পিটিআইয়ের ৫৯ নেতার ১০ বছর করে কারাদণ্ড, মুক্তি পেলেন ৩৪ আসামি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৫
  • ১১৯ বার
পিটিআইয়ের ৫৯ নেতার ১০ বছর করে কারাদণ্ড, মুক্তি পেলেন ৩৪ আসামি

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

পাকিস্তানের রাজনীতিতে আবারও বড় ধাক্কা লেগেছে। তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের ৫৯ জন শীর্ষস্থানীয় নেতা ও কর্মীকে ২০২৩ সালের ৯ মে দাঙ্গার ঘটনায় দায়ী সাব্যস্ত করে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি সন্ত্রাসবিরোধী আদালত। সোমবার ফয়সালাবাদে ঘোষিত এ রায় পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোড়ন তুলেছে। এ মামলার মোট ১০৯ আসামির মধ্যে ৩৪ জনকে অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হলেও সাজা হয়েছে ৭৫ জনের। খবর দিয়েছে পাকিস্তানের প্রভাবশালী গণমাধ্যম দ্য ডন

রায়ে কারাদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন পিটিআইর জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী ওমর আইয়ুব, শিবলি ফারাজ এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী জারতাজ গুলসহ আরও অনেকে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ২০২৩ সালের ৯ মে ইমরান খানকে গ্রেপ্তারের পর দেশব্যাপী যে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে, তার অংশ হিসেবে তারা সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রানা সানাউল্লাহর বাড়িতে হামলা চালান এবং ভাঙচুর করেন। ওই ঘটনার পর সামনাবাদ থানায় মামলা হয়, যাতে তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে অভিযোগ আনা হয়।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০২৩ সালের ৯ মে ইমরান খানের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে তার সমর্থকরা শুধু রাজনৈতিক নেতাদের বাসভবন নয়, সামরিক স্থাপনা এবং সরকারি ভবনেও হামলা চালায়। দেশব্যাপী উত্তেজনা ও অরাজকতায় রাস্তায় নেমে আসে হাজার হাজার পিটিআই কর্মী। দাঙ্গার পরপরই দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের অনেকে গ্রেপ্তার হন। ইমরান খান নিজেও ওই বছরের আগস্ট থেকে বিভিন্ন মামলায় কারাবন্দি রয়েছেন।

সাজাপ্রাপ্তদের পাশাপাশি কয়েকজনকে কম মেয়াদী সাজা দেওয়া হয়েছে। শেখ রশিদ জাভেদসহ কিছু কর্মীকে তিন বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, দাঙ্গার ঘটনায় অভিযুক্ত থাকা সত্ত্বেও সাবেক তথ্যমন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী এবং এমএনএ জয়েন কুরেশি আদালত থেকে মুক্তি পেয়েছেন।

সাজা ঘোষণার পর সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী জারতাজ গুল। তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ মামলায় তাকে ফাঁসানো হয়েছে। তার বক্তব্য নতুন করে পিটিআই সমর্থকদের ক্ষোভ বাড়িয়েছে।

এ মাসের শুরুর দিকে লাহোরের একটি আদালতও একই ঘটনার প্রেক্ষিতে পিটিআইর ড. ইয়াসমিন রশিদ, সিনেটর ইজাজ চৌধুরী, মিয়ান মাহমুদ উর রশিদ, পাঞ্জাবের সাবেক গভর্নর ওমর সরফরাজ চিমাসহ আরও অনেককে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়। এর এক সপ্তাহ আগে ইমরান খানের ভাগনে শেরশাহ এবং শাহরেজকে গ্রেপ্তার করা হয়, যাদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ—তারা ৯ মে দাঙ্গায় সরাসরি জড়িত ছিলেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সাজা পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তুলবে। সরকার ও সেনাবাহিনী যেভাবে দাঙ্গায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে, তাতে পিটিআইয়ের রাজনীতি বড় ধরনের সংকটে পড়বে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, সমর্থকরা অভিযোগ করছেন, এ রায় মূলত রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং বিরোধী দলকে দুর্বল করার কৌশল

ফয়সালাবাদের আদালতের এই রায়কে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের রাজনীতিতে অস্থিরতা আরও গভীর হতে পারে বলে অনেকেই আশঙ্কা করছেন। কারণ ইমরান খান এখনো দেশটির সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতাদের একজন, এবং তার দল পিটিআইর বিরুদ্ধেই ধারাবাহিকভাবে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। রাজনৈতিক উত্তেজনা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা এখন সময়ই বলে দেবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত