প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা, একটি বাংলাদেশ অনলাইন
সংযুক্ত আরব আমিরাতে লটারিতে স্বর্ণের বার জিতে বাংলাদেশি প্রবাসী মোহাম্মদ হায়দার আলী এক চমকপ্রদ সুখবর দিয়েছেন। ৩১ বছর বয়সি হায়দার আলী ২৫০ গ্রাম ওজনের ২৪ ক্যারেট স্বর্ণের বার জিতেছেন, যার বাজার মূল্য প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার দিরহাম বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪১ লাখ টাকার বেশি।
হায়দার আলী গত পাঁচ বছর ধরে আমিরাতের আল আইন শহরে বসবাস করছেন এবং সেখানে একটি ইলেকট্রনিকস সামগ্রীর দোকানে বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করেন। তিনি জানান, “দীর্ঘ দুই বছর ধরে চার থেকে পাঁচ বন্ধু মিলে নিয়মিত লটারির টিকিট কিনতাম। অবশেষে আমাদের ধৈর্য্য এবং নিয়মিত প্রচেষ্টা সাফল্য এনে দিল।”
লটারির ড্র চলাকালীন লটারির উপস্থাপক রিচার্ড ফোনে ফলাফল জানালে প্রথমে হায়দার বিশ্বাস করতে পারেননি। তিনি জিজ্ঞেস করেন, “আমি কত গ্রাম সোনা জিতেছি?” পরে ফোনটি তিনি তার বন্ধুর হাতে তুলে দেন। সত্যটি বুঝতে পেরে হায়দার এবং তার বন্ধুরা আনন্দে লাফিয়ে ওঠেন। হায়দার বলেন, “এটি সত্যিই একটা বিরাট চমক। আমাকে আবারো লটারির টিকিট কাটতে অনুপ্রাণিত করেছে।” তবে এখনো তিনি ঠিক করেননি এই স্বর্ণের বারটি দিয়ে কী করবেন।
লটারিতে জয়ের ঘটনা শুধু হায়দার আলীর জন্য নয়, প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহের সঞ্চার করেছে। সম্প্রতি গত সপ্তাহে মানসুর আহমেদ নামে আরেক বাংলাদেশি প্রবাসীও ২৪ ক্যারেট ওজনের ২৫০ গ্রাম স্বর্ণের বার জিতেছিলেন। এই ধরণের সাফল্য প্রমাণ করে যে নিয়মিত চেষ্টা এবং বন্ধুবান্ধবের সহযোগিতা কখনোই বৃথা যায় না।
আমিরাতে প্রবাসী জীবন চ্যালেঞ্জপূর্ণ। দীর্ঘ সময় কর্মজীবনে ব্যস্ত থাকা, পরিবার থেকে দূরে থাকা এবং নতুন দেশে মানিয়ে নেওয়া কঠিন হলেও, হায়দার আলীর মতো উদাহরণ দেখায় যে ভাগ্য কখনোই এড়িয়ে যায় না। তিনি জানান, “আমিরাতে জীবন অনেক সময় চ্যালেঞ্জিং। তবে লটারিতে জয় আমাকে আবারো আত্মবিশ্বাসী করেছে এবং নতুন উদ্দীপনা দিয়েছে।”
গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হায়দার আলীর মতো প্রবাসীদের মধ্যে লটারির প্রতি আগ্রহ দিনদিন বেড়ে চলেছে। এটি শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং অনেকের কাছে ভাগ্য পরীক্ষা করার এক উত্তেজনাপূর্ণ সুযোগ হিসেবেও ধরা হয়।
হায়দারের এই জয়ের খবর আন্তর্জাতিক এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে। বাংলাদেশের প্রবাসী কমিউনিটিতেও এটি আনন্দের ঢেউ বয়ে এনেছে। বিশেষ করে যেসব প্রবাসী কঠোর পরিশ্রম করছেন এবং দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণের জন্য ধৈর্য ধরে চেষ্টা করছেন, তাদের জন্য এটি এক অনুপ্রেরণার উৎস।
এই ধরনের ঘটনা আরও একবার প্রমাণ করছে, প্রবাসে থাকা বাংলাদেশিরা কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি ভাগ্যকে সুযোগ দেওয়ার জন্য সচেষ্ট থাকলে জীবনে বড় পরিবর্তন সম্ভব। হায়দার আলী এবং তার বন্ধুদের এই জয় কাহিনী সেই সুযোগ ও ধৈর্যের পরিচয় বহন করছে।