সাতক্ষীরায় প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে ঘের মালিক গ্রেপ্তার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬
  • ১১ বার
সাতক্ষীরায় প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে ঘের মালিক গ্রেপ্তার
প্রকাশ: ১১ আগস্ট  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের জনপদ সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায় সমাজের এক নির্মম ও জঘন্য ঘটনার শিকার হয়েছেন ত্রিশ বছর বয়সী এক অসহায় প্রতিবন্ধী নারী। বাক ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতার সুযোগ নিয়ে স্থানীয় এক মৎস্য ঘেরের মালিক কর্তৃক ওই নারীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ পাওয়া গেছে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া এবং নানা সামাজিক বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে অবশেষে ভুক্তভোগীর পরিবারের অদম্য সাহসিকতায় থানায় মামলা দায়েরের পর অভিযুক্ত ঘের মালিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার আশাশুনি উপজেলার ফকরাবাদ গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করার পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই ন্যক্কারজনক ঘটনাটি এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে এবং সাধারণ মানুষ অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ এপ্রিল রাত আনুমানিক আটটার দিকে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের ফকরাবাদ মৌজায় এই পৈশাচিক ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত পলাশ মন্ডল স্থানীয় একজন প্রভাবশালী মৎস্য ঘেরের মালিক। ঘটনার দিন ওই এলাকার সহজ-সরল ও শারীরিক প্রতিবন্ধী নারীকে একা পেয়ে ফকরাবাদ গ্রামের নরেন্দ্রনাথ মন্ডলের ছেলে পলাশ মন্ডল তার নিজ মৎস্য ঘেরের মাছের বাসায় জোরপূর্বক নিয়ে যান এবং সেখানে তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সমাজের দুর্বল ও প্রতিবন্ধী মানুষের নিরাপত্তাহীনতার সুযোগ নিয়ে প্রভাবশালী ঘের মালিক এই জঘন্য অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর থেকে ভয়ভীতি ও সামাজিক মর্যাদাপূর্ণ সংকটের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে আইনের সহায়তা নিতে কিছুটা বিলম্ব হলেও শেষ পর্যন্ত ন্যায়বিচারের আশায় আশাশুনি থানায় উপস্থিত হন ভুক্তভোগীর বৃদ্ধ বাবা। তিনি বাদী হয়ে আশাশুনি থানায় একটি সুনির্দিষ্ট ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন, যা পুলিশ প্রশাসন গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করে।
মামলা রুজু হওয়ার পর আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জ শামীম আহম্মেদ খানের সার্বিক দিকনির্দেশনায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক ফিরোজ আলম অভিযুক্তকে পাকড়াও করতে মাঠে নামে। দীর্ঘ অনুসন্ধান ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ফকরাবাদ গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে নিজ বসতবাড়ি থেকে ঘের মালিক পলাশ মন্ডলকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। সোমবার বিকেলে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর তাকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সাতক্ষীরার আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এই মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এবং ভুক্তভোগী নারীকে ন্যায়বিচার পাইয়ে দিতে যা যা করণীয়, তার সবকিছুই আইনানুগভাবে করা হবে। অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, নারী ও প্রতিবন্ধীদের ওপর নির্যাতনকারী কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে।
এদিকে এই মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকেই পুরো এলাকায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ, মানবাধিকার কর্মী এবং সাধারণ মানুষ এই পৈশাচিক কাজের তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্তের দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন। একজন শারীরিক ও বাকপ্রতিবন্ধী নারীর ওপর এ ধরনের অমানবিক নির্যাতন কেবল একটি ফৌজদারি অপরাধই নয়, বরং এটি মানবতা ও সামাজিক নিরাপত্তার ওপর এক গভীর কালো দাগ। সমাজের মূল স্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন এবং নিজেদের রক্ষায় অক্ষম এমন একজন মানুষের সঙ্গে ঘটে যাওয়া এই পাশবিকতা সমাজকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে এবং অপরাধী কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন এলাকার সাধারণ মানুষ, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের জঘন্য অপরাধ করার দুঃসাহস কেউ দেখাতে না পারে।

পুলিশ প্রশাসন, স্থানীয় এলাকাবাসী এবং মামলার এজাহার সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এই মর্মান্তিক ও কলঙ্কজনক ঘটনাটি ঘটেছিল গত ১৫ এপ্রিল রাতের আঁধারে। সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের ফকরাবাদ মৌজার একটি নির্জন এলাকায় অবস্থিত নরেন্দ্রনাথ মন্ডলের ছেলে পলাশ মন্ডলের মৎস্য ঘের। ঘটনার দিন গভীর রাতে ওই এলাকার সহজ-সরল, বাকপ্রতিবন্ধী ও শারীরিকভাবে দুর্বল নারীকে একা পেয়ে নরেন্দ্রনাথ মন্ডলের ছেলে এবং স্থানীয় মৎস্য ঘেরের মালিক পলাশ মন্ডল কুপ্রস্তাব দেন এবং জোরপূর্বক তাকে নিজের মৎস্য ঘেরের মাছের বাসায় তুলে নিয়ে যান। সেখানে সম্পূর্ণ নিরুপায় ও অসহায় ওই নারীর ওপর পৈশাচিক কায়দায় নির্যাতন চালিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। সমাজের দুর্বল ও প্রতিবন্ধী মানুষের নিরাপত্তাহীনতা এবং আইনি লড়াইয়ে তাদের অক্ষমতার সুযোগ নিয়ে প্রভাবশালী ঘের মালিক এই জঘন্য অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পরপরই লম্পট পলাশ মন্ডল বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালায় এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। কিন্তু দিনের পর দিন বঞ্চনা ও মানসিক যন্ত্রণার শিকার হয়েও পরিবারটি শেষ পর্যন্ত পিছু হটেনি। সমাজের নানা রক্তচক্ষু ও ভয়ের দেয়াল ভেঙে ন্যায়বিচারের আশায় আশাশুনি থানায় উপস্থিত হন ভুক্তভোগীর বৃদ্ধ ও অসহায় বাবা। তিনি বাদি হয়ে আশাশুনি থানায় একটি সুনির্দিষ্ট ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন, যা স্থানীয় থানা পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্ব ও সংবেদনশীলতার সঙ্গে গ্রহণ করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

মামলা রুজু হওয়ার পর থেকেই আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জ শামীম আহম্মেদ খানের সার্বিক দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক ফিরোজ আলম অভিযুক্তকে পাকড়াও করতে মাঠে নামে। দীর্ঘ অনুসন্ধান, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ সোমবার ফকরাবাদ গ্রামে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। নিজ বসতবাড়ি থেকেই অভিযুক্ত মৎস্য ঘেরের মালিক পলাশ মন্ডলকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা। সোমবার বিকেলেই সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া ও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ সম্পন্ন করার পর তাকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সাতক্ষীরার বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পুলিশের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে জানানো হয়েছে যে, এই মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এবং বাকপ্রতিবন্ধী ভুক্তভোগী নারীকে ন্যায়বিচার পাইয়ে দিতে যা যা করণীয়, তার সবকিছুই আইনানুগভাবে নিখুঁতভাবে করা হবে। অপরাধী যতই প্রভাবশালী বা অর্থশালী হোক না কেন, নারী ও প্রতিবন্ধীদের ওপর নির্যাতনকারী কোনো অপরাধীকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে অত্যন্ত দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে।

এদিকে এই লোমহর্ষক ঘটনার পর থেকেই পুরো আশাশুনি উপজেলা তথা গোটা সাতক্ষীরা জেলাজুড়ে তীব্র নিন্দা, ধিক্কার ও প্রতিবাদের ঝড় বইছে। স্থানীয় বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন, নারী অধিকারকর্মী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষ এই পৈশাচিক কাজের তীব্র ভাষা নিন্দা জানিয়েছেন এবং অভিযুক্ত পলাশ মন্ডলের দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন। একজন শারীরিক ও বাকপ্রতিবন্ধী নারীর ওপর এ ধরনের অমানবিক ও পাশবিক নির্যাতন কেবল একটি সাধারণ ফৌজদারি অপরাধই নয়, বরং এটি মানবতা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং সভ্য সমাজের বিশ্বাসের ভিত্তিমূলের ওপর এক গভীর কালো দাগ। সমাজের মূল স্রোত থেকে বহু দূরে অবস্থানকারী এবং নিজেদের অধিকার রক্ষার জন্য কথা বলতে অক্ষম এমন একজন মানুষের সঙ্গে ঘটে যাওয়া এই জঘন্য ঘটনা সমাজকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। সাধারণ মানুষ মনে করছেন, অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে সমাজের কুচক্রী ও লম্পটরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে। আইন তার নিজস্ব গতিতে কঠোরভাবে চলবে এবং অপরাধী উপযুক্ত শাস্তির মুখোমুখি হবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন এলাকার সর্বস্তরের মানুষ, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের পৈশাচিকতা করার দুঃসাহস আর কেউ দেখাতে না পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত