ফরহাদ মজহারের বক্তব্যের প্রতিবাদ জামায়াতের

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ৫ বার
ফরহাদ মজহারের বক্তব্যের প্রতিবাদ জামায়াতের

প্রকাশ: ০৪ আগস্ট  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের বিশিষ্ট কবি, প্রথিতযশা কলামিস্ট ও রাজনৈতিক চিন্তক ফরহাদ মজহারের সাম্প্রতিক একটি বক্তব্যকে ঘিরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার সূত্রপাত হয়েছে। কবি ফরহাদ মজহার সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে মন্তব্য করেছিলেন যে, যতদিন দেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী টিকে থাকবে, ঠিক ততদিনই কোনো না কোনোভাবে আওয়ামী লীগের অস্তিত্ব বা প্রভাবও রাজনীতিতে থেকে যাবে। এই বিশেষ মন্তব্যটিকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবর্জিত, অগ্রহণযোগ্য, বিভ্রান্তিকর এবং অনভিপ্রেত হিসেবে আখ্যায়িত করে এর তীব্র নিন্দা ও জোরালো প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, এ ধরনের একপাক্ষিক ও ভিত্তিহীন মন্তব্য কোনোভাবেই কাম্য নয় এবং ভবিষ্যতে রাজনৈতিক আলোচনায় এ ধরনের বক্তব্য প্রদান থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

সোমবার দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে এই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও প্রচার-মিডিয়া বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, দেশের একজন প্রথিতযশা কলামিস্ট ও রাষ্ট্রচিন্তক হিসেবে জনাব ফরহাদ মজহারের কাছ থেকে আরও দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ মন্তব্য দেশবাসী প্রত্যাশা করে। তিনি যে ধরনের অসংলগ্ন ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য সম্প্রতি একটি প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে করেছেন, তা দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। জামায়াতে ইসলামী শুরু থেকেই একটি আদর্শভিত্তিক গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হিসেবে দেশের মানুষের অধিকার রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে, সেখানে কোনো একটি বিশেষ রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে জামায়াতের ধারাবাহিকতাকে মেলানো সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

বিবৃতির বিস্তারিত বর্ণনায় জামায়াতের এই শীর্ষস্থানীয় নেতা বিগত দীর্ঘ সাড়ে ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসন আমলের নানা মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ইতিহাস তুলে ধরেছেন। ওই সুদীর্ঘ সময় ধরে দেশের অন্যতম বৃহৎ ও জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং অন্যান্য বিরোধী দলগুলোর ওপর আওয়ামী লীগ সরকার কী ধরনের নজিরবিহীন জুলুম, নির্যাতন, গুম, খুন এবং রাষ্ট্রীয় হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে, তা আজ দেশবাসীর কাছে দিবালোকের মতো স্পষ্ট। ফ্যাসিবাদী সেই দুঃশাসনের আমলেও জামায়াতে ইসলামী প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং পুলিশি নির্যাতন উপেক্ষা করে দেশের সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে গেছে। সরকারের অন্যায় ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার অপরাধে দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দকে গভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে মিথ্যা মামলায় ফাঁসি দিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। শত শত নেতাকর্মী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে খুন হয়েছেন, হাজার হাজার নেতাকর্মী অঙ্গহানি বা পঙ্গুত্ববরণ করেছেন এবং বছরের পর বছর অন্ধকার কারাবাস সহ্য করেছেন।

এহসানুল মাহবুব জুবায়ের তার বিবৃতিতে আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, আওয়ামী লীগের বিগত সেই ভয়াবহ ও ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে দেশের ছাত্র-জনতা ও আপামর জনসাধারণের অংশগ্রহণে সংঘটিত চব্বিশের ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল। রাজপথে তরুণ সমাজ ও সাধারণ মানুষের পাশে থেকে ফ্যাসিবাদের পতনকে ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে দলটির নেতাকর্মীদের আত্মত্যাগ ও অবদান ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। জুলাই অভ্যুত্থানের মতো একটি রক্তক্ষয়ী ও গণমানুষের বিপ্লবের অগ্রগামী শক্তিকে যদি কোনো মহল ইচ্ছাকৃতভাবে বা ভুলবশত আওয়ামী লীগের মতো একটি স্বৈরাচারী শক্তির সঙ্গে তুলনা করার ধৃষ্টতা দেখায়, তবে সচেতন দেশবাসী তাদের কখনই ক্ষমা করবে না। দেশের সাধারণ মানুষ এবং জুলাই বিপ্লবের রক্তস্নাত শক্তিগুলো ওই সমস্ত ব্যক্তিকে ভবিষ্যতে ফ্যাসিস্টদের প্রত্যক্ষ দোসর কিংবা তাদের পুনর্বাসনকারী হিসেবেই শনাক্ত করবে এবং ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীন দেশের রাজনৈতিক সংস্কার এবং একটি স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ার মধ্যে এ ধরনের বিতর্কিত মন্তব্য রাজনৈতিক মেরুকরণকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক এবং অতীত ইতিহাস পর্যালোচনার ক্ষেত্রে আরও বেশি সহনশীলতা, পরিপক্বতা এবং বস্তুনিষ্ঠতা প্রদর্শনের সময় এসেছে। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে যে, অন্ধ সমালোচনা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করে দেশের স্বার্থে সকলেরই গঠনমূলক সমালোচনা এবং ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার মানসিকতা থাকতে হবে। আগামী দিনে জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করার মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে হলে এই ধরনের বিভ্রান্তিকর বয়ান ও অহেতুক বিতর্ক এড়িয়ে চলা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত