প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
পাবনার বেড়া পৌরসভার দক্ষিণপাড়া এলাকায় সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে কাজ করতে গিয়ে শ্বাসরোধে দুই নির্মাণশ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে, যা মুহূর্তেই এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া ফেলে। একই ঘটনায় আরও দুই শ্রমিক গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্থানীয়রা ও পুলিশ জানিয়েছে, মৃতরা হলেন পৌর সদরের হাতিগাড়া এলাকার আবুল কালামের ছেলে সজিবুল ইসলাম (২৫) এবং আব্দুল গফুরের ছেলে মোস্তাকিন হোসেন (৩০)। আহতরা হলেন বৃশালিখা গ্রামের নূর মোহাম্মদ আলীর ছেলে রবিউল ইসলাম (২৬) এবং হাতিগাড়া মহল্লার আকরাম শেখের ছেলে সম্রাট শেখ (২৫)।
দক্ষিণপাড়ার তাহের উদ্দিনের বাড়িতে প্রায় ১০ থেকে ১২ দিন আগে একটি সেপটিক ট্যাংকের ছাদ ঢালাই করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সকালে শ্রমিকরা ট্যাংকের ভেতরে নেমে ঢালাইয়ের সময় ব্যবহৃত বাঁশ ও খুঁটি খুলছিলেন। এসময় হঠাৎ তারা চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে চার শ্রমিককে উদ্ধার করে বেড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সজিবুল ও মোস্তাকিনকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত রবিউল ও সম্রাটকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বেড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অলিউর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ঢালাইয়ের পর দীর্ঘ সময় সেপটিক ট্যাংকের মুখ বন্ধ থাকায় ভেতরে অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হয়েছিল। ফলে শ্রমিকরা ভেতরে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে শ্বাসরোধে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। তিনি আরও জানান, মৃতদের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পাবনা ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারাও একই ধরনের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে ঢোকার আগে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা না করায় এবং গ্যাস নিঃসরণের ঝুঁকি বিবেচনা না করায় এ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এমন ঘটনায় কাজ শুরুর আগে সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীর উপস্থিতি অপরিহার্য হলেও তা এখানে ছিল না।
ঘটনার পর স্থানীয়রা গভীর শোক প্রকাশ করে বলেছেন, এই দুর্ঘটনা একদিকে যেমন দুই পরিবারের আর্থিক ভরসা কেড়ে নিয়েছে, তেমনি এলাকাবাসীকেও নাড়িয়ে দিয়েছে। নিহতদের পরিবারে এখন নেমে এসেছে অসহনীয় দুঃখের ছায়া। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে নির্মাণশ্রমিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি অবহেলার কারণে এ ধরনের দুর্ঘটনা বারবার ঘটছে এবং এর অবসান ঘটাতে হবে জরুরি ভিত্তিতে।
এ ঘটনা শুধু দুইটি প্রাণহানি নয়, বরং এটি আবারও তুলে ধরল শ্রমিক সুরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতি এবং নীরব অবহেলার মাশুল কতটা ভয়াবহ হতে পারে।