গোয়েন্দা সতর্কতা উপেক্ষা, নেতানিয়াহুর পরামর্শে ইরানে ট্রাম্পের হামলা

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬
  • ১০ বার

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর গোয়েন্দা প্রধান, ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং শীর্ষ সামরিক উপদেষ্টাদের সতর্কতা উপেক্ষা করেই গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেছিলেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল (ডব্লিউএসজে)। যুদ্ধ শুরুর আগে উপদেষ্টারা সতর্ক করেছিলেন, ইরানে হামলা দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট এবং দেশটিতে আরও কট্টরপন্থি নেতৃত্বের উত্থানের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

যুদ্ধ-পূর্ববর্তী বৈঠকের বিষয়ে অবগত ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে ডব্লিউএসজে জানায়, তৎকালীন ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স ডিরেক্টর তুলসী গ্যাবার্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করেছিলেন যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করা হলে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে আরও কট্টরপন্থি কোনো নেতা ক্ষমতায় আসতে পারেন। এমন পরিস্থিতিতে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত জলপথ। বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে সেখানে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছিলেন মার্কিন কর্মকর্তারা।

ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও সামরিক সংঘাতের পরিবর্তে কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পক্ষে ছিলেন। তাঁর যুক্তি ছিল, একটি কূটনৈতিক সমঝোতার ব্যয় ও ঝুঁকি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের সম্ভাব্য পরিণতির তুলনায় অনেক কম।

শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারাও ট্রাম্পকে হামলার বিভিন্ন বিকল্প সম্পর্কে অবহিত করেছিলেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনসহ কর্মকর্তারা সামরিক পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। তবে একই সময়ে কিছু কর্মকর্তা পর্যাপ্ত গোলাবারুদের ঘাটতি এবং অতিরিক্ত চাপের মধ্যে থাকা মার্কিন বাহিনীর সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব সতর্কতা ট্রাম্পকে সিদ্ধান্ত থেকে সরাতে পারেনি। তিনি মনে করেছিলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী যেকোনো পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্ষম।

শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পরামর্শে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলার নির্দেশ দেন ট্রাম্প। যুদ্ধ শুরুর সময় তিনি ছয় সপ্তাহের মধ্যে সংঘাত শেষ করার প্রত্যাশা জানিয়েছিলেন। কিন্তু ডব্লিউএসজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘাত প্রায় ছয় মাস ধরে চলছে এবং এর সমাপ্তির বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো ইঙ্গিত নেই।

যুদ্ধের শুরুতে ট্রাম্প সামরিক অভিযানের ফলাফল নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মার-এ-লাগোতে একটি তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তিনি প্রকাশ্যে গর্ব প্রকাশ করেছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।

তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে যুদ্ধের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ বাড়তে থাকে। জ্বালানির দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় সৌদি আরব ও কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের নেতারা হোয়াইট হাউসকে কূটনৈতিক সমাধানের দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ জনমতও যুদ্ধের পক্ষে ছিল না বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। জরিপের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৮০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক সংঘাতের অবসানে একটি চুক্তির পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাম্প জুনে একটি অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতির দিকে এগিয়ে যান।

দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত নিয়ে রিপাবলিকান দলের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়। দলের কয়েকজন নেতা ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের রাজনৈতিক সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

ফলে ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত শুধু সামরিক দিক থেকেই নয়, এর কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রভাব নিয়েও ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি করেছিল বলে ডব্লিউএসজের প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

বিস্তারিত জানতে আরো পড়ুন>> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত