নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে আসছে তিন ধাপ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৪ মে, ২০২৬
  • ১৬ বার
নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন হতে পারে তিন ধাপে

প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত নবম পে-স্কেল নিয়ে আবারও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অর্থনৈতিক সক্ষমতা, বাজেটের চাপ এবং বাস্তবায়ন কাঠামো বিবেচনায় রেখে এবার পে-স্কেলটি একাধিক ধাপে কার্যকর করার পরিকল্পনা সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, চলতি আলোচনায় তিন ধাপে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের একটি সম্ভাব্য রূপরেখা উঠে এসেছে, যা ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে কার্যকর হতে পারে।

অর্থ মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনার জন্য গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটি একটি প্রাথমিক মতামত দিয়েছে। সেই মতামতে বলা হয়েছে, একসঙ্গে পুরো পে-স্কেল বাস্তবায়ন করলে সরকারের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হতে পারে। তাই ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করাই বেশি বাস্তবসম্মত হবে।

সূত্রগুলো জানায়, প্রস্তাব অনুযায়ী প্রথম ধাপে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু থেকেই নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়ন হতে পারে। এই ধাপে সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতনের প্রায় ৫০ শতাংশ বাড়তি সুবিধা দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। দ্বিতীয় ধাপে পরবর্তী অর্থবছরে বাকি অংশ সমন্বয় করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর তৃতীয় ধাপে ২০২৮-২৯ অর্থবছরে বিভিন্ন ভাতা ও অতিরিক্ত সুবিধা কাঠামোতে যুক্ত হতে পারে।

এ বিষয়ে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশে সরকারি ব্যয়ের একটি বড় অংশই বেতন-ভাতা ও পেনশন খাতে ব্যয় হয়। বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখের বেশি পেনশনভোগীর জন্য বছরে সরকারের ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা। নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলে এই ব্যয় আরও বড় আকারে বৃদ্ধি পেতে পারে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, নবম পে-স্কেল সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করতে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। এই বিপুল ব্যয়ের চাপ সামলাতে তাই ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের কৌশলকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সরকারি নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে পে-স্কেলের জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা মনে করছেন, বাজেট ব্যবস্থাপনার মধ্যে থেকেই এই অতিরিক্ত ব্যয় ধীরে ধীরে সামলানো সম্ভব হবে।

নবম পে-স্কেল নিয়ে কাজ করা বেতন কমিশন গত ২১ জানুয়ারি বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত ২৩ সদস্যের এই কমিশন সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাসের পাশাপাশি বিভিন্ন ভাতা ও সুবিধা বৃদ্ধির সুপারিশ করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমান কাঠামোতে বেতন ও ভাতার ভারসাম্য অনেক ক্ষেত্রে অপ্রতুল। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে নতুন পে-স্কেল প্রয়োজন। কমিশন আরও উল্লেখ করে, শুধু বেতন বৃদ্ধি নয়, কর্মপরিবেশ ও প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধির দিকেও নজর দিতে হবে।

এছাড়া জুডিশিয়াল সার্ভিস ও সশস্ত্র বাহিনীর জন্য পৃথক বেতন কাঠামো তৈরির প্রস্তাবও প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে সরকারি বেতন কাঠামোতে একটি বহুমাত্রিক সংস্কারের দিকেই অগ্রসর হচ্ছে সরকার।

এই প্রক্রিয়া সমন্বয়ের জন্য সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিই বিভিন্ন কমিশনের সুপারিশ যাচাই-বাছাই করে একটি চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি করছে। প্রাথমিক পর্যায়ে তারা তিন ধাপে বাস্তবায়নের সুপারিশ দিয়েছে বলে জানা গেছে।

সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলো অবশ্য দ্রুত পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছে। তাদের মতে, ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হলেও প্রথম ধাপেই যেন উল্লেখযোগ্য বেতন বৃদ্ধি নিশ্চিত করা হয়। অন্যদিকে অর্থনীতিবিদদের একাংশ বলছেন, অতিরিক্ত আর্থিক চাপ এড়াতে ধীরগতির বাস্তবায়নই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

বিশ্লেষকদের মতে, পে-স্কেল শুধু বেতন বৃদ্ধির বিষয় নয়, এটি পুরো অর্থনীতির ওপর প্রভাব ফেলে। ভোগব্যয়, মুদ্রাস্ফীতি এবং বাজেট ভারসাম্যের ওপর এর সরাসরি প্রভাব রয়েছে। তাই সিদ্ধান্ত গ্রহণে সরকারকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হচ্ছে।

সব মিলিয়ে নবম পে-স্কেল নিয়ে এখন একটি পর্যায়ক্রমিক বাস্তবায়ন কাঠামোর দিকে অগ্রসর হচ্ছে সরকার। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো ঘোষণা হয়নি, তবে নীতিগতভাবে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি বলে মনে করা হচ্ছে।

সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে যেমন এই খবরকে ঘিরে আশাবাদ তৈরি হয়েছে, তেমনি অর্থনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে রয়েছে সতর্কতাও। এখন সবার নজর ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার দিকে, যেখানে নবম পে-স্কেলের প্রথম ধাপের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত