তিস্তা অববাহিকায় ভয়াবহ বন্যা: গজলডোবা ব্যারাজের সব গেট খোলা, পানিবন্দি হাজারো পরিবার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৫
  • ৬৮ বার

প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

লালমনিরহাটে তিস্তা অববাহিকার বন্যা পরিস্থিতি বৃহস্পতিবার চরম আকার ধারণ করেছে। টানা ভারী বর্ষণ এবং ভারতের গজলডোবা ব্যারাজের সবগুলো গেট খুলে দেওয়ায় তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার বহু ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার ভোর ৬টায় ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১১ সেন্টিমিটার ওপরে ছিল, যা সকাল ৯টায় বেড়ে দাঁড়ায় ১৫ সেন্টিমিটার এবং দুপুর ১২টার মধ্যে আরও বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১৮ সেন্টিমিটার ওপরে পৌঁছায়। নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধির ফলে জেলার নিম্নাঞ্চলের অন্তত ৩৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে প্রায় ২৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তলিয়ে গেছে রোপা আমনসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসলের বিস্তীর্ণ ক্ষেত। পানি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সার্বক্ষণিকভাবে ৪৪টি জলকপাট খোলা রেখেছে।

পাউবো সূত্র জানিয়েছে, আগামী দুই থেকে তিন দিন এই অঞ্চলে ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢল অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে শুধু লালমনিরহাট নয়, রংপুর, নীলফামারী, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের বন্যা পরিস্থিতিও আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পানির সঙ্গে ভেসে এসেছে সাপ ও অন্যান্য পোকামাকড়, যা গ্রামীণ জনজীবনকে আরও বিপর্যস্ত করে তুলেছে। গোবর্দ্ধন গ্রামের মোবারক হোসেন জানান, চরাঞ্চলের প্রায় প্রতিটি বাড়ি পানিবন্দি হয়ে পড়েছে, গবাদি পশুর খাবার সংকট দেখা দিয়েছে, এমনকি তাদের রাখার মতো শুকনো জমিও মিলছে না। একই এলাকার কাচুয়া শেখ জানান, পাঁচদিন ধরে চুলায় রান্না করতে না পেরে শুকনো রুটি, চিঁড়া ও গুড়েই দিন কাটছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ত্রাণ নয়, চাই ভারত থেকে যেন আর পানি না আসে।”

স্থানীয় প্রবীণ শিক্ষক মহিরুদ্দিন ভারতের পানি ব্যবস্থাপনার সমালোচনা করে বলেন, শুষ্ক মৌসুমে গজলডোবা ব্যারাজের গেট বন্ধ রেখে তারা তিস্তা তীরের মানুষের জীবনকে পানির অভাবে কষ্টকর করে তোলে, আর বর্ষাকালে সবগুলো গেট খুলে দিয়ে ভাসিয়ে দেয়। তিনি এই পরিস্থিতিকে ‘অমানবিক’ বলে আখ্যা দেন। তিস্তাতীরের উত্তর গড্ডিমারী গ্রামের মোন্তাজ মিয়া জানান, পানির তোড়ে গ্রামের অধিকাংশ রাস্তাঘাট ও বাড়িঘর হাঁটু থেকে কোমর পর্যন্ত ডুবে গেছে। রাতে পানির গর্জন ও তীব্র স্রোতে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে তারা ভীষণ আতঙ্কে আছেন।

পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটেছে তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত দ্বিতীয় সংযোগ সেতুর পশ্চিম পাশের সেতু রক্ষা বাঁধে বড় ধরনের ভাঙনে। প্রায় ৯০০ মিটার দীর্ঘ বাঁধের ৬০ মিটারের বেশি জায়গার ব্লক ধসে গিয়ে প্রায় ৭০ ফুট গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে সেতু ও যোগাযোগ সড়ক ঝুঁকিতে পড়েছে, পাশাপাশি আশপাশের প্রায় ১,০০০ পরিবারও ভাঙনের শঙ্কায় রয়েছে। উজানের ঢলে তীব্র স্রোত সরাসরি বাঁধে আঘাত হানছে, যার ফলে নিচের অংশের মাটি ভেসে গিয়ে ব্লক ধসে পড়ছে।

পাউবোর লালমনিরহাট নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার বলেন, “ভারত থেকে নেমে আসা উজানের ঢল ও স্থানীয় বৃষ্টির কারণে তিস্তার পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছি এবং স্থানীয় জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।” তিস্তা ব্যারাজের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানিয়েছেন, পানির চাপ সামাল দিতে সবগুলো গেট খোলা রাখা হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ ও রাস্তাগুলো নিবিড়ভাবে নজরদারি করা হচ্ছে।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক এইচএম রকিব হায়দার জানান, পানিবন্দি পরিবারগুলোর মাঝে ইতোমধ্যে কিছু প্যাকেটজাত শুকনো খাবার ও জিআর চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা দ্রুত বিতরণ করা হবে। এছাড়া অতিরিক্ত ত্রাণ সহায়তার জন্য আবেদন করা হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ও ক্ষতির পরিমাণ ক্রমেই বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি মোকাবেলায় স্থানীয় প্রশাসন, পাউবো এবং ত্রাণ সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হচ্ছে।

আপনি চাইলে আমি এই প্রতিবেদনে ভারতের পানি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত অতীত ইতিহাস, আন্তর্জাতিক নদী আইন অনুযায়ী এর প্রভাব, এবং স্থানীয় মানুষের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির অর্থনৈতিক বিশ্লেষণও যুক্ত করতে পারি, যাতে প্রতিবেদনটি আরও অনুসন্ধানী ও গভীর হয়। এতে পাঠকরা শুধু ঘটনাটি নয়, এর মূল কারণ ও ভবিষ্যৎ প্রভাব সম্পর্কেও পূর্ণাঙ্গ ধারণা পাবেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত