হরমুজে মার্কিন জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি ইরানের

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৪ মে, ২০২৬
  • ২৫ বার
হরমুজে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা দাবি

প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নতুন করে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করছে ইরানের রাষ্ট্রীয় ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম ফারস নিউজ এজেন্সি। সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)–এর সতর্কতা উপেক্ষা করার পর জাস্ক দ্বীপের কাছে একটি মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ লক্ষ্য করে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়, যা সরাসরি আঘাত হানে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এই ঘটনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালিতে চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক উদ্যোগ ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ ঘোষণা করা হয়। এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রণালিতে আটকে পড়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নির্দেশনা দিয়ে নিরাপদ পথে বের করে আনার পরিকল্পনা জানায় ওয়াশিংটন। তবে ইরান এই উদ্যোগকে আগেই উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণ হিসেবে সতর্ক করেছিল।

ফারস নিউজের দাবি অনুযায়ী, আইআরজিসির সতর্কবার্তার পরও নির্ধারিত নির্দেশনা মানা হয়নি, যার পরিপ্রেক্ষিতে হামলার ঘটনা ঘটে। যদিও আন্তর্জাতিক স্বাধীন সূত্রগুলো এখন পর্যন্ত এই হামলার সত্যতা যাচাই করতে পারেনি এবং কোনো নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষক সংস্থাও ঘটনাটির স্বাধীন নিশ্চিতকরণ দেয়নি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) আগেই এক বিবৃতিতে জানায়, হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার সময় বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে তথ্য ও দিকনির্দেশনা দেওয়ার একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এটি কোনো আনুষ্ঠানিক এসকর্ট মিশন নয় এবং মার্কিন নৌবাহিনী সরাসরি কোনো বাণিজ্যিক জাহাজকে সশস্ত্র নিরাপত্তা দেবে না বলে স্পষ্ট করা হয়।

সেন্টকম আরও জানায়, আঞ্চলিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার, শতাধিক সামরিক বিমান এবং প্রায় ১৫ হাজার সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। এই উপস্থিতি মূলত নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা নতুন মানচিত্র প্রকাশের কথাও জানানো হয়েছে ফারস নিউজের প্রতিবেদনে। সেখানে বলা হয়, আইআরজিসি হরমুজ প্রণালির একটি অংশকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। পশ্চিম সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে কেশম দ্বীপের পশ্চিম প্রান্ত থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উম্ম আল-কুয়াইন পর্যন্ত, আর পূর্ব সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে মাউন্ট মোবারাক থেকে ফুজাইরাহ পর্যন্ত বিস্তৃত রেখা হিসেবে।

তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের মানচিত্র বা দাবি বাস্তব নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তন নির্দেশ করে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয় এবং এটি রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।

ঘটনার সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ ঘোষণা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এই প্রকল্পের লক্ষ্য হিসেবে হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া বা ঝুঁকিতে থাকা জাহাজগুলোর জন্য নিরাপদ নেভিগেশন নিশ্চিত করার কথা বলা হয়। তবে সাম্প্রতিক দাবি অনুযায়ী, এই উদ্যোগ কার্যকর হওয়ার আগেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে।

এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামেও অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে। ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম সামান্য পরিবর্তন দেখালেও সামগ্রিকভাবে বাজার স্থিতিশীলতার সংকেত দিচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে যেকোনো ধরনের সামরিক উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ বিশ্বের একটি বড় অংশের তেল পরিবহন এই জলপথের ওপর নির্ভরশীল।

যুক্তরাজ্য মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (UKMTO) জানায়, হরমুজ অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ঝুঁকি এখনো উচ্চমাত্রায় রয়েছে। তারা জাহাজ মালিক ও নাবিকদের সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক পরিস্থিতিকে ‘সংকটজনক পর্যায়’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই ধরনের ঘটনা—যদি সত্যতা নিশ্চিত হয়—তাহলে তা মধ্যপ্রাচ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির মতো কৌশলগত জলপথে যেকোনো সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতির ওপর তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে সক্ষম।

অন্যদিকে কূটনৈতিক মহলে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনার খবর পাওয়া যায়নি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সাধারণত এ ধরনের পরিস্থিতিতে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানালেও, সাম্প্রতিক ঘটনাবলির প্রেক্ষিতে উত্তেজনা প্রশমনের পথ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা আরও গভীর হয়েছে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, তথ্যের স্বাধীন যাচাই ছাড়া এ ধরনের দাবি দ্রুত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত