প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
নতুন ৩৩ কেভি লাইনের তারকরণ ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কারণে আজ শনিবার (২২ আগস্ট) নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার কয়েকটি এলাকায় টানা ১১ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকার কথা রয়েছে।
বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের এই কর্মসূচির কারণে বড়াইগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের দৈনন্দিন কাজে সাময়িক ভোগান্তিতে পড়তে হতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় বাসাবাড়ির স্বাভাবিক কার্যক্রম, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, ছোট শিল্প ও সেবামূলক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটতে পারে। তবে নতুন ৩৩ কেভি লাইনের কাজ সম্পন্ন ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণের স্বার্থে এ সাময়িক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ বুধবার (১৯ আগস্ট) এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নতুন ৩৩ কেভি লাইনের তারকরণ ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য বড়াইগ্রাম-১ (বনপাড়া) উপকেন্দ্রের নির্দিষ্ট কয়েকটি ফিডারের আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হবে। নির্ধারিত কাজ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার জন্য এই সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বড়াইগ্রাম-১ (বনপাড়া) উপকেন্দ্রের ৬ ও ৭ নম্বর এবং ৮ নম্বর ফিডারের আংশিক আওতাধীন এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে বনপাড়া ফজলিতলা, আহম্মেদপুর বাজার, পার আহম্মেদপুর, খৌদ্দকাচুটিয়া, বৃ-কাচুটিয়া, কেচুয়াকোড়া, বালিয়া, ধানুড়া আংশিক, কলাকান্ত নগর, কায়েমকোলা, কুমরুল, রামাগাড়ি, কামারদহ, নওপাড়া, কালিকাপুরের আংশিক এলাকা, আটঘরিয়া এবং বড়বড়িয়া।
এই বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য আগে থেকেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, বৈদ্যুতিক ফ্যান, পানির পাম্প কিংবা অন্যান্য প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে যেসব পরিবার বৈদ্যুতিক মোটরের মাধ্যমে পানি সংগ্রহ করে, তাদের জন্য সকালে বিদ্যুৎ বন্ধ হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় পানি সংরক্ষণ করে রাখা সুবিধাজনক হতে পারে।
ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রেও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকার প্রভাব পড়তে পারে। আহম্মেদপুর বাজারসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার দোকানপাট, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহারে সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেসব ব্যবসা সরাসরি বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল, তাদের কার্যক্রম সাময়িকভাবে সীমিত হতে পারে। ফলে স্থানীয় ব্যবসায়ীদেরও বিদ্যুৎ বন্ধের নির্ধারিত সময় বিবেচনায় রেখে দিনের কার্যক্রম পরিকল্পনা করতে হবে।
দীর্ঘ সময়ের বিদ্যুৎ বিভ্রাট সাধারণ মানুষের কাছে স্বস্তিকর না হলেও বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থার উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নির্দিষ্ট সময়ের এমন সরবরাহ বন্ধ অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে। নতুন লাইন স্থাপন, তারকরণ, পুরোনো অবকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিরাপত্তাজনিত কাজ বিদ্যুৎ চালু রেখে করা সবসময় সম্ভব হয় না। সংশ্লিষ্ট কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও অনেক সময় নির্দিষ্ট এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়।
নতুন ৩৩ কেভি লাইনের তারকরণ ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার সক্ষমতা ও নির্ভরযোগ্যতা বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে। নতুন অবকাঠামো সঠিকভাবে স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ করা গেলে ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তা ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে বৈদ্যুতিক ত্রুটি ও অনাকাঙ্ক্ষিত বিভ্রাটের ঝুঁকিও কমানো সম্ভব।
তবে কাজের সময়সূচি নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্থানীয় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় গরমের মধ্যে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের বাড়তি সমস্যায় পড়তে হতে পারে। ঘরে বিদ্যুৎচালিত পাখা বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা না থাকলে দীর্ঘ সময় গরমে থাকতে হবে। একই সঙ্গে পানি সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোর জন্যও বাড়তি প্রস্তুতির প্রয়োজন হতে পারে।
বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকার সময় বাস্তব পরিস্থিতির কারণে কিছুটা কম-বেশি হতে পারে বলেও জানিয়েছে নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২। অর্থাৎ নির্ধারিত সময় সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত হলেও কাজের অগ্রগতি, কারিগরি পরিস্থিতি বা অন্যান্য বাস্তব কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ নির্ধারিত সময়ের আগে চালু হতে পারে অথবা প্রয়োজন হলে কিছুটা সময় বাড়তেও পারে। তাই সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের পুরো সময়টিকে বিবেচনায় রেখে প্রস্তুত থাকার পরামর্শ রয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে পারেন ছোট ব্যবসায়ী ও দৈনিক আয়ের সঙ্গে যুক্ত মানুষ। কোনো কোনো দোকান বা কর্মশালা বিদ্যুৎ ছাড়া সীমিতভাবে চলতে পারে, আবার কিছু ব্যবসা পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হতে পারে। দীর্ঘ সময় দোকান বন্ধ থাকলে বিক্রয় কমে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে। তবে সাময়িক এই অসুবিধার বিনিময়ে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন হলে ভবিষ্যতে এর সুফল সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষই পাবেন।
শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও বিদ্যুৎ বন্ধের প্রভাব পড়তে পারে। অনলাইন ক্লাস, কম্পিউটার ব্যবহার কিংবা বৈদ্যুতিক আলো-ফ্যানের ওপর নির্ভরশীল পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটতে পারে। বিশেষ করে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দিনের পড়াশোনার সময়সূচি কিছুটা পরিবর্তন করতে হতে পারে।
এদিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের কারণে হাসপাতাল, ক্লিনিক, ফার্মেসি বা জরুরি সেবার কোনো কার্যক্রম যাতে অপ্রয়োজনে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়েও স্থানীয় পর্যায়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। জরুরি বিদ্যুৎ প্রয়োজন এমন প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত বিকল্প ব্যবস্থা, জেনারেটর বা ব্যাকআপ বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আগে থেকেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার যেসব এলাকায় আজ বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে, সেসব এলাকার মানুষের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সময়সূচি সম্পর্কে আগে থেকে অবগত থাকা। সকাল ৭টার আগে প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক কাজ সম্পন্ন করা, মোবাইল ও জরুরি ডিভাইস চার্জ করে রাখা, পর্যাপ্ত পানি সংরক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় দৈনন্দিন কাজ আগেভাগে শেষ করে রাখলে ভোগান্তি কিছুটা কমানো সম্ভব।
বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে যাতে বিভ্রান্তি তৈরি না হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ঘোষিত সময়সূচি অনুসরণ করাই গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে কাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপদ ও স্বাভাবিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালুর বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখার প্রয়োজন রয়েছে।
বিদ্যুৎ একটি আধুনিক জীবনের অপরিহার্য অবকাঠামো। ঘরের আলো থেকে শুরু করে পানি সরবরাহ, যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসা—প্রায় সব ক্ষেত্রেই এর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। ফলে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় চাপ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু অবকাঠামো উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজও দীর্ঘমেয়াদে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য।
আজকের নির্ধারিত কর্মসূচির কারণে বনপাড়া ও আশপাশের সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের সাময়িক অসুবিধার মুখোমুখি হতে হবে। নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এ জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং বাস্তব কাজের কারণে বিদ্যুৎ বন্ধের সময় কিছুটা কম-বেশি হতে পারে বলে জানিয়েছে। তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকার বিষয়টি মাথায় রেখে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষকে দিনের প্রয়োজনীয় কাজ পরিকল্পনা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
নতুন ৩৩ কেভি লাইনের তারকরণ ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শেষ হলে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত উন্নতি আসবে—এমন প্রত্যাশাই স্থানীয়দের। সাময়িক ভোগান্তি পেরিয়ে আরও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করাই শেষ পর্যন্ত এই ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য।