকে অঙ্গীকারিত হস্তক্ষেপের আহ্বান জানানো হচ্ছে, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে আরও উত্তেজনা সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে বিএনপি এবং অন্যান্য দলগুলোর দাবি, নির্বাচনকালীন সহনশীলতা এবং সুষ্ঠু ভোটাধিকার নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর জোর দিচ্ছে।

এ ব্যাপারে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন একটি গুরুতর রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে, যেখানে ক্ষমতাসীন এবং বিরোধী দলের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক সমঝোতা ঘটানো জরুরি হয়ে পড়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত