ভোট বর্জনের ঘোষণা, তবু ভোট দিলেন ইসলামী আন্দোলনের এমপি

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬
  • ৮ বার

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছিল। তবে ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন দলটির একমাত্র সংসদ সদস্য (এমপি) মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট না দেওয়ার ঘোষণা দেয় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটির মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, জুলাই সনদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে যে ঐকমত্য হয়েছিল, তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় তারা নির্বাচনে ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকবে।

তবে পরে দলের একমাত্র এমপি মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেন। দলটির প্রচার সম্পাদক শেখ ফজলুল করিম মারুফ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ইসলামী আন্দোলনের এমপি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন।

দলীয় নেতাদের দাবি, দলের আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমের সিদ্ধান্তেই অলিউল্লাহ ভোট দিতে যান। ফলে একই দিনে দলটির ভোট বর্জনের ঘোষণা এবং সংসদ সদস্যের ভোট দেওয়ার ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার বিষয়ে দলটির মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান ও এমপি মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহর বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাঁরা সাড়া দেননি।

ইসলামী আন্দোলনের বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তার অন্যতম কারণ দলীয় রাষ্ট্রপতি। এই সংকট থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে বেশ কিছু বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

দলটির দাবি, জুলাই সনদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে যে নীতিতে ঐকমত্য হয়েছিল, সেটি অনুসরণ করা হয়নি। এ কারণে বর্তমান রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে তারা সমীচীন মনে করছে না।

বিবৃতিতে জুলাই সনদের ধারা-১০-এর উল্লেখ করে বলা হয়, সেখানে রাষ্ট্রপতি আইনসভার উভয় কক্ষের—উচ্চ ও নিম্নকক্ষের—সদস্যদের গোপন ভোটে নির্বাচিত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। ওই ধারায় বিএনপিও সম্মতি জানিয়েছিল বলে দাবি করে ইসলামী আন্দোলন।

এ ছাড়া ধারা-২৮-এর বিষয়ও বিবৃতিতে তুলে ধরা হয়। সেখানে জাতীয় সংসদে দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে অর্থ বিল ও আস্থা ভোট ছাড়া অন্যান্য বিষয়ে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

ইসলামী আন্দোলনের অভিযোগ, জুলাই সনদে ঐকমত্য হওয়া এসব বিষয় বাস্তবায়িত হচ্ছে না। দলটির ভাষায়, এটি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে ‘গাদ্দারি’।

তবে দলের একমাত্র সংসদ সদস্যের ভোট দেওয়ার ঘটনায় সেই অবস্থানের সঙ্গে বাস্তব রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের পার্থক্য স্পষ্ট হয়েছে। দলীয় নেতারা অবশ্য বলছেন, এমপি অলিউল্লাহ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে নয়, দলীয় আমিরের নির্দেশেই ভোট দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে ইসলামী আন্দোলনের এই অবস্থান পরিবর্তন রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, প্রথমে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়ে পরে দলের সংসদ সদস্যের ভোট দেওয়ায় দলীয় সিদ্ধান্ত ও সংসদীয় কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিস্তারিত জানতে আরো পড়ুন>> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত