টঙ্গীতে ড্রেনে পড়ে ওষুধ প্রতিনিধি নারীর মৃত্যু: গাফিলতিতে তদন্তের দাবি, ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে রিট

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৭ আগস্ট, ২০২৫
  • ৮২ বার

প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

গাজীপুরের টঙ্গীতে খোলা ড্রেনে পড়ে কর্মজীবী এক নারীর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় নগর কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে, যা সারা দেশে জনমনে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। দুর্ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহের মাথায় হাইকোর্টে দায়ীদের শাস্তি এবং ক্ষতিপূরণের দাবিতে একটি রিট আবেদন দাখিল করা হয়েছে, যেখানে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠনেরও নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

রিটটি দায়ের করেছেন সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ আইনজীবী — অ্যাডভোকেট আজিমুদ্দিন পাটোয়ারী, অ্যাডভোকেট নাদিম মাহমুদ, অ্যাডভোকেট ইয়াছিন আলফাজ, অ্যাডভোকেট মো. শফিকুল ইসলাম ও অ্যাডভোকেট রবি হোসেন। তাদের পক্ষে বলা হয়েছে, এ ধরনের দুর্ঘটনা শুধুমাত্র দুর্ঘটনা নয়, বরং এটি নগর পরিচালনায় চরম অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার নির্মম প্রতিফলন। তাই এ ঘটনায় দায়ীদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনার পাশাপাশি, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর না ঘটে, সেজন্য একটি শক্তিশালী তদন্ত কমিটি গঠন জরুরি।

রিট আবেদনে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের আওতায় কতগুলো খোলা স্যুয়ারেজ লাইন, ম্যানহোল, ড্রেন এবং নলকূপ রয়েছে তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা আদালতে দাখিলের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধার তৎপরতায় ব্যবহারের জন্য ফায়ার সার্ভিস ও সিটি করপোরেশনের কাছে কী ধরনের আধুনিক সরঞ্জাম আছে, তা জানতেও নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে নিহত ফারিয়া তাসনিম জ্যোতির পরিবারকে পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ কেন প্রদান করা হবে না—এই মর্মে রুল জারির অনুরোধ জানানো হয়েছে রিটে।

রিটে বিবাদী করা হয়েছে গাজীপুর সিটি করপোরেশন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশের মহাপরিদর্শক, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট বেসরকারি নির্মাণ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মনি ট্রেডিং কর্পোরেশনকে।

হাইকোর্টের বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং বিচারপতি সৈয়দ জাহেদ মনসুরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে রিটের শুনানি আগামী সপ্তাহে হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৭ জুলাই রাতে টঙ্গীর হোসেন মার্কেট এলাকায় একটি খোলা ড্রেনে পড়ে যান ফারিয়া তাসনিম ওরফে জ্যোতি (৩২)। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় জানা যায়, হাসপাতালের সামনের মহাসড়কের পাশে অবস্থিত ড্রেনটির উপর দীর্ঘদিন ধরে কোনো ঢাকনা ছিল না এবং সেখানে কোনো ধরনের সতর্কতামূলক সাইনবোর্ডও ছিল না। ঘটনার দিন রাতে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে অসাবধানতাবশত তিনি ড্রেনে পড়ে যান এবং প্রবল পানির স্রোতে ভেসে যান।

দুই দিন ধরে চলে তার খোঁজার চেষ্টা। অবশেষে ২৯ জুলাই সকালে টঙ্গীর শালিকচূড়া বিল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে গাজীপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিটি করপোরেশনের উদ্ধারকারী দল। জানা গেছে, ড্রেনটির পানি সরাসরি গিয়ে পড়তো শালিকচূড়া বিলে, যেখান থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত ফারিয়া তাসনিম চুয়াডাঙ্গা সদর থানার বাগানপাড়া এলাকার বাসিন্দা ওয়াসিম উল্লাহ আহমেদের মেয়ে। তিনি টঙ্গীর ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

এ ঘটনা আবারও নগর ব্যবস্থাপনার চরম গাফিলতি ও দায়িত্বহীনতার নগ্ন চিত্র সামনে নিয়ে এসেছে। বহু সময় ধরেই গাজীপুরসহ দেশের বড় শহরগুলোতে খোলা ড্রেন, ম্যানহোল কিংবা নির্মাণাধীন সড়কের পাশে অরক্ষিত খোঁড়াখুঁড়ির কারণে সাধারণ মানুষ দুর্ঘটনার শিকার হয়ে আসছে। কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাব ও দায় এড়ানোর প্রবণতা এর পেছনে বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে নগর পরিকল্পনাবিদ ও নাগরিক সমাজ মত দিচ্ছে।

এই ঘটনার সুবাদে হাইকোর্টে রিট আবেদন এবং ক্ষতিপূরণের দাবি শুধু একটি মৃত্যুর বিচার নয়, বরং সামগ্রিকভাবে নগর ব্যবস্থাপনাকে আরও দায়িত্বশীল ও মানবিক করার এক কঠিন বাস্তবতা তুলে ধরেছে। এখন দেখার বিষয়, এই মামলার শুনানির পর রাষ্ট্র ও নগর কর্তৃপক্ষ কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে কতটা আন্তরিকভাবে দাঁড়ায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত