‘পিস্তল’ নয়, লাইটার; টিকটক ভিডিওর জেরে যুবক গ্রেপ্তার

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩ বার

প্রকাশ: ৪ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

গাজীপুরের শ্রীপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে পিস্তলসদৃশ বস্তু প্রদর্শন করে আতঙ্ক ছড়ানো এবং একই বস্তু দিয়ে স্ত্রীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে যৌতুক দাবি ও নির্যাতনের অভিযোগে মো. ইমন (২৩) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তদন্তে দেখা যায়, ভিডিওতে প্রদর্শিত বস্তুটি কোনো আগ্নেয়াস্ত্র নয়; এটি একটি পিস্তলের আদলে তৈরি লাইটার। তবে বাস্তব অস্ত্রের মতো দেখতে হওয়ায় সেটি ব্যবহার করে এলাকায় ভীতি সৃষ্টি এবং পারিবারিক নির্যাতনের অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়েই আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ।

গাজীপুর জেলা পুলিশ সোমবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে। গ্রেপ্তার হওয়া মো. ইমন শ্রীপুর উপজেলার মুলাইদ গ্রামের দায়পাড়া এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর কর্মকাণ্ড এবং পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগ তদন্তের পর প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ইমন নিজের টিকটক আইডিতে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন, যেখানে তাঁকে একটি পিস্তল হাতে দেখা যায়। ভিডিওটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় মানুষের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করে। অনেকেই ধারণা করেন, তাঁর কাছে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। বিষয়টি গাজীপুর জেলা পুলিশের নজরে এলে গোয়েন্দা পর্যায়ে যাচাই-বাছাই শুরু হয়।

পরবর্তীতে পুলিশের একটি দল ইমনের বাড়িতে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় ভিডিওতে ব্যবহৃত পিস্তলসদৃশ বস্তুটি উদ্ধার করা হয়। পরে সেটি পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া যায়, এটি কার্যকর কোনো আগ্নেয়াস্ত্র নয়; বরং পিস্তলের আকৃতিতে তৈরি একটি লাইটার। তবে দেখতে প্রায় আসল পিস্তলের মতো হওয়ায় সাধারণ মানুষের পক্ষে সেটিকে প্রকৃত অস্ত্র বলে মনে হওয়া স্বাভাবিক।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, এই পিস্তলসদৃশ লাইটার ব্যবহার করে ইমন শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত হওয়ার চেষ্টা করেননি, বরং ব্যক্তিগত জীবনেও সেটি ভয়ভীতি প্রদর্শনের কাজে ব্যবহার করতেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্ত্রীকে নিয়মিত এই লাইটার দেখিয়ে ভয় দেখাতেন এবং যৌতুকের জন্য চাপ সৃষ্টি করতেন। এতে তাঁর স্ত্রী দীর্ঘদিন মানসিক চাপ ও নির্যাতনের শিকার হন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঘটনার পর ইমনের স্ত্রী মোছা. তাহমিনা (২২) শ্রীপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই তাঁকে বিভিন্ন সময় যৌতুকের জন্য চাপ দেওয়া হয়। দাবি পূরণ না হওয়ায় তাঁকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো। ভয় দেখানোর জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তি পিস্তলসদৃশ বস্তু ব্যবহার করতেন, যা তিনি প্রথমে সত্যিকারের অস্ত্র বলে বিশ্বাস করেছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, পারিবারিক সহিংসতার ঘটনায় ভয়ভীতি প্রদর্শনের জন্য ব্যবহৃত বস্তুটি আসল অস্ত্র না হলেও সেটি যদি ভুক্তভোগীকে আতঙ্কিত করতে সক্ষম হয় এবং অপরাধ সংঘটনে ব্যবহৃত হয়, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়। একই সঙ্গে অস্ত্রসদৃশ বস্তু ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর বা আতঙ্ক সৃষ্টিকারী ভিডিও প্রচার জননিরাপত্তার জন্যও উদ্বেগের কারণ।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি টিকটকে অস্ত্রসদৃশ লাইটার প্রদর্শন করে ভিডিও প্রচার করতেন, যা স্থানীয়ভাবে আতঙ্কের সৃষ্টি করে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্ত্রসদৃশ বস্তু প্রদর্শন করে ভিডিও তৈরি করার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, অনেকেই জনপ্রিয়তা অর্জন বা অনুসারী বাড়ানোর উদ্দেশ্যে এমন ভিডিও তৈরি করেন। কিন্তু এসব ভিডিও সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করতে পারে এবং অপরাধপ্রবণতার ভুল বার্তা দিতে পারে। এ কারণে এ ধরনের কর্মকাণ্ড নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি পারিবারিক সহিংসতা ও যৌতুকের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ জরুরি। কারণ, ভয়ভীতি প্রদর্শন, মানসিক নির্যাতন এবং যৌতুকের চাপ—এসবই পারিবারিক সহিংসতার গুরুতর রূপ, যা অনেক সময় বড় ধরনের অপরাধের দিকে পরিস্থিতিকে নিয়ে যেতে পারে।

এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারাও স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, অস্ত্রসদৃশ বস্তু ব্যবহার করে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি এবং পারিবারিক নির্যাতনের অভিযোগের পর দ্রুত পুলিশি পদক্ষেপ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তদন্ত শেষে আদালতের মাধ্যমে মামলার প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে বলেও তারা আশা করছেন।

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন >> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত