প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
একটি বাংলাদেশ অনলাইন
ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর আবারও ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হলো। টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণের ফলে সৃষ্ট ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ জনে। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২৩ জন। এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে বেশ কয়েকজন চাপা পড়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছে স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দল। কাটারার অর্ধকুমারি এলাকায় বৈষ্ণোদেবী মন্দিরগামী পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে, যা মুহূর্তেই তীর্থযাত্রী ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।
দুর্ঘটনার পরপরই মন্দির কমিটি, নিরাপত্তা বাহিনী, আধাসামরিক বাহিনী সিআরপিএফ এবং ভারতের জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা দপ্তর এনডিআরএফ উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। কিন্তু বৃষ্টিপাতের কারণে উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হচ্ছে। বহু স্থানে কাদা, পাথর ও ভাঙা অবকাঠামো মিশে তৈরি হওয়া ধ্বংসস্তূপ সরানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে নিখোঁজদের জীবিত উদ্ধার করার সম্ভাবনা ক্রমেই কমে আসছে।
জম্মু ও কাশ্মীরের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত গত কয়েকদিন ধরে ভয়াবহ বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে। আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের পাশাপাশি ভেঙে পড়েছে বহু সেতু, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিদ্যুৎ লাইন ও মোবাইল টাওয়ার। ফলে একাধিক জেলায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। ইতোমধ্যে তিন হাজার পাঁচশোর বেশি বাসিন্দাকে বিভিন্ন এলাকা থেকে সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছানো যাচ্ছে না বলে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভারতের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর আইএমডি জানিয়েছে, শিগগিরই আবহাওয়ার উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। বরং আগামী দুই থেকে তিন দিন জম্মু-কাশ্মীরের বিভিন্ন অঞ্চলে আরও ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কাটরা, সাম্বা, রিয়াসি, উধমপুর, ডোডা ও কিশ্তওয়াড়সহ একাধিক জেলায় নতুন করে ভূমিধস ও হড়পা বান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ঘোষণা দিয়েছে আইএমডি।
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে বৈষ্ণোদেবী মন্দির যাত্রা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। প্রতি বছর লাখো ভক্ত এই তীর্থযাত্রায় অংশ নিলেও এ বছর দুর্যোগের কারণে তাদের যাত্রা থমকে গেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার ভাঙন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। অনেক অঞ্চলে টেলিযোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় লাখ লাখ মানুষ পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করা হলেও ভারী বর্ষণ ও দুর্যোগপূর্ণ পরিবেশের কারণে প্রতিটি পদক্ষেপ নিতে সময় লাগছে। নিহতদের পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসন। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারও পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব ধরনের সহযোগিতা দেবে বলে আশ্বাস দিয়েছে।
প্রবল বর্ষণ, আকস্মিক বন্যা ও ভয়াবহ ভূমিধসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়া জম্মু ও কাশ্মীর এখন কার্যত মানবিক সংকটের মুখোমুখি। ঘরবাড়ি হারানো মানুষগুলো ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে, কিন্তু মৌলিক চাহিদা মেটানো কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতি কেবল প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াবহতা নয়, বরং দুর্বল অবকাঠামো ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতাও নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে।