সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের মৃত্যুদণ্ড

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬
  • ৯ বার
সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের মৃত্যুদণ্ড
প্রকাশ: ১১ আগস্ট  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি ও আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ও ক্ষমতাধর একনায়ক সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ এবং তাঁর প্রশাসনের শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর ও ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেছে দেশটির একটি আদালত। দীর্ঘ ১৪ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাত, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং অজস্র মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় আইনি বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে মৃত্যুদণ্ডের সাজা পেয়েছেন আসাদ। দামেস্কের একটি বিশেষ ফৌজদারি আদালত এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন। আদালতের এই ঐতিহাসিক রায় কেবল সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই নয়, বরং সমগ্র আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক বিশাল আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। দশকের পর দশক ধরে চলা দমন-পীড়ন, স্বৈরতান্ত্রিক শাসন এবং সাধারণ মানুষের ওপর চালানো নৃশংসতার পর এই বিচার প্রক্রিয়াকে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির বিচারব্যবস্থার একটি মাইলফলক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
দামেস্কের চতুর্থ ফৌজদারি আদালতের বিচারক এই মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করার সময় জানান যে, সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ ছাড়াও তাঁর ভাই এবং প্রভাবশালী নিরাপত্তা কর্মকর্তা মাহের আল আসাদ এবং দক্ষিণ সিরিয়ার দারা প্রদেশের সাবেক রাজনৈতিক নিরাপত্তা প্রধান আতেফ নাজিবকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। আদালতের বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন অভিযুক্ত আতেফ নাজিব সরাসরি আদালতে উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁর বিচার সশরীরে সম্পন্ন হয়। তবে প্রধান অভিযুক্ত বাশার আল আসাদ ও তাঁর ভাই মাহের আল আসাদ দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ায় তাঁদের বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে তাঁদের অনুপস্থিতিতেই। আদালত অত্যন্ত স্পষ্টভাষায় উল্লেখ করেছে যে, সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণ, গোয়েন্দা রিপোর্ট এবং সাক্ষীদের জোরালো সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে এটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে বাশার আল আসাদ ছিলেন রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সংঘটিত অপরাধগুলোর সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক ও নির্দেশদাতা। রাষ্ট্রীয় পদ, ক্ষমতা এবং প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কুক্ষিগত করে তিনি যেভাবে সাধারণ মানুষের ওপর নিপীড়ন চালিয়েছিলেন, তার পূর্ণ বিবরণ উঠে এসেছে আদালতের রায়ে।
আদালতের দেওয়া রায়ে বাশার আল আসাদকে সুনির্দিষ্টভাবে শিশুসহ একাধিক ব্যক্তিকে পূর্বপরিকল্পিত ও ঠান্ডা মাথায় হত্যার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে বেপরোয়া নির্যাতন, বেসামরিক নাগরিকদের নির্বিচারে আটক রাখা এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের মতো গুরুতর সব অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। অন্যদিকে, দক্ষিণ সিরিয়ার দারা প্রদেশের সাবেক রাজনৈতিক নিরাপত্তা প্রধান আতেফ নাজিবের বিরুদ্ধেও ভয়াবহ সব অভিযোগ আনা হয়েছিল। ২০১১ সালে যখন সিরিয়ার দারা প্রদেশে প্রথম সরকারবিরোধী গণবিক্ষোভ শুরু হয়, তখন শান্তিপূর্ণ সেই আন্দোলন দমনে লাইভ আমুনিশন বা গুলি ব্যবহার করে নৃশংসতা চালানোর মূল দায়িত্বে ছিলেন এই নাজিব। আটককেন্দ্রগুলোর ভেতরে মানুষকে আটকে রেখে পদ্ধতিগতভাবে নির্যাতন চালানো, বন্দিদের হত্যা এবং দেশজুড়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করার পেছনে তাঁর প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল বলে আদালত তার রায়ে উল্লেখ করেছে। দারার মতো একটি শান্ত শহরকে কীভাবে রক্তক্ষয়ী সংঘাতে পরিণত করা হয়েছিল, তার পূর্ণাঙ্গ চিত্র বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উন্মোচিত হয়েছে।
উল্লেখ্য, বিগত ২০২৪ সালের শেষের দিকে সিরিয়ার বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এক নাটকীয় ও দ্রুত পরিবর্তন আসে। বর্তমান প্রেসিডেন্ট আহমাদ আল শারার নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী যোদ্ধাদের মাত্র ১১ দিনের একটি ঝোড়ো ও সফল সামরিক অভিযানে দীর্ঘ পাঁচ দশকের আসাদ পরিবারের শাসনের পতন ঘটে। বিদ্রোহী বাহিনী রাজধানী দামেস্কের কাছাকাছি পৌঁছে গেলে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন বাশার আল আসাদ। সেই সময় রাশিয়ার সরকারের বিশেষ সহযোগিতায় তিনি সপরিবারে মস্কোতে পালিয়ে যান এবং সেখানে রাজনৈতিক আশ্রয় লাভ করেন। বর্তমান ট্রানজিশনাল বা অন্তর্বর্তীকালীন কর্তৃপক্ষের আমলে গঠিত আদালত পলাতক সাবেক এই স্বৈরশাসকের অনুপস্থিতিতেই বিচারকার্য পরিচালনা করে আসছিল। শুধু তাই নয়, বাশার ও মাহের আল আসাদকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের মুখোমুখি করতে এবং বিশ্বজুড়ে তাদের আইনের আওতায় রাখতে আন্তর্জাতিকভাবে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। সিরিয়ার ইতিহাসের এই ক্ষতবিক্ষত অধ্যায়ের বিচারিক সমাপ্তি ঘটাতে এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে ন্যায়বিচার পাইয়ে দিতে এই রায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দামেস্কের চতুর্থ ফৌজদারি আদালতের বিচারক এই মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করার সময় জানান যে, সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ ছাড়াও তাঁর ভাই এবং প্রভাবশালী নিরাপত্তা কর্মকর্তা মাহের আল আসাদ এবং দক্ষিণ সিরিয়ার দারা প্রদেশের সাবেক রাজনৈতিক নিরাপত্তা প্রধান আতেফ নাজিবকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। আদালতের বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন অভিযুক্ত আতেফ নাজিব সরাসরি আদালতে উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁর বিচার সশরীরে সম্পন্ন হয়। তবে প্রধান অভিযুক্ত বাশার আল আসাদ ও তাঁর ভাই মাহের আল আসাদ দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ায় তাঁদের বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে তাঁদের অনুপস্থিতিতেই। আদালত অত্যন্ত স্পষ্টভাষায় উল্লেখ করেছে যে, সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণ, গোয়েন্দা রিপোর্ট এবং সাক্ষীদের জোরালো সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে এটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে বাশার আল আসাদ ছিলেন রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সংঘটিত অপরাধগুলোর সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক ও নির্দেশদাতা। রাষ্ট্রীয় পদ, ক্ষমতা এবং প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কুক্ষিগত করে তিনি যেভাবে সাধারণ মানুষের ওপর নিপীড়ন চালিয়েছিলেন, তার পূর্ণ বিবরণ উঠে এসেছে আদালতের রায়ে।

আদালতের দেওয়া রায়ে বাশার আল আসাদকে সুনির্দিষ্টভাবে শিশুসহ একাধিক ব্যক্তিকে পূর্বপরিকল্পিত ও ঠান্ডা মাথায় হত্যার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে বেপরোয়া নির্যাতন, বেসামরিক নাগরিকদের নির্বিচারে আটক রাখা এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের মতো গুরুতর সব অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। অন্যদিকে, দক্ষিণ সিরিয়ার দারা প্রদেশের সাবেক রাজনৈতিক নিরাপত্তা প্রধান আতেফ নাজিবের বিরুদ্ধেও ভয়াবহ সব অভিযোগ আনা হয়েছিল। ২০১১ সালে যখন সিরিয়ার দারা প্রদেশে প্রথম সরকারবিরোধী গণবিক্ষোভ শুরু হয়, তখন শান্তিপূর্ণ সেই আন্দোলন দমনে লাইভ আমুনিশন বা গুলি ব্যবহার করে নৃশংসতা চালানোর মূল দায়িত্বে ছিলেন এই নাজিব। আটককেন্দ্রগুলোর ভেতরে মানুষকে আটকে রেখে পদ্ধতিগতভাবে নির্যাতন চালানো, বন্দিদের হত্যা এবং দেশজুড়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করার পেছনে তাঁর প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল বলে আদালত তার রায়ে উল্লেখ করেছে। দারার মতো একটি শান্ত শহরকে কীভাবে রক্তক্ষয়ী সংঘাতে পরিণত করা হয়েছিল, তার পূর্ণাঙ্গ চিত্র বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উন্মোচিত হয়েছে।

উল্লেখ্য, বিগত ২০২৪ সালের শেষের দিকে সিরিয়ার বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এক নাটকীয় ও দ্রুত পরিবর্তন আসে। বর্তমান প্রেসিডেন্ট আহমাদ আল শারার নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী যোদ্ধাদের মাত্র ১১ দিনের একটি ঝোড়ো ও সফল সামরিক অভিযানে দীর্ঘ পাঁচ দশকের আসাদ পরিবারের শাসনের পতন ঘটে। বিদ্রোহী বাহিনী রাজধানী দামেস্কের কাছাকাছি পৌঁছে গেলে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন বাশার আল আসাদ। সেই সময় রাশিয়ার সরকারের বিশেষ সহযোগিতায় তিনি সপরিবারে মস্কোতে পালিয়ে যান এবং সেখানে রাজনৈতিক আশ্রয় লাভ করেন। বর্তমান ট্রানজিশনাল বা অন্তর্বর্তীকালীন কর্তৃপক্ষের আমলে গঠিত আদালত পলাতক সাবেক এই স্বৈরশাসকের অনুপস্থিতিতেই বিচারকার্য পরিচালনা করে আসছিল। শুধু তাই নয়, বাশার ও মাহের আল আসাদকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের মুখোমুখি করতে এবং বিশ্বজুড়ে তাদের আইনের আওতায় রাখতে আন্তর্জাতিকভাবে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। সিরিয়ার ইতিহাসের এই ক্ষতবিক্ষত অধ্যায়ের বিচারিক সমাপ্তি ঘটাতে এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে ন্যায়বিচার পাইয়ে দিতে এই রায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত