সর্বশেষ :

ছেঁড়া নোট নিয়ে কঠোর নির্দেশ বাংলাদেশ ব্যাংকের

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৬৯ বার
বাংলাদেশ ব্যাংকে

প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশে প্রচলিত ছেঁড়া-ফাটা, ত্রুটিপূর্ণ ও ময়লাযুক্ত নোট নিয়ে লেনদেনে ভোগান্তি কমাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। জনসাধারণের নগদ লেনদেন আরও স্বচ্ছ ও সহজ করতে দেশের সব তফসিলি ব্যাংককে এসব নোট গ্রহণ এবং বিনিময় সেবা বাধ্যতামূলকভাবে চালু রাখার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সম্প্রতি জারি করা এক পরিপত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ব্যাংকিং সেবার মানোন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনা সহজ করার লক্ষ্যে ছেঁড়া-ফাটা ও নষ্ট নোট গ্রহণে কোনো ধরনের অনীহা গ্রহণযোগ্য হবে না। প্রতিটি ব্যাংক শাখাকে নিয়ম অনুযায়ী এসব নোট গ্রহণ করে তাৎক্ষণিকভাবে নতুন বা পুনঃপ্রচলনযোগ্য নোট সরবরাহ করতে হবে।

পরিপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর জারি করা একটি পূর্ববর্তী নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও বাজারে এখনো ছেঁড়া ও ময়লাযুক্ত নোটের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ প্রতিদিনের লেনদেনে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন, বিশেষ করে ছোট মূল্যমানের নোট ব্যবহারে ভোগান্তি আরও বেশি হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, পরিচ্ছন্ন নোট নীতিমালা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বিশেষভাবে ৫, ১০, ২০ ও ৫০ টাকার ক্ষতিগ্রস্ত নোট গ্রহণে ব্যাংকগুলোর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। এসব নোট ব্যাংকের নির্ধারিত বিশেষ কাউন্টারের মাধ্যমে সংগ্রহ করে সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তনযোগ্য নোট সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জনসাধারণের অর্থ লেনদেন নির্বিঘ্ন করতে ব্যাংকগুলোকে তাদের সেবার মান আরও দায়িত্বশীলভাবে নিশ্চিত করতে হবে। কোনো শাখা যদি এ নির্দেশনা পালনে অনীহা দেখায় বা সেবা দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, নগদ অর্থ নির্ভর অর্থনীতিতে নোটের মান বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ছেঁড়া-ফাটা বা নোংরা নোট বাজারে প্রচলিত থাকলে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের আস্থা কমে যায়, অন্যদিকে লেনদেনে অনানুষ্ঠানিকতা ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়। তাই বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগ সময়োপযোগী বলে তারা মনে করছেন।

ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনেক সময় গ্রাহকেরা ছেঁড়া বা পুরনো নোট জমা দিতে গেলে শাখাগুলোতে অনীহা দেখা যায়, যা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগের বিষয় ছিল। নতুন নির্দেশনার ফলে এই সমস্যা কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সাধারণ মানুষও বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, বাজারে প্রায়ই দোকানদার বা বিভিন্ন লেনদেনে ছেঁড়া নোট গ্রহণে অনাগ্রহ দেখা যায়, ফলে ভোগান্তি বাড়ে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর নির্দেশনার ফলে এই সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছেন তারা।

বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানিয়েছে, নগদ অর্থ ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা বজায় রাখতে নোটের মান উন্নয়ন ও সঠিক ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য ব্যাংকগুলোর তদারকি আরও জোরদার করা হবে এবং নিয়মিত মনিটরিং চালানো হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ডিজিটাল লেনদেন বাড়লেও এখনো দেশের বড় একটি অংশ নগদ অর্থের ওপর নির্ভরশীল। তাই নোট ব্যবস্থাপনা উন্নত না হলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন অর্থনৈতিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে।

সব মিলিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নতুন নির্দেশনা নগদ অর্থ ব্যবস্থাকে আরও সুশৃঙ্খল ও জনবান্ধব করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগামী দিনে এই নির্দেশনা কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, তা-ই এখন দেখার বিষয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত