বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিরোধ দিবসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা—ইতিহাসে অম্লান এক ছাত্র অভ্যুত্থান

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৮ জুলাই, ২০২৫
  • ৬৩ বার

প্রকাশ: ১৮ জুলাই । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক ।একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলাদেশের ইতিহাসে ছাত্র আন্দোলনের গৌরবময় ঐতিহ্যে আরেকটি তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় রচনা করেছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সংঘটিত ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান’। এই আন্দোলনের স্মরণে পালিত হচ্ছে ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিরোধ দিবস’। দিবসটিকে ঘিরে শহীদ ও আহত শিক্ষার্থীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে শুক্রবার প্রকাশিত এক বার্তায় শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জানানো হয়, এই বীরত্বপূর্ণ অধ্যায়ের ইতিহাস স্মরণে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে নির্মাণ করা হয়েছে একটি প্রামাণ্যচিত্র, যার শিরোনাম—“হিরোস উইদাউট কেপস: প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিস ইন জুলাই”। এটি শুধু একটি চলচ্চিত্র নয়, বরং এক প্রতিরোধ-স্মারক, যা প্রজন্মের পর প্রজন্মকে আন্দোলন আর আত্মত্যাগের তাৎপর্য স্মরণ করিয়ে দেবে।

জুলাই মাসের সেই রক্তাক্ত ও প্রতিরোধে ভরা দিনগুলোতে দেশে চলছিল এক সর্বগ্রাসী ফ্যাসিবাদী শাসন। পরিস্থিতি এমন ছিল যে, আন্দোলনের লাগাম টেনে ধরতে তৎকালীন সরকার বলপূর্বক দেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বন্ধ করে দিয়েছিল। সেই সংকটময় সময়ে এগিয়ে আসে দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা—তারা ঘরবন্দি হয়ে থাকার পরিবর্তে রাস্তায় নামে, গড়ে তোলে গণ-প্রতিরোধের এক অনন্য ব্যূহ।

নর্থ সাউথ, ব্র্যাক, ইস্ট ওয়েস্ট, ইউআইইউ, ড্যাফোডিল, ইউল্যাব, ইউডা, ইন্ডিপেন্ডেন্ট, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল, প্রাইম এশিয়া, স্ট্যামফোর্ড, ইউআইটিএসসহ আরও অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঢাকার বিভিন্ন প্রান্তে যেমন নতুন বাজার, রামপুরা, উত্তরা, বাড্ডা, ধানমণ্ডি, মোহাম্মদপুরসহ উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে গড়ে তোলে ‘প্রতিরোধের দুর্গ’, তেমনি দেশের অন্যান্য শহরেও আন্দোলনের আগুন জ্বলে ওঠে।

চট্টগ্রামে নিউমার্কেট এলাকায় বিজিসি ট্রাস্ট ও প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি চট্টগ্রামের শিক্ষার্থীরা ঝাঁপিয়ে পড়েন আন্দোলনে। রাজশাহীতে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় এবং খুলনায় নর্দান ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির শিক্ষার্থীরাও সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন। রাস্তায় অবস্থান, ব্যানার হাতে স্লোগান, প্রতিবাদ মিছিল, ব্যারিকেড—সব মিলিয়ে আন্দোলনের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে।

এই শিক্ষার্থীদের থামাতে তৎকালীন স্বৈরাচারী সরকার প্রয়োগ করে কঠোর দমননীতি। বিভিন্ন এলাকায় চালানো হয় ব্লক রেইড, নির্বিচারে গ্রেপ্তার, অমানবিক নির্যাতন। রাস্তায় রাস্তায় ছোড়া হয় রাবার বুলেট, টিয়ার গ্যাস, এমনকি গুলি। তারপরও শিক্ষার্থীদের মনোবল ভাঙানো যায়নি। নিজেদের অস্তিত্বের প্রশ্নে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকারের প্রশ্নে, এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তারা এগিয়ে গিয়েছিল নির্ভীক ও অবিচল ভাবে।

তাদের অনেকেই হয়েছেন আহত, কেউ কেউ শহীদ হয়েছেন। সেই রক্ত আর ত্যাগের মূল্যেই আজ দেশের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক চেতনায় বসেছে পরিবর্তনের বীজ। এই শিক্ষার্থীরাই আজকের তরুণ নেতৃত্বের প্রতীক, যাদের হাত ধরে এগিয়ে চলেছে অন্তর্বর্তী বাংলাদেশ।

প্রতিরোধ দিবসে একবার নয়, বারবার উচ্চারিত হচ্ছে এই প্রশ্ন—যখন দেশ সংকটে পড়ে, তখন কে এগিয়ে আসে? ইতিহাস জানায়, শিক্ষার্থীরাই বারবার নেতৃত্ব দেয় পরিবর্তনের। আজকের এই স্মরণ ও শ্রদ্ধা সেই সাহসী প্রজন্মের প্রতি, যারা পকেটে রুমাল বেঁধে, বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিল টিয়ার গ্যাস আর গুলির সামনে, গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের আশায়।

‘হিরোস উইদাউট কেপস’ শিরোনামে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্রটি তাদের সেই সংগ্রামের দলিল হয়ে থাকবে। এটি শুধু অতীত স্মরণ নয় ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতিও।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com