শিল্পী সমিতির নেতৃত্বে নতুন মুখ: সভাপতি শিবা শানু, সম্পাদক জয় চৌধুরী

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬
  • ৪ বার
শিল্পী সমিতির নেতৃত্বে নতুন মুখ: সভাপতি শিবা শানু, সম্পাদক জয় চৌধুরী

প্রকাশ: ০৪ জুলাই   ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন ঘিরে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এফডিসি প্রাঙ্গণ ছিল তারকাবহুল ও উৎসবমুখর। দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান হয়েছে গত শনিবার ভোরে, যখন নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটের ফলাফল ঘোষণা করে। উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে চলচ্চিত্র শিল্পের শীর্ষ নেতৃত্বে উঠে এসেছেন অভিনেতা শিবা শানু ও জয় চৌধুরী। এই জয় চলচ্চিত্র অঙ্গনে নতুন নেতৃত্বের সূচনা করল, যেখানে শিল্পীরা তাদের স্বার্থ রক্ষা ও উন্নয়নের প্রত্যাশায় নতুনদের ওপর আস্থা রেখেছেন। দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখদের ছাপিয়ে নতুন এই জুটির ওপর শিল্পীদের এই রায় পরিবর্তনের এক স্পষ্ট বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) প্রাঙ্গণে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এবারের নির্বাচনে মোট ৫৭৩ জন ভোটারের মধ্যে ৪৮০ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন, যা শিল্পীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণেরই বহিঃপ্রকাশ। ভোট গণনা শেষে ১৭টি ব্যালট বাতিল ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত ফলাফলে সভাপতি পদে শিবা শানু ২৪৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, যেখানে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ফাইট ডিরেক্টর ও অভিনেতা আরমান পেয়েছেন ১৭৩ ভোট। একইভাবে সাধারণ সম্পাদক পদে জয় চৌধুরী ২৩৭ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন, আর তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী রুমানা ইসলাম মুক্তি পেয়েছেন ১৭৯ ভোট।

নির্বাচনে প্রতিটি পদের জন্যই ছিল হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। সহসভাপতি পদে ডি এ তায়েব ২৬০ ভোট এবং ইলিয়াস কোবরা ২১৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। এই পদে লড়ে পরাজিত হয়েছেন বরেণ্য অভিনেত্রী নূতন ও রোজিনা। সহসাধারণ সম্পাদক পদে ২৬৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন সুব্রত, পরাজিত হয়েছেন রিনা খান। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে সনি রহমান, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে পারভেজ চৌধুরী আবির এবং দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক পদে জ্যাকি আলমগীর নির্বাচিত হয়েছেন। এ ছাড়াও সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে মারুফ আকিব এবং কোষাধ্যক্ষ পদে কামরুজ্জামান কমল জয়ী হয়েছেন। কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন আলী রাজ, কাবিলা, কায়েস আরজু, জেসমিন, নাসরিন, ফরহাদ, শিপন মিত্র, রাকা, চিকন আলী, শিরিন শিলা ও সুশান্ত।

নির্বাচনের আগে থেকেই এফডিসিতে বিরাজ করছিল টানটান উত্তেজনা। এবারের নির্বাচনে মূলত দুটি পূর্ণাঙ্গ প্যানেলের মধ্যে মূল লড়াই ছিল—একটি আরমান-মুক্তি পরিষদ, অন্যটি শিবা শানু-জয় চৌধুরী পরিষদ। নির্বাচনের আগে প্যানেল পরিচিতি অনুষ্ঠান এবং ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময়ে শিল্পীদের সরব উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রার্থীরা তাদের ইশতেহারে চলচ্চিত্র শিল্পীদের কল্যাণের পাশাপাশি চলচ্চিত্রের মানোন্নয়ন, পেশাদারিত্ব বজায় রাখা এবং শিল্পীদের মধ্যকার বিভেদ ভুলে কাজের পরিবেশ তৈরির অঙ্গীকার করেছিলেন। ভোটের ফল ঘোষণার পর বিজয়ীরা তাদের বক্তব্যে এই অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। শিবা শানু ও জয় চৌধুরী তাদের প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, এটি শুধু তাদের বিজয় নয়, এটি পুরো চলচ্চিত্র পরিবারের বিজয়। তারা সব শিল্পীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

সিনেমার মানুষদের মিলনমেলায় পরিণত হওয়া এই নির্বাচন কেবল নেতৃত্ব নির্বাচনের লড়াই ছিল না, ছিল শিল্পীদের আত্মপরিচয় ও অধিকারের প্রতিফলন। দেশের চলচ্চিত্র যখন নানামুখী চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন শিল্পী সমিতির এই নতুন নেতৃত্ব কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে, তা দেখার অপেক্ষায় এখন পুরো ইন্ডাস্ট্রি। শিল্পীরা চেয়েছেন এমন নেতৃত্ব যারা সংকটের সময়ে তাদের পাশে থাকবে এবং এফডিসিকে ঘিরে গড়ে ওঠা স্বপ্নের জায়গাটিকে আবার জৌলুশ ফিরিয়ে দেবে। নতুন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তাদের দায়িত্ব গ্রহণের পর শিল্পীদের কল্যাণে কী ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন, সেদিকেই তাকিয়ে আছে সবার দৃষ্টি।

নির্বাচন পরবর্তী সময়ে শিল্পী সমিতির সদস্যরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, নতুন এই কমিটি আগের সকল মতভেদ দূরে ঠেলে কাজের পরিবেশ তৈরিতে মনোযোগী হবে। শিল্পীদের পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি এবং চলচ্চিত্রের মানোন্নয়নে এই নেতৃত্ব নতুন দিশা দেখাবে বলে প্রত্যাশা সবার। আদালতের বারান্দায় দৌড়ঝাঁপ কিংবা বিতর্কিত পরিস্থিতির বদলে শিল্পীরা চেয়েছেন কাজের মানুষ, যারা সরাসরি তাদের সমস্যাগুলো বুঝবে ও সমাধানের পথ দেখাবে। নতুন এই জয়ের মাধ্যমে সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন নতুন কমিটির শপথ গ্রহণ ও দায়িত্বভার গ্রহণের পর পরবর্তী দুই বছর চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কর্মকাণ্ড কী রূপ নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত