পাকিস্তানের দাবি, ভারত-সমর্থিত ১০ সন্ত্রাসী নিহত

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩৩ বার

প্রকাশ: ৭ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে অন্তত ১০ জন সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর ভাষ্য, নিহত ব্যক্তিরা ভারত-সমর্থিত একটি নেটওয়ার্কের সদস্য ছিলেন এবং তারা দেশের অভ্যন্তরে নাশকতা, সন্ত্রাসী হামলা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত হানার পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তবে পাকিস্তানের এ দাবির বিষয়ে ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি এবং স্বাধীনভাবে এ অভিযোগের সত্যতাও এখন পর্যন্ত যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ এশিয়ার দুই পরমাণু শক্তিধর প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা ইস্যুতে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। সীমান্ত পরিস্থিতি, সন্ত্রাসবাদ, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং কাশ্মীর প্রশ্নকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে বহু বছর ধরেই পারস্পরিক অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ চলে আসছে। সর্বশেষ এই অভিযান সেই উত্তেজনাকেই আরও নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সন্দেহভাজন সশস্ত্র ব্যক্তিদের অবস্থান ঘিরে ফেললে উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। কয়েক ঘণ্টাব্যাপী ওই অভিযানের একপর্যায়ে ১০ জন নিহত হন। ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ, বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম এবং বিভিন্ন যোগাযোগ যন্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তিরা দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলার পরিকল্পনা করছিলেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে অতীতে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা, সরকারি স্থাপনায় নাশকতা এবং বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে সহিংস কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ ছিল। সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নিহতদের পরিচয় ও তাদের আন্তর্জাতিক যোগাযোগের বিষয়েও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

আইএসপিআর আরও দাবি করেছে, অভিযানে নিহতদের সঙ্গে সীমান্তের বাইরে অবস্থানরত কিছু গোষ্ঠীর যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। পাকিস্তানের অভিযোগ, এসব গোষ্ঠী ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তা ও পৃষ্ঠপোষকতায় কাজ করছিল। তবে এই দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো স্বাধীন বা আন্তর্জাতিকভাবে যাচাইকৃত প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।

অন্যদিকে ভারত অতীতের মতোই পাকিস্তানের এমন অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করতে পারে বলে কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। যদিও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নয়াদিল্লি থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অতীতেও পাকিস্তান একাধিকবার ভারতের বিরুদ্ধে বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে। বিপরীতে ভারত বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে এবং উল্টো পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদে মদদ দেওয়ার অভিযোগ করেছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে কাশ্মীর ইস্যুকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্ক বহুবার সংকটের মুখে পড়েছে। সীমান্তে সংঘর্ষ, অনুপ্রবেশের অভিযোগ, সন্ত্রাসী হামলা এবং পাল্টা সামরিক অভিযানের কারণে দুই দেশের মধ্যে আস্থার সংকট আরও গভীর হয়েছে। ফলে যেকোনো বড় ধরনের নিরাপত্তা অভিযান আঞ্চলিক রাজনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দেশজুড়ে সন্ত্রাসী তৎপরতা মোকাবিলায় অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখোয়া, বেলুচিস্তান এবং সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। সরকারের দাবি, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের ফলে বহু সশস্ত্র গোষ্ঠীর কার্যক্রম দুর্বল হয়ে পড়েছে। তবে বিচ্ছিন্নভাবে হামলার ঝুঁকি এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনী, পুলিশ, সরকারি কর্মকর্তা এবং সাধারণ নাগরিকদের লক্ষ্য করে বেশ কয়েকটি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার পর সরকার সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করার ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তা, গোয়েন্দা নজরদারি এবং আন্তঃসংস্থার সমন্বয় বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যখনই নিরাপত্তা-সংক্রান্ত অভিযোগ সামনে আসে, তখন কূটনৈতিক সম্পর্কেও তার প্রভাব পড়ে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, ভিসা, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং সীমান্ত সহযোগিতার মতো বিষয়গুলোও এমন পরিস্থিতিতে বাধাগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে কোনো পক্ষ যদি সরাসরি অপর পক্ষকে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যুক্ত করার অভিযোগ তোলে, তাহলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।

এদিকে আন্তর্জাতিক মহল দীর্ঘদিন ধরেই ভারত ও পাকিস্তানকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে আসছে। দক্ষিণ এশিয়ায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পারস্পরিক সংলাপ, তথ্য বিনিময় এবং কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা। কারণ উভয় দেশই পারমাণবিক শক্তিধর হওয়ায় যেকোনো উত্তেজনা বৃহত্তর নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করতে পারে।

পাকিস্তানের দাবি অনুযায়ী পরিচালিত সর্বশেষ এই অভিযানের পর দেশটির নিরাপত্তা সংস্থাগুলো আরও কয়েকটি এলাকায় তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রেখেছে। সন্দেহভাজনদের সহযোগী বা অর্থায়নকারী কোনো নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও যোগাযোগ যন্ত্র ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

তবে পুরো ঘটনাকে ঘিরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ভারত-সমর্থনের যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা এখন পর্যন্ত স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ভারতও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি। ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে আরও তথ্য ও সরকারি অবস্থান প্রকাশের অপেক্ষা রয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি এমনিতেই নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের এই দাবি এবং অভিযানের ঘটনাপ্রবাহ আগামী দিনগুলোতে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক, আঞ্চলিক কূটনীতি এবং নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন আলোচনার জন্ম দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন >> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত