সর্বশেষ :
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে গবেষণা-উদ্ভাবনের ওপর নোবিপ্রবিতে সেমিনার ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টা, কাঠগড়ায় ইউপি সদস্য আইনগত বাধা কাটল: এমপি হিসেবে কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন সরোয়ার হবিগঞ্জে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি, ১৪৪ ধারা জারি ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫০৩ জন মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনাল বিকলে দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকট ভারতের মুদ্রায় বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য করতে চায় রাশিয়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সুযোগ চায় জামায়াত ড. ইউনূসের পরিকল্পনায় ছিল বিএনপিকে মাইনাস করা: রাশেদ খাঁন সারজিস-পাটওয়ারীর ওপর হামলা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি

বিএসএফ-এর বাংলাদেশ সীমান্তে সরীসৃপ মোতায়েন আলোচনা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৩১ বার
বাংলাদেশ সীমান্তে সরীসৃপ মোতায়েন আলোচনায়

প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স বা বিএসএফ-এর পক্ষ থেকে অস্বাভাবিক এক প্রস্তাব ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, সীমান্তের কিছু অরক্ষিত নদীপথ ও দুর্গম এলাকায় সাপ ও কুমিরের মতো সরীসৃপ ব্যবহার করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বিএসএফ-এর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মনোজ বার্নওয়াল আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, গত ফেব্রুয়ারিতে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে এই ধারণাটি প্রথম আলোচনায় আসে। তার ভাষায়, বন্যাপ্রবণ এবং স্থায়ী কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ সম্ভব নয় এমন সীমান্ত অঞ্চলে বিকল্প প্রাকৃতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে সরীসৃপ ব্যবহারের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিশেষ করে নদী ও জলাভূমি ঘেরা সীমান্ত এলাকাগুলোতে যেখানে প্রচলিত নিরাপত্তা অবকাঠামো কার্যকরভাবে স্থাপন করা কঠিন, সেখানে কুমির ও সাপকে প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধক হিসেবে ব্যবহারের চিন্তা করা হচ্ছে। তবে তিনি একই সঙ্গে স্বীকার করেন যে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নযোগ্যতা নিয়ে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে এবং বিষয়টি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনায় সীমাবদ্ধ।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর বরাতে জানা যায়, বিএসএফ-এর একটি অভ্যন্তরীণ নির্দেশনায় ফিল্ড ইউনিটগুলোকে বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন নদীপথে এই ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সম্ভাব্যতা যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৬ মার্চ পাঠানো এক বার্তায় বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে এবং সীমান্তে সরীসৃপ ব্যবহারের ধারণাটি পরীক্ষা করে দেখার কথা বলা হয়েছে।

তবে এই ধরনের পদক্ষেপ বাস্তবে কতটা কার্যকর বা নিরাপদ হবে তা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছে। বিএসএফ কর্মকর্তারা নিজেরাও এ বিষয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব প্রকাশ করেছেন। মনোজ বার্নওয়াল বলেন, কীভাবে এসব প্রাণী সংগ্রহ করা হবে, কীভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে এবং সীমান্তবর্তী ঘনবসতিপূর্ণ গ্রামগুলোতে এর কী ধরনের প্রভাব পড়বে, এসব বিষয় এখনো পরিষ্কার নয়।

বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘ প্রায় চার হাজার কিলোমিটারেরও বেশি সীমান্ত রয়েছে, যার বড় অংশ নদী ও বন্যাপ্রবণ এলাকা দিয়ে গঠিত। এসব অঞ্চলে স্থায়ী কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করা অত্যন্ত কঠিন হওয়ায় বহু জায়গা এখনো উন্মুক্ত রয়েছে। এই ভৌগোলিক বাস্তবতাকে কেন্দ্র করেই বিকল্প নিরাপত্তা পদ্ধতি নিয়ে নানা সময়ে আলোচনা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাকৃতিক পরিবেশকে নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ব্যবহার করার ধারণা নতুন নয়, তবে সরীসৃপ ব্যবহার করার মতো প্রস্তাব অত্যন্ত ব্যতিক্রমী এবং ঝুঁকিপূর্ণ। এতে সীমান্তবর্তী দুই দেশের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও জীবনযাত্রার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে ভারতের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সীমান্তের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘেরা হলেও এখনো শত শত কিলোমিটার এলাকা অনিরাপদ অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে বদ্বীপ অঞ্চলের নদীপথে স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের বিকল্প উপায় খোঁজার অংশ হিসেবে এই ধরনের ধারণা আলোচনায় এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে তা আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচনার মুখে পড়তে পারে এবং সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত মানুষের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে সম্পর্ক কিছুটা উন্নতির দিকে গেলেও সীমান্ত ইস্যু সবসময়ই সংবেদনশীল একটি বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে। ফলে এমন অস্বাভাবিক প্রস্তাব দুই দেশের জনগণের মধ্যেও উদ্বেগ ও বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।

এখন পর্যন্ত ভারত সরকার বা বিএসএফ আনুষ্ঠানিকভাবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কোনো সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ের যাচাই-বাছাই পর্যায়ে রয়েছে এবং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নানা ধরনের নিরাপত্তা, মানবিক ও পরিবেশগত বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হবে।

সব মিলিয়ে সীমান্ত নিরাপত্তায় সরীসৃপ ব্যবহারের এই ধারণা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনার জন্ম দিলেও এর বাস্তবতা নিয়ে এখনো রয়েছে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা। বিশেষজ্ঞদের মতে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে বিষয়টি নিয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণা ও দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত