জমি কিনছে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬
  • ১১ বার
জমি কিনছে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ
প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত অত্যন্ত স্বনামধন্য ও শীর্ষস্থানীয় কনফেকশনারি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি তাদের ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক কার্যক্রমের পরিধি আরও বহুগুণ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এক সুদূরপ্রসারী ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সভায় নারায়ণগঞ্জের আশপাশের এলাকায় নতুন করে জমি কেনার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। দেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক বাজার এবং ভোক্তাদের বাড়তি চাহিদার কথা মাথায় রেখে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানিটির পর্ষদ। দেশের শীর্ষস্থানীয় এই শিল্প প্রতিষ্ঠানটি তাদের উৎপাদন ও বিপণন নেটওয়ার্ককে আরও সুদৃঢ় করার জন্য নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার একটি নির্দিষ্ট স্থানে শত শত শতাংশ জমি নিজেদের মালিকানাধীন করার উদ্যোগ নিয়েছে, যা আগামী দিনে তাদের কর্পোরেট প্রবৃদ্ধিতে এক নতুন ও শক্তিশালী মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন দেশের বিশিষ্ট শেয়ারবাজার ও অর্থনীতি বিশ্লেষকরা।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ বা ডিএসইর আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় বিস্তারিত প্রকাশ করে জানানো হয়েছে যে, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি নারায়ণগঞ্জের ঐতিহাসিক আড়াইহাজার থানার অন্তর্গত ব্রাহ্মন্দী-৩৭ মৌজায় মোট ১০২ শতাংশ জমি ক্রয়ের চুক্তি সম্পন্ন করেছে। সুনির্দিষ্ট এই বিশাল পরিমাণ জমি কেনার জন্য সর্বমোট ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে দুই কোটি ঊনত্রিশ লাখ ৫০ হাজার টাকা। দেশের প্রচলিত আইন ও নিয়মকানুন সম্পূর্ণভাবে মেনে কোম্পানির নিজ নামেই এই জমি রেজিস্ট্রি ও ক্রয় করা হবে। জানা গেছে, স্থানীয় জমিদাতা জামান মিয়া, মো. মনিরুজ্জামান ভূঁইয়া এবং তাদের অন্যান্য অংশীদারদের কাছ থেকে এই জমিগুলো ক্রয় করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে কোম্পানির কনফেকশনারি পণ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, আধুনিক গুদামঘর নির্মাণ, নতুন কারখানা স্থাপন এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও স্থাপনা তৈরির কাজে এই জমি সম্পূর্ণভাবে ব্যবহার করা হবে। তাছাড়া জমি নিবন্ধনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে সরকারের নির্ধারিত ভ্যাট, আয়কর, রেজিস্ট্রেশন ফি এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক সকল খরচ অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ কর্তৃপক্ষ নিজেরাই বহন করবে বলে পরিষ্কারভাবে জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, বর্তমান বছরের শুরু থেকেই নিজেদের ব্যবসায়িক পরিধি বাড়ানোর জন্য ধারাবাহিকভাবে জমি অধিগ্রহণ করে চলেছে এই শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিটি। এর আগে চলতি বছরেই নারায়ণগঞ্জের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত বন্দর থানার মদনপুরে সাড়ে উনিশ শতাংশ জমি কিনেছিল অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ। সে সময় সেই জমির মোট ক্রয়মূল্য পরিশোধ করা হয়েছিল পৌনে আটান্ন লাখ টাকা। একের পর এক এমন কৌশলগত জমি ক্রয়ের মাধ্যমে কোম্পানিটি নিজেদের কর্পোরেট সম্পদ বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ উৎপাদনের শক্ত ভিত্তি তৈরি করে চলেছে। ব্যবসা সম্প্রসারণের এই ধারাবাহিক ঘোষণা এবং ইতিবাচক বাণিজ্যিক পদক্ষেপগুলোর সুদূরপ্রসারী প্রভাব সরাসরি পড়েছে দেশের প্রধান শেয়ারবাজারে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে এই খবর প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের ইতিবাচক উন্মাদনা লক্ষ্য করা গেছে, যার ফলে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সপ্তাহের এই কর্মদিবসে কোম্পানিটির শেয়ারের সর্বোচ্চ মূল্য ১৫৪ টাকা এবং সর্বনিম্ন মূল্য ১৫২ টাকা ৯০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে, যা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
দেশের বিনিয়োগকারী মহলে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ একটি চমৎকার আর্থিক ভিত্তির বা ‘এ’ শ্রেণিভুক্ত কোম্পানি হিসেবে অত্যন্ত সুপরিচিত, যা ১৯৮৯ সাল থেকেই শেয়ারবাজারে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। বাংলাদেশের বিস্কুট এবং কনফেকশনারি পণ্যের বিশাল বাজারের সিংহভাগ অংশ জুড়েই রয়েছে এই প্রতিষ্ঠানের নিরঙ্কুশ আধিপত্য। বাজারের সাধারণ ভোক্তা থেকে শুরু করে সব শ্রেণির মানুষের কাছে অত্যন্ত সুপরিচিত ও জনপ্রিয় কিছু ব্র্যান্ডের পণ্য উপহার দিয়ে আসছে এই কোম্পানিটি। এর মধ্যে অত্যন্ত সুস্বাদু এনার্জি বিস্কুট, নাটি বিস্কুট, জনপ্রিয় টিপ বিস্কুট, লেক্সাসসহ বিভিন্ন বৈচিত্র্যময় ব্র্যান্ডের বিস্কুট এবং মানসম্মত ব্যাটারি উৎপাদনের মাধ্যমে তারা দেশের বাজারের পাশাপাশি ক্রেতাদের মন জয় করে নিয়েছে। কোম্পানির সর্বশেষ প্রকাশিত অনিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী থেকে জানা যায়, গত অর্থবছরের প্রথম নয় মাসের কার্যক্রমে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় বা ইপিএস দাঁড়িয়েছে ৭ টাকা ৪১ পয়সা, যা এর আগের অর্থাৎ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ছিল ১০ টাকা ৬ পয়সা। শুধু তাই নয়, বিনিয়োগকারীদের প্রতি নিজেদের আস্থার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে কোম্পানিটি অতীতেও লোভনীয় লভ্যাংশ প্রদান করেছে, যার মধ্যে রয়েছে ২০২৫ সালে ৩০ শতাংশ, ২০২৪ সালে ১০ শতাংশ এবং ২০২৩ সালে আকর্ষণীয় ৬০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ।
বর্তমানে দেশের পুঁজিবাজারে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের মোট শেয়ারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৯ কোটি ৯৯ লাখ ৩৮ হাজার ৮৮৬টিতে। গত জুলাই মাসের শেষ পর্যন্ত প্রস্তুতকৃত তথ্য অনুযায়ী, এই বিপুল পরিমাণ শেয়ারের একটি শক্তিশালী অংশ কোম্পানির নিজের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এর মধ্যে কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে রয়েছে মোট ৩৭ দশমিক ৩৮ শতাংশ শেয়ার, যা প্রতিষ্ঠানের মালিকানা ও ব্যবস্থাপনার স্থিতিশীলতা নির্দেশ করে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে কোম্পানির ২২ দশমিক ৮৫ শতাংশ শেয়ার, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের পোর্টফোলিওতে রয়েছে ২৭ দশমিক ৫১ শতাংশ শেয়ার এবং বাকি ১২ দশমিক ২৬ শতাংশ শেয়ার অত্যন্ত আস্থার সঙ্গে ধরে রেখেছেন সাধারণ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা। সার্বিক এই চিত্র প্রমাণ করে যে, দেশের কর্পোরেট খাতের অন্যতম নির্ভরযোগ্য একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ তাদের ব্যবসার ধারাবাহিকতা এবং সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অত্যন্ত সফলভাবে এগিয়ে চলেছে। আড়াইহাজারে নতুন করে জমি কেনার এই উদ্যোগ কেবল কোম্পানিটির উৎপাদন ক্ষমতাকেই বহুগুণ বাড়াবে না, বরং বাংলাদেশের সামগ্রিক শিল্পায়ন এবং অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাতেও এটি একটি সুদূরপ্রসারী ও ইতিবাচক অবদান রাখবে বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত