প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই যুগে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ডেটা সায়েন্স হয়ে উঠেছে আধুনিক বিশ্বের চালিকাশক্তি। ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যসেবা, ব্যাংকিং, শিক্ষা এবং সরকারি সেবাসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রযুক্তির এই অভাবনীয় বিপ্লব আমাদের কর্মসংস্থানের বাজারে আমূল পরিবর্তন এনেছে। এই পরিবর্তনশীল ও প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে নিজেকে যোগ্য ও দক্ষ হিসেবে গড়ে তোলার এক অনন্য সুযোগ নিয়ে এসেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ। বিভাগটি তাদের ‘প্রফেশনাল মাস্টার্স ইন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ডেটা সায়েন্স’ প্রোগ্রামে জুলাই ২০২৬ সেমিস্টারের জন্য ভর্তি কার্যক্রম শুরু করেছে। যারা নিজেদের ক্যারিয়ারকে প্রযুক্তি জগতের নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চান, তাদের জন্য এই প্রোগ্রামটি একটি মাইলফলক হতে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই প্রফেশনাল মাস্টার্স প্রোগ্রামটি অত্যন্ত যত্ন সহকারে ডিজাইন করা হয়েছে, যাতে একজন শিক্ষার্থী তত্ত্বীয় জ্ঞানের পাশাপাশি বাস্তব কর্মক্ষেত্রে এর প্রয়োগ সম্পর্কে গভীর ধারণা লাভ করতে পারেন। এই প্রোগ্রামের মোট সময়কাল দেড় বছর বা ১৮ মাস, যা তিনটি সেমিস্টারে বিভক্ত। মোট ৩৬ ক্রেডিট আওয়ারের এই কোর্সে শিক্ষার্থীর জন্য রাখা হয়েছে সমৃদ্ধ পাঠ্যক্রম। এর মধ্যে কোর্সওয়ার্কের পাশাপাশি ৬ ক্রেডিটের একটি প্রজেক্ট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শেখার সুযোগ করে দেবে। প্রোগ্রামের উল্লেখযোগ্য কোর্সগুলোর মধ্যে রয়েছে ডেটা ইঞ্জিনিয়ারিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং, ডিপ লার্নিং, ডেটা মাইনিং অ্যান্ড ওয়্যারহাউজিং, রিইনফোর্সমেন্ট লার্নিং এবং বর্তমানে বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলস বা এলএলএম। নৈতিক ও দায়িত্বশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপরও এখানে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
চাকরিজীবী ও পেশাজীবীদের কথা মাথায় রেখে এই প্রোগ্রামের ক্লাসের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে খুবই সুবিধাজনকভাবে। সাধারণত শুক্র ও শনিবার ছুটির দিনে সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ক্লাসগুলো পরিচালিত হয়। তবে প্রয়োজনের তাগিদে সপ্তাহের অন্যান্য দিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ক্লাসের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এতে যারা বর্তমানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন, তারা তাদের কর্মজীবনের পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্নভাবে এই উচ্চতর ডিগ্রিটি সম্পন্ন করতে পারবেন।
আবেদনের যোগ্যতা ও শর্তাবলিও বেশ বিস্তৃত রাখা হয়েছে। কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা সায়েন্স, কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের স্নাতক ডিগ্রিধারীরা এখানে আবেদন করতে পারবেন। এছাড়াও গণিত, পরিসংখ্যান, পদার্থবিদ্যা এবং আইসিটি বা এ ধরনের সমমানের বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্নকারীরাও আবেদনের যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবেন। তবে আবেদনের জন্য ন্যূনতম সিজিপিএ ২.৫ হতে হবে এবং কোনো পাবলিক পরীক্ষায় তৃতীয় বিভাগ বা শ্রেণি থাকলে আবেদন করা যাবে না। যারা সংশ্লিষ্ট চাকরি বা পেশাগত ক্ষেত্রে ইতিমধ্যে অভিজ্ঞ, তাদের জন্য ভর্তির ক্ষেত্রে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
ভর্তির সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি নির্দিষ্ট কয়েকটি ধাপের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হবে। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ২১ জুলাই ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করার সুযোগ পাবেন। পরবর্তীতে ২৪ জুলাই শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে এবং ২৫ জুলাই লিখিত পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করা হবে। এরপর ২৮ জুলাই নথিপত্র যাচাই-বাছাই বা ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশনের কাজ সম্পন্ন হবে। ভর্তি কার্যক্রম চলবে ৩০ জুলাই থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত। সব প্রক্রিয়া শেষে আগামী ১১ সেপ্টেম্বর থেকে এই ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের আর্থিক ব্যয়ের বিষয়টিও সহজতর করার চেষ্টা করা হয়েছে। এই প্রোগ্রামের প্রথম সেমিস্টারের জন্য ১ লাখ ১৮ হাজার টাকা এবং পরবর্তী দুটি সেমিস্টারের প্রতিটির জন্য ৯৮ হাজার টাকা করে নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে পুরো প্রোগ্রামটি শেষ করতে প্রায় ৩ লাখ ১৪ হাজার টাকার মতো ব্যয় হতে পারে। তবে যদি কোনো শিক্ষার্থীর হল ফি প্রযোজ্য হয়, তবে তাকে অতিরিক্ত ফি পরিশোধ করতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই মর্যাদাপূর্ণ প্রফেশনাল মাস্টার্স ডিগ্রি একজন পেশাজীবীকে তার কর্মক্ষেত্রে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বিশ্ববাজারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মানসিকভাবে প্রস্তুত করবে।
বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বাজারে কেবল সনাতন ডিগ্রির ওপর নির্ভর করে টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব। তাই এআই এবং ডেটা সায়েন্সের মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে জ্ঞান অর্জন এখন সময়ের দাবি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানের এই সার্টিফিকেট কেবল একটি ডিগ্রিই নয়, বরং এটি একজন শিক্ষার্থীর ক্যারিয়ারের জন্য এক বিশাল সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হবে। তাই প্রযুক্তিপ্রেমী ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী শিক্ষার্থীদের জন্য এই সুযোগটি গ্রহণ করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। আগ্রহীরা সংশ্লিষ্ট বিভাগের ওয়েবসাইট থেকে ভর্তি সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানতে পারবেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তাদের আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য বিশেষ আহ্বান জানানো যাচ্ছে। প্রযুক্তির পথে হাঁটতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই প্ল্যাটফর্মটি হতে পারে জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।