প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির দলীয় মনোনয়নপত্র বিক্রি শুরু হচ্ছে আজ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর)। দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের এই প্রক্রিয়াকে ঘিরে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে এরই মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সক্রিয়তা, সাংগঠনিক ভূমিকা এবং এলাকায় জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে কার হাতে দলীয় প্রতীক তুলে দেওয়া হবে—এখন সেই সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় দলটির স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা।
বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা যাবে। মনোনয়নপ্রত্যাশীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে যথাযথভাবে পূরণ করতে হবে। পূরণ করা মনোনয়নপত্র আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় দপ্তর শাখায় জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
দলীয় মনোনয়নপ্রক্রিয়ার পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হবে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় বিএনপি চেয়ারম্যানের গুলশান কার্যালয়ে মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতাকর্মীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হবে। ওই সাক্ষাৎকার ও দলীয় মূল্যায়নের পর চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে বলে দলীয় বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী কে হচ্ছেন, তা নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতোমধ্যে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের রাজনৈতিক পরিচিতি, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং নির্বাচনী মাঠে গ্রহণযোগ্যতা—এসব বিষয় দলীয় মনোনয়ন বিবেচনায় গুরুত্ব পেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে দলীয় সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য কোনো নামকেই চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
এদিকে নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী উপনির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়াও এগিয়ে চলছে। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ২৯ সেপ্টেম্বর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ৭ অক্টোবর। এরপর ৮ অক্টোবর প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। সবশেষে আগামী ২৯ অক্টোবর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
নির্বাচনের এই সময়সূচি সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রস্তুতিও বাড়ছে। বিশেষ করে বিএনপির মতো বড় রাজনৈতিক দলের প্রার্থী নির্বাচন স্থানীয় নির্বাচনী সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার পরই প্রচার, সাংগঠনিক তৎপরতা এবং ভোটারদের কাছে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার কার্যক্রম আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য হওয়ার পেছনেও রয়েছে দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বিএনপির সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় গত ২০ আগস্ট আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। এর ফলে সাংবিধানিক ও নির্বাচনী বিধান অনুযায়ী আসনটিতে উপনির্বাচনের প্রয়োজন দেখা দেয়।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দীর্ঘদিন ধরে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের রাজনীতিতে বিএনপির অন্যতম প্রধান মুখ ছিলেন। তার নির্বাচনী এলাকার সঙ্গে দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। ফলে তার পদত্যাগের পর আসনটি শূন্য হওয়া এবং সেখানে নতুন প্রতিনিধি নির্বাচনের বিষয়টি স্থানীয় রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এবার বিএনপির নতুন প্রার্থী কে হচ্ছেন, তা নিয়ে দলটির তৃণমূল পর্যায়েও ব্যাপক কৌতূহল রয়েছে।
স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপির রাজনীতিতে একাধিক নেতা মনোনয়নপ্রত্যাশী হতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে। এর ফলে দলীয় মনোনয়ন ঘিরে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব শেষ পর্যন্ত কাকে বেছে নেয়, সেটিই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকারের পর কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, উপনির্বাচনে দলীয় প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে শুধু ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা নয়, নির্বাচনী এলাকায় সাংগঠনিক সক্ষমতা, তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয়, সাধারণ ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে মাঠ পরিচালনার সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে উপনির্বাচনের সময়সীমা তুলনামূলকভাবে সংক্ষিপ্ত হওয়ায় প্রার্থীকে দ্রুত সংগঠনকে সক্রিয় করে ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হতে হবে।
মনোনয়নপত্র বিক্রি শুরুর মধ্য দিয়ে বিএনপির নির্বাচনী কার্যক্রম এখন আনুষ্ঠানিক রূপ পাচ্ছে। আজ যারা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করবেন, তাদের মধ্য থেকেই দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের একটি তালিকা তৈরি হবে। এরপর মনোনয়নপত্র জমা ও যাচাইয়ের পাশাপাশি প্রার্থীদের রাজনৈতিক অবস্থান এবং সাংগঠনিক সক্ষমতা নিয়ে দলীয়ভাবে মূল্যায়ন করা হবে।
আগামী ১৮ সেপ্টেম্বরের সাক্ষাৎকারকে তাই বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ওই সাক্ষাৎকারে প্রার্থীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, এলাকায় অবস্থান, সাংগঠনিক ভূমিকা এবং নির্বাচনী প্রস্তুতি সম্পর্কে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ থাকবে। সাক্ষাৎকার শেষে দলীয় সিদ্ধান্ত জানানো হলে নির্বাচনী মাঠে বিএনপির প্রার্থীকে ঘিরে আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি আরও জোরদার হবে।
অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ২৭ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা থাকায় দলগুলোর হাতে প্রস্তুতির জন্য খুব বেশি সময় নেই। ২৯ সেপ্টেম্বর বাছাইয়ের পর ৭ অক্টোবর পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ থাকবে। ৮ অক্টোবর প্রতীক বরাদ্দের পর শুরু হবে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়। এরপর ২৯ অক্টোবর ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
একটি আসনের উপনির্বাচন হলেও ঠাকুরগাঁও-১-এর নির্বাচন স্থানীয় রাজনীতিতে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। কারণ, দীর্ঘদিনের পরিচিত রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরিবর্তনের পর নতুন একজন প্রতিনিধি নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। ফলে ভোটারদের প্রত্যাশাও থাকবে নতুন প্রতিনিধিকে ঘিরে। এলাকার উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থা, কর্মসংস্থান, কৃষি ও স্থানীয় অর্থনীতির বিভিন্ন বিষয় নির্বাচনী আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে।
বিএনপির জন্যও এই উপনির্বাচন দলীয় সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার পর তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনী মাঠে নামানো, অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতা কমিয়ে প্রার্থীর পক্ষে সমন্বিত প্রচার চালানো এবং সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ গড়ে তোলাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ।
সব মিলিয়ে আজ মনোনয়নপত্র বিক্রির মধ্য দিয়ে ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী বাছাইয়ের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর সাক্ষাৎকারের পর দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত হলে নির্বাচনের মাঠে নতুন সমীকরণ তৈরি হবে। এরপর নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী ধাপে ধাপে এগিয়ে যাবে মনোনয়ন, যাচাই-বাছাই, প্রত্যাহার, প্রতীক বরাদ্দ ও প্রচারণার কার্যক্রম। ২৯ অক্টোবরের ভোটে শেষ পর্যন্ত কে আসনটির প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব পান, এখন সেই অপেক্ষায় ঠাকুরগাঁও-১-এর ভোটাররা।