দুর্গাপূজার সরকারি ছুটি ২০ ও ২১ অক্টোবর

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৯ বার
দুর্গাপূজার সরকারি ছুটি ২০ ও ২১ অক্টোবর

প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে প্রতিবছরই সরকারি ছুটির দিনগুলো নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আগ্রহ থাকে। বিশেষ করে পূজার সময় পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে সময় কাটানো, দূরের বাড়িতে যাওয়া কিংবা পূজামণ্ডপে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করতে সরকারি ছুটির তারিখ জানা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ২০২৬ সালের দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে এবারও সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নির্ধারিত ছুটির দিন ও ঐচ্ছিক ছুটির সুযোগ সম্পর্কে এরই মধ্যে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য মূল সরকারি ছুটি থাকবে দুই দিন। আগামী ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার মহানবমী উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি থাকবে। এর পরদিন ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমী উপলক্ষে থাকবে সাধারণ ছুটি। ফলে দুর্গাপূজার মূল সরকারি ছুটি হিসেবে ২০ ও ২১ অক্টোবর—এই দুই দিন নির্ধারিত রয়েছে।

তবে পূজার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিন্দু ধর্মাবলম্বী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য মূল ছুটির বাইরে আরও দুই দিনের ঐচ্ছিক ছুটির সুযোগ রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করে এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে তারা এই ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারবেন। ফলে ছুটির দিন ও সাপ্তাহিক ছুটির সমন্বয় এবং ঐচ্ছিক ছুটি ব্যবহারের সুযোগ অনুযায়ী অনেক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য পূজার সময় তুলনামূলক দীর্ঘ অবকাশের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

২০২৬ সালের দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে মহালয়ার মধ্য দিয়ে। এ বছর মহালয়া পালিত হবে ১০ অক্টোবর শনিবার। হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস ও সংস্কৃতিতে মহালয়ার দিন থেকেই দেবীপক্ষের সূচনা এবং দুর্গাপূজার আবহ তৈরি হয়। ভোরের বিভিন্ন ধর্মীয় আয়োজন, চণ্ডীপাঠ এবং দেবী দুর্গার আগমনের প্রতীক্ষাকে কেন্দ্র করে এ দিনটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

মহালয়ার পর কয়েক দিন ধরে পূজার প্রস্তুতি এগিয়ে যাবে। এ বছর মহাষষ্ঠী পালিত হবে ১৬ অক্টোবর শুক্রবার। এরপর ১৮ অক্টোবর রবিবার মহাসপ্তমী, ১৯ অক্টোবর সোমবার মহাষ্টমী, ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমী পালিত হবে। পাঁচ দিনব্যাপী দুর্গাপূজার মূল ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার শেষ হবে বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে।

তবে ধর্মীয় আয়োজনের শুরু এবং সরকারি ছুটি শুরুর তারিখ এক নয়। মহালয়া থেকে পূজার আবহ তৈরি হলেও সরকারি ছুটি শুরু হবে ২০ অক্টোবর থেকে। অর্থাৎ ষষ্ঠী, সপ্তমী ও অষ্টমীর মতো গুরুত্বপূর্ণ পূজার দিনগুলো সরকারি সাধারণ ছুটির আওতায় থাকছে না। কর্মজীবীদের জন্য মূল সরকারি ছুটির দিন নির্ধারিত হয়েছে নবমী ও দশমীতে।

দুর্গাপূজা বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি এ উৎসবকে ঘিরে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগও তৈরি হয়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পূজামণ্ডপ সাজানো, প্রতিমা তৈরি, আলোকসজ্জা এবং নানা আয়োজনের প্রস্তুতি চলে দীর্ঘ সময় ধরে। পূজার কয়েকটি দিন মণ্ডপগুলোতে মানুষের উপস্থিতি বাড়ে এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উৎসবের আনন্দে অংশ নেন।

সরকারি ছুটির তারিখ তাই শুধু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মবিরতির বিষয় নয়; অনেক পরিবারের ভ্রমণ, পারিবারিক অনুষ্ঠান এবং সামাজিক যোগাযোগের পরিকল্পনার সঙ্গেও এটি জড়িত। বিশেষ করে যাদের বাড়ি কর্মস্থল থেকে দূরে, তারা ছুটির দিনগুলোকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই যাতায়াতের পরিকল্পনা করে থাকেন। সরকারি ছুটির পাশাপাশি ঐচ্ছিক ছুটির সুযোগ থাকায় সংশ্লিষ্ট ধর্মাবলম্বী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী ছুটি সাজানোর সুযোগ পাবেন।

২০২৬ সালের ছুটির কাঠামোয় মহানবমীর ছুটি নির্বাহী আদেশে এবং বিজয়া দশমীর ছুটি সাধারণ ছুটি হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে। এর ফলে দুই ধরনের সরকারি ছুটির সমন্বয়ে দুর্গাপূজার শেষ দুই দিন সরকারি দপ্তরের নিয়মিত কার্যক্রম থেকে বিরতির সুযোগ থাকবে।

অন্যদিকে পূজার বিভিন্ন দিনের ধর্মীয় গুরুত্বও আলাদা। মহাষষ্ঠীর মাধ্যমে দেবীর বোধন ও পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। মহাসপ্তমী ও মহাষ্টমীতে বিভিন্ন ধর্মীয় আচার পালন করা হয়। মহাষ্টমীর অঞ্জলি ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতায় অনেক ভক্ত অংশ নেন। এরপর মহানবমীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় শারদীয় দুর্গোৎসব।

এবার মহাষ্টমী পড়েছে সোমবার এবং মহানবমী মঙ্গলবার। ফলে পূজার শেষ পর্যায়ে কর্মজীবীদের জন্য ছুটির সময়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। ২০ অক্টোবর সরকারি ছুটির পর ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর ছুটি থাকায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা টানা দুই দিন কর্মস্থলের দায়িত্ব থেকে অবকাশ পাবেন। হিন্দু ধর্মাবলম্বী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে অনুমোদিত ঐচ্ছিক ছুটি যুক্ত হলে অবকাশের সময় আরও বাড়তে পারে।

তবে ঐচ্ছিক ছুটি নেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি বিধি ও কর্তৃপক্ষের অনুমোদন অনুসরণ করতে হবে। অর্থাৎ প্রত্যেক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী স্বয়ংক্রিয়ভাবে অতিরিক্ত দুই দিনের ছুটি পাবেন—বিষয়টি এমন নয়; বরং নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী ঐচ্ছিক ছুটি গ্রহণের সুযোগ থাকবে।

দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নিরাপত্তা এবং জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচলও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। পূজামণ্ডপে দর্শনার্থীদের চাপ বাড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন শহর ও গ্রামীণ এলাকায় যানবাহনের চাপও পরিবর্তিত হয়। ফলে পূজার দিনগুলোতে ব্যক্তিগত ভ্রমণ বা পারিবারিক কর্মসূচি থাকলে সংশ্লিষ্টরা সরকারি ছুটির পাশাপাশি স্থানীয় পরিস্থিতিও বিবেচনায় রাখেন।

বিশেষ করে দূরপাল্লার যাত্রার ক্ষেত্রে ছুটির সময়কে কেন্দ্র করে পরিবহনব্যবস্থায় চাপ বাড়তে পারে। পরিবার নিয়ে বাড়ি যাওয়া, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করা কিংবা পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের পরিকল্পনা করা মানুষদের জন্য আগেভাগে প্রস্তুতি নেওয়া সুবিধাজনক হতে পারে। একই সঙ্গে পূজার সময় ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার পরিবেশ বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় দুর্গাপূজা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি বহু মানুষের পারিবারিক ও সামাজিক জীবনেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রতিমা দর্শন, অঞ্জলি, প্রসাদ গ্রহণ, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজনকে ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। সরকারি ছুটি সেই উৎসবের সময়কে আরও স্বস্তিদায়কভাবে কাটানোর সুযোগ করে দেয়।

২০২৬ সালের দুর্গাপূজার ক্ষেত্রে তাই মূল সরকারি ছুটির দুই দিন হলো ২০ ও ২১ অক্টোবর। এর আগে ১০ অক্টোবর মহালয়ার মাধ্যমে পূজার আবহ শুরু হবে এবং ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে মূল পূজার আনুষ্ঠানিক পর্ব শুরু হবে। ১৮ অক্টোবর সপ্তমী, ১৯ অক্টোবর অষ্টমী, ২০ অক্টোবর নবমী এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনের মূল পূজার আনুষ্ঠানিকতা।

সব মিলিয়ে যারা দুর্গাপূজার সময় সরকারি ছুটি ধরে ব্যক্তিগত বা পারিবারিক পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য ২০ ও ২১ অক্টোবরের তারিখ দুটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আর হিন্দু ধর্মাবলম্বী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়মে ঐচ্ছিক ছুটি নেওয়ার সুযোগ থাকায় পূজার সময় অবকাশের পরিধি আরও বাড়তে পারে। সরকারি ছুটির পাশাপাশি ধর্মীয় উৎসবের দিনগুলো যেন শান্তি, সম্প্রীতি ও আনন্দের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়—এটাই থাকবে সবার প্রত্যাশা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত