শিক্ষার্থী বাড়লেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বাড়েনি বাস

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬
  • ৯ বার

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও সেই অনুপাতে বাড়েনি পরিবহন সুবিধা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৮টি বাসে আসন রয়েছে দুই হাজারের কিছু বেশি। বিপরীতে এসব বাসে নিয়মিত যাতায়াত করছেন পাঁচ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী। ফলে প্রতিদিন বাসে আসন পাওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হচ্ছে তীব্র প্রতিযোগিতা। অনেকে আসন না পেয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে যাতায়াত করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সাদিয়া (ছদ্মনাম) পরিবারের সঙ্গে নরসিংদীতে থাকেন। সকাল সাড়ে ৮টার ক্লাস ধরতে তাঁকে ভোর সাড়ে ৪টা থেকেই প্রস্তুতি নিতে হয়। ক্যাম্পাসের বাসে আসন পেতে তাঁকে প্রতিদিন আগেভাগে বাসে উঠতে হয়। তবু অনেক দিন তিন থেকে চার ঘণ্টা দাঁড়িয়েই যাতায়াত করতে হয়।

সাদিয়ার ভাষ্য, বাসের আসনের তুলনায় কখনও কখনও দ্বিগুণ শিক্ষার্থী বাসে দাঁড়িয়ে থাকেন। ক্যাম্পাসের বাসে জায়গা না পেলে লোকাল বাসে যাতায়াত ছাড়া বিকল্প থাকে না। তবে লোকাল বাসে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি হাফ ভাড়া নিয়েও বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।

আবাসিক হলের সংকটের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে থেকে আসা বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর জন্য ক্যাম্পাসের বাসই প্রধান যাতায়াতের মাধ্যম। কিন্তু শিক্ষার্থী বাড়ার সঙ্গে পরিবহন সুবিধা না বাড়ায় প্রতিদিনের যাতায়াত তাঁদের জন্য বাড়তি দুর্ভোগ তৈরি করছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের নভেম্বরে একটি একতলা বাস সংযোজনের পর শিক্ষার্থীদের জন্য আর নতুন কোনো বাস যুক্ত হয়নি। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন রুটে ৩৮টি বাস চলছে। অথচ শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে পাঁচ হাজারের বেশি হওয়ায় বিদ্যমান পরিবহন ব্যবস্থায় চাপ ক্রমেই বাড়ছে।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আফরিন প্রতিদিন গাজীপুর থেকে উল্কা-২ বাসে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াত করেন। তাঁর ভাষ্য, বাসটির আসন মাত্র ৫০টি হলেও প্রতিদিন শতাধিক শিক্ষার্থী এতে যাতায়াত করেন। যানজটের কারণে গাজীপুর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছাতেও কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে।

সুমাইয়া বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে জায়গা না পেলে তাঁকে লোকাল বাসে উঠতে হয়। সেখানে শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া নিয়ে প্রায়ই অসৌজন্যমূলক আচরণের মুখোমুখি হতে হয়।

শুধু গাজীপুর রুট নয়, অন্যান্য রুটেও একই ধরনের চিত্র দেখা যাচ্ছে। ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ফয়সাল আলম সুজন নারায়ণগঞ্জ থেকে স্বপ্নীল বাসে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন। তাঁর দাবি, বাসটির আসন ৫০ থেকে ৬০টির মধ্যে হলেও প্রতিদিন শতাধিক শিক্ষার্থী যাতায়াত করেন। অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে অনেক শিক্ষার্থীকে বাসের দরজায় ঝুলে যাতায়াত করতে হয়।

কুমিল্লা রুটের গোমতি বাসেও রয়েছে একই সমস্যা। ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের আইরিন সুলতানা জানান, তাঁদের রুটে মাত্র একটি বাস চলাচল করে। ফলে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর জন্য একটি বাস যথেষ্ট নয়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নির্বাচনি ইশতেহারে পরিবহন সুবিধা বাড়ানোর নানা প্রতিশ্রুতি থাকলেও তার বাস্তবায়ন দৃশ্যমান নয়। জকসুর পরিবহন সম্পাদক মোহাম্মদ মাহিদ হোসেন বলেন, কয়েকটি নতুন রুটে বাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ভাঙ্গা রুট অন্যতম। তবে প্রশাসনিক জটিলতা ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন না পাওয়ায় উদ্যোগটি এখনও বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

পরিবহন প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭টি রুটে একতলা এবং ১৩টি রুটে দোতলা বাস চলাচল করছে। দোতলা বাসগুলোর মধ্যে মাত্র একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব। বাকি বাসগুলো ভাড়ায় পরিচালিত হচ্ছে।

এ ছাড়া শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য ১৬টি রুটে বাস এবং আটটি রুটে শাটল বাস নিয়মিত চলাচল করছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক তারিক বিন আতিক বলেন, শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং ব্যস্ত রুটগুলোতে অতিরিক্ত চাপের কারণে নতুন বাস চালু করা প্রয়োজন। কিন্তু দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ না পাওয়ায় নতুন বাস কেনা সম্ভব হয়নি।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান উপাচার্যের উদ্যোগে প্রয়োজনীয় বাজেট পাওয়া গেলে পরিবহন সংকট অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্‌দীন জানান, পরিবহন সংকট নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কাছে আবেদন পাঠানো হয়েছে। চলতি অর্থবছরে নতুন বাস কেনার জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা করছেন।

শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত ও নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা এবং বাসের সক্ষমতার মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হয়েছে। ফলে নতুন বাস সংযোজনের পাশাপাশি ব্যস্ত রুটগুলোতে অতিরিক্ত বাস, সময়সূচি পুনর্বিন্যাস এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার উদ্যোগ জরুরি হয়ে উঠেছে।

বিস্তারিত জানতে আরো পড়ুন>> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত