বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষিত বেকার তৈরির কারখানা: ছাত্রশিবির সভাপতি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩২ বার
বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষিত বেকার তৈরির কারখানা: ছাত্রশিবির সভাপতি
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা এবং এর সামগ্রিক কাঠামোগত দুর্বলতা নিয়ে এক অত্যন্ত কঠোর ও বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। তার মতে, দেশের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা মূলত চাকরিপ্রত্যাশী ও বেকার সমস্যা দূর করার ক্ষেত্রে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। এর ফলে দেশের স্বনামধন্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ক্রমান্বয়ে একেকটি শিক্ষিত বেকার তৈরির কারখানায় পরিণত হয়েছে। আজ দেশের মোট বেকারের বড় একটি অংশই বিভিন্ন পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিধারী তরুণ-তরুণী। দীর্ঘ মেয়াদে শিক্ষার যথাযথ মানোন্নয়ন এবং আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চা না থাকায় তরুণ সমাজ এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক দাসত্বে আবদ্ধ হয়ে পড়ছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জ্ঞান ও গবেষণার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে অনেক পিছিয়ে রয়েছে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।
সম্প্রতি খুলনার নগরীর শহিদ আমিনুল ইসলাম বিমান মিলনায়তনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, খুলনা মহানগর শাখার উদ্যোগে এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে জিপিএ-৫ অর্জনকারী কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়ার উদ্দেশ্যে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির আসন অলংকৃত করে তিনি এসব কথা বলেন। খুলনা মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি রাকিব হাসান সাহেবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জমকালো সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নগরীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অংশগ্রহণকারী প্রায় দুই শতাধিক কৃতি শিক্ষার্থীকে অত্যন্ত উৎসাহ ও উদ্দীপনার সঙ্গে তাৎক্ষণিক সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর খুলনা মহানগর আমির মাহফুজুর রহমান। মেধাবী তরুণদের এই মিলনমেলায় বক্তারা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার করুণ চিত্র এবং এর থেকে উত্তরণের উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানে দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করে ছাত্রশিবির সভাপতি বলেন, আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীরা অন্যান্য দেশের তুলনায় সবচেয়ে বেশি বেকারত্বের অভিশাপের মুখোমুখি হচ্ছে। এর পেছনে অন্যতম প্রধান ও মৌলিক কারণ হলো গবেষণাক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আর্থিক বরাদ্দ ও সুযোগ-সুবিধার চরম ঘাটতি। অপর্যাপ্ত বরাদ্দের কারণে শিক্ষার্থীরা আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানে নিজেদের উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে ব্যর্থ হচ্ছে এবং এর ফলেই দেশজুড়ে বেকারের সংখ্যা দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে বেড়েই চলেছে। এই সংকটজনক পরিস্থিতির তীব্রতা বোঝাতে গিয়ে তিনি সিঙ্গাপুরের উদাহরণ টেনে বলেন যে, ১৯৬৫ সালে স্বাধীন হওয়া এই ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্রটি নিজেদের শিক্ষা, মেধা ও দূরদর্শী পরিকল্পনার মাধ্যমে আজ বিশ্ব দরবারে ‘লিটল ড্রাগন’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। সিঙ্গাপুর থেকে উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষার্থীরা বিদেশে গেলে তারা পড়াশোনা শেষ করে নিজ দেশেই ফিরে আসে এবং দেশের উন্নয়নে নিজেদের উৎসর্গ করে। পক্ষান্তরে আমাদের দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীরা উন্নত শিক্ষার উদ্দেশ্যে বিদেশে গিয়ে আর কখনো ফিরে আসে না, যা মেধা পাচারের এক ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে। বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত ও ‘হাই টেকিং ইন্ডাস্ট্রিগুলো’ সিঙ্গাপুরে অবস্থিত হওয়ায় তাদের সামগ্রিক অর্থনীতি, উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা ও রাষ্ট্রব্যবস্থা আমাদের তুলনায় বহু গুণে এগিয়ে রয়েছে।
দেশের কর্মসংস্থান ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার কাঠামোগত ত্রুটি তুলে ধরে নুরুল ইসলাম সাদ্দাম আরও বলেন যে, আমাদের দেশে যেকোনো সরকারি বা মর্যাদাপূর্ণ চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে যোগ্যতার চেয়েও রাজনৈতিক পরিচয় বা দলীয় ব্যাকগ্রাউন্ডকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়। অথচ পৃথিবীর অন্যান্য উন্নত ও কল্যাণকামী রাষ্ট্রে দলীয় পরিচয় বা প্রভাবকে পাশ কাটিয়ে সম্পূর্ণ মেধা ও কোয়ালিটিকে মূল্যায়ন করে চাকরি প্রদান করা হয়। এমন বৈষম্যমূলক ও দলীয়করণকৃত নিয়োগ ব্যবস্থার কারণে দেশের প্রকৃত ও মেধাবী তরুণরা তাদের কাঙ্ক্ষিত কর্মসংস্থান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং সমাজে মেধার মূল্যায়ন না হওয়ার কারণে হতাশ হয়ে পড়ছে। শিক্ষাব্যবস্থায় এই ধরনের দীর্ঘমেয়াদী স্থবিরতা ও দুর্নীতির অভিশাপ দেশের সামগ্রিক অগ্রযাত্রাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন।
উক্ত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট নেতৃবৃন্দ আহমেদ সালেহীন, কামরুল হাসান, এস এম বেলাল হোসেন, আব্দুর রশিদ, ফারহান তূর্য, ইমরানুল হক, সেলিম বিন আব্দুস সালাম, আদনান মল্লিক যুবরাজ, কলেজ ও ছাত্র অধিকার সম্পাদক হযরত আলী, শিক্ষা ও মানবসম্পদ সম্পাদক হাফেজ মহিব্বুল্লাহ, ফাউন্ডেশন সম্পাদক হাবিবুল্লাহ রাজু, মাদ্রাসা কার্যক্রম সম্পাদক হাফেজ নাঈম হোসাইন, গবেষণা সম্পাদক হামজা, মিডিয়া ও আইটি সম্পাদক মোস্তফা কামাল, পাঠাগার ও সমাজসেবা সম্পাদক শিবলুর রহমান এবং ক্রীড়া সম্পাদক এহসানুল মাহবুব সাকিবের মতো দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠান পরিচালনায় বিশেষ ভূমিকা পালন করেন মহানগর সেক্রেটারি ইসরাফিল হোসেন। কৃতি শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার জন্য তাদের হাতে ফুল, মিষ্টি, সম্মাননা ক্রেস্টসহ বিভিন্ন আকর্ষণীয় উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়, যা উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক আনন্দের সৃষ্টি করে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত