নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে যুক্ত হচ্ছে আরও ৫০০ বেড

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৩ বার
নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে যুক্ত হচ্ছে আরও ৫০০ বেড
প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশের চিকিৎসা খাতে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করতে চলেছে স্নায়ুরোগ চিকিৎসাকেন্দ্র ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতাল। রাজধানী ঢাকার আগারগাঁও অবস্থিত এই বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে যুক্ত হচ্ছে আরও ৫০০ শয্যার অত্যাধুনিক নতুন একটি ভবন। এর ফলে এই হাসপাতালের মোট শয্যাসংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে এক হাজারে উন্নীত হবে, যা একে দেশের বৃহত্তম বিশেষায়িত স্নায়ুরোগ চিকিৎসাকেন্দ্রে রূপান্তর করবে। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই নবনির্মিত ১৫ তলা ভবনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সম্প্রসারিত চিকিৎসা সুবিধা চালুর ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত হাজার হাজার স্নায়ুরোগী ও স্ট্রোকের রোগীরা আরও উন্নত ও বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন, যা সাধারণ মানুষের চিকিৎসাবঞ্চিত হওয়ার দীর্ঘদিনের কষ্টের অবসান ঘটাতে সাহায্য করবে।
হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ সাধনা ও পরিকল্পনার পর এই নতুন ভবনের নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ শেষ হয়েছে এবং একই সঙ্গে অধিকাংশ আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপনের কাজও সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। নতুন এই ভবনটি ১৫ তলাবিশিষ্ট যার নিচের তিনটি তলা বেজমেন্ট হিসেবে বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে। বেজমেন্টগুলোতে পার্কিং এরিয়ার পাশাপাশি জরুরি সার্ভিস সেকশন রাখা হয়েছে। ভবনের ওপরের ১২ তলায় আধুনিক ওয়ার্ড, বিশ্বমানের অপারেশন থিয়েটার বা ওটি এবং সর্বাধুনিক ডায়াগনস্টিক ইউনিটের সুব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো, এই ভবনে যুক্ত হচ্ছে ৪০টি আইসিইউ বেড, ২৪টি পোস্ট-অপারেটিভ বেড এবং ১১২টি আরামদায়ক কেবিন। চিকিৎসকদের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, এই হাসপাতালে প্রতিদিন যে পরিমাণ রোগী আসেন তার একটি বড় অংশই স্ট্রোকের শিকার অথবা সড়ক দুর্ঘটনা বা অন্য কোনো কারণে মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত। নতুন এই শয্যা সংযোজিত হওয়ায় শয্যাসংকটের কারণে আর কোনো রোগীকে চিকিৎসা না নিয়ে ফেরত যেতে হবে না।
শুধু শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধিই নয়, বরং চিকিৎসা প্রযুক্তির দিক থেকেও এই নতুন ভবনটি অনন্য এক নজির স্থাপন করেছে। নবনির্মিত নিনস ইউনিট-২ ভবনটি সম্পূর্ণ সেন্ট্রাল এসি সিস্টেম বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত, যা দেশের যেকোনো সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রথম সংযোজন হিসেবে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। এছাড়া সড়ক দুর্ঘটনা, উঁচু স্থান থেকে পতন বা বিভিন্ন যানবাহন দুর্ঘটনায় আকস্মিক আহত রোগীদের জীবন বাঁচাতে ১০০ শয্যার একটি বিশেষায়িত ট্রমা ইউনিট চালু করা হয়েছে, যেখানে চব্বিশ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন অস্ত্রোপচার বা ওটি সুবিধা চালু থাকবে। এখানকার চারটি অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটারের মধ্যে দুটি মডুলার ওটি রয়েছে, যা জীবাণুমুক্ত এবং নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে অস্ত্রোপচারের জন্য বিশেষভাবে তৈরি। জার্মান প্রযুক্তির এসব অত্যাধুনিক ওটিতে সার্জারি চলাকালীন বা পরবর্তী সময়ে রোগীদের ইনফেকশন বা সংক্রমণের ঝুঁকি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসবে। সাধারণ সরকারি হাসপাতালের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে বিশ্বমানের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি একটি বিরাট অগ্রগতি।
রোগী স্থানান্তর ও চিকিৎসাসামগ্রীর সুরক্ষায়ও যুক্ত হয়েছে অভিনব সব প্রযুক্তিগত সুবিধা। সাধারণত পঙ্গু বা মাথায় মারাত্মক আঘাতপ্রাপ্ত রোগীদের এক ওয়ার্ড থেকে অন্য ওয়ার্ডে বা এক ফ্লোর থেকে অন্য ফ্লোরে নিরাপদে স্থানান্তর করা একটি বড় চ্যালেঞ্জিং কাজ। এই ঝুঁকি ও শারীরিক কষ্ট হ্রাসে নতুন হাসপাতাল ভবনটির এক ফ্লোর থেকে অন্য ফ্লোরে রোগী যাতায়াতের সুবিধার্থে এক থেকে তিনতলা পর্যন্ত বিশেষ স্কেলেটর বা চলন্ত সিঁড়ি স্থাপন করা হয়েছে, যা কোনো সরকারি হাসপাতালে প্রথম সংযোজন। এছাড়া এখানে রয়েছে ৪০ শয্যার আইসিইউ, ২০ শয্যার এইচডিইউ তথা নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র এবং ৬২টি কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস বা ভেন্টিলেটর সুবিধা। আধুনিক রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য একটি ক্যাথল্যাব, দুটি এমআরআই এবং দুটি সিটি স্ক্যান মেশিন বসানো হয়েছে। চিকিৎসা সরঞ্জাম জীবাণুমুক্ত করার জন্য অত্যাধুনিক অটোক্লেভ মেশিন, চিকিৎসা বর্জ্য বৈজ্ঞানিক উপায়ে অপসারণের জন্য সলিড ওয়েস্ট ডিসপোজাল সিস্টেম এবং নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসার স্বার্থে পৃথক অক্সিজেন প্লান্টের সুব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ নুরুজ্জামান খান এই অর্জনকে অত্যন্ত গর্বের বলে উল্লেখ করে জানান যে, শয্যাসংকটের কারণে অতীতে বহু গুরুতর রোগীকে ফেরত পাঠাতে বাধ্য হতে হতো, কিন্তু নতুন ভবন চালুর পর সেই অসহায় অবস্থার অবসান ঘটবে। উল্লেখ্য, দেশে নিউরো রোগীদের চিকিৎসাসেবার পরিধি বহুগুণ বৃদ্ধির সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য নিয়ে ২০০৬ সালের ২৩ অক্টোবর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে আজ এই প্রতিষ্ঠান দেশের স্নায়ুরোগ চিকিৎসার ভরসাস্থলে পরিণত হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্তৃক এই নতুন ভবন উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দেশের স্বাস্থ্য খাতে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন হতে যাচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত