দলীয় প্রভাবের অপব্যবহার: নেত্রকোনায় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মসজিদের টাকা আত্মসাৎ ও নানা অনিয়মের অভিযোগ

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৭ আগস্ট, ২০২৫
  • ৭০ বার

প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৫। নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা উপজেলায় মসজিদের অনুদান ও দানকৃত অর্থ আত্মসাৎ, সড়কের ইটের খোয়া লুট, নদীর আয় গোপন, জমি দখল ও স্থানীয়দের ওপর চাঁদাবাজির অভিযোগে ইউনিয়ন বিএনপি’র এক নেতার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি সিংধা ইউনিয়ন বিএনপির সহ-মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক নুরুল ইসলাম টিপন মিয়া (৫০)। তিনি একই ইউনিয়নের মল্লিকপুর গ্রামের মাঝপাড়ার মৃত হাজী আব্দুল করিম ওরফে চান্দু মিয়ার ছেলে।

স্থানীয় এলাকাবাসী এবং দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দলীয় প্রভাব খাটিয়ে মল্লিকপুর মাঝপাড়া জামে মসজিদের সভাপতির পদ দখল করেন টিপন মিয়া। এরপর থেকেই মসজিদের দান ও অনুদানের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া গ্রামের লিজকৃত একটি বড় পুকুর, যেটি প্রতিবছর প্রায় তিন লাখ টাকায় লিজ দেয়া হতো, সেটি নিজের নামে লিজ নিয়ে টাকা পরিশোধ না করেই ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। মসজিদের কোনো আয়-ব্যয়ের হিসেব প্রকাশ না করায় কমিটির অন্যান্য সদস্যরাও বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

শুধু মসজিদের অর্থ নয়, সম্প্রতি একটি নির্মাণাধীন সড়কের ইটের খোয়া লুট করারও অভিযোগ উঠেছে টিপনের বিরুদ্ধে। এ ছাড়াও ইউনিয়নের লিজকৃত নদী থেকে প্রাপ্ত অর্থ স্থানীয়দের মধ্যে ভাগ না দিয়ে সম্পূর্ণ অর্থ আত্মসাৎ করার বিষয়টিও সামনে এসেছে।

অভিযোগকারী স্থানীয়রা জানান, টিপন মিয়া রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে নানা অনিয়ম ও হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন। মল্লিকপুর গ্রামের বাসিন্দারা একাধিকবার তার বিরুদ্ধে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। এ প্রেক্ষিতে উপজেলা বিএনপি থেকে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়।

টিপনের ছোট ভাই মো. রুকন মিয়া বলেন, “আমার ১৪০ শতক জমি জোর করে দখল করে রেখেছে টিপন। জমিতে চাষাবাদ করতে পারছি না। বারবার চাঁদা দাবি করছে। না দিলে জমি ছাড়বে না বলে হুমকি দিচ্ছে।”

মসজিদ কমিটির বর্তমান সভাপতি নিজাম উদ্দিন জানান, “টিপন নিজে নামাজ না পড়লেও মসজিদের সভাপতির পদ দখল করেন। এরপর থেকেই পুকুর লিজের টাকা বা দানের টাকার কোনো হিসেব আমাদের দেওয়া হয়নি।”

সিংধা ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক আজহারুল ইসলাম ইনচান বলেন, “দলের নাম ভাঙিয়ে এমন কোনো অপকর্ম নাই যা টিপন করেনি। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। আমরা আশা করি দল তার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে নুরুল ইসলাম টিপনের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিক আহমেদ কমল বলেন, “আমরা তার বিরুদ্ধে মসজিদের টাকা আত্মসাৎ, নদীর আয়ের অর্থ আত্মসাৎ, সড়কের খোয়া লুট, জমি দখল ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ পেয়েছি। তাই তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়েছে। তার জবাব পাওয়ার পর যথাযথ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, “দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে কেউ পার পাবে না। দলকে যারা কলঙ্কিত করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

উল্লেখযোগ্য যে, ২০২১ সালে টিপন মিয়া তার বাবা হাজী আব্দুল করিমকে অতিরিক্ত জমি লিখে না দেওয়ায় পিটিয়ে আহত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় তার বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন।

স্থানীয়দের মতে, এমন একটি ধর্মীয় ও সামাজিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই ধরনের গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ শুধু ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতই নয়, রাজনৈতিক নৈতিকতার দিক থেকেও এক গভীর সংকেত। এখন দেখার বিষয়, অভিযুক্ত নেতা বিরুদ্ধে দলে এবং আইনের আওতায় কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত