প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল কিসওয়ায় অবস্থিত একটি সাবেক সেনা ব্যারাকে বুধবার একাধিক হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। এই তথ্য নিশ্চিত করেছে সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আল-এখবারিয়া। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা হামলার ভিডিও চিত্র যাচাই করে দেখেছে, যেখানে ইসরাইলি যুদ্ধবিমানের হানা স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে।
সিরিয়ার একটি সামরিক সূত্র আল জাজিরাকে জানিয়েছে, হামলায় চারটি ইসরাইলি হেলিকপ্টার ব্যবহৃত হয় এবং তারা ব্যারাকে দু’ঘণ্টার বেশি সময় অবস্থান করেছে। অভিযানকালে সিরিয়ার সেনাদের সঙ্গে কোনো সরাসরি সংঘর্ষ হয়নি। জানা গেছে, এই হামলা কিসওয়ার কাছে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় ছয় সেনা নিহত হওয়ার একদিনের মধ্যে পরিচালিত হয়েছে।
সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার এক বিবৃতিতে এই হামলাকে ‘আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘ সনদের চরম লঙ্ঘন’ হিসেবে অভিহিত করেছে। মন্ত্রণালয়ের বক্তব্যে বলা হয়েছে, ইসরাইলের এই সামরিক অনুপ্রবেশ তার বিস্তারবাদী ও বিভাজনমূলক নীতির অংশ। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শায়বানি হুঁশিয়ারি দিয়ে উল্লেখ করেছেন, এই হামলা সিরিয়ার সার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে ফেলছে।
এদিকে, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা ইসরাইলি হামলাকে সিরিয়ার স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছেন। ডিসেম্বরে সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের ক্ষমতা থেকে প্রস্থান করার পর থেকে ইসরাইল সিরিয়ার বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ লক্ষ্য করে শত শত হামলা চালিয়েছে। বিশেষ করে বাফার জোন এলাকা এবং গোলান মালভূমি দখল করে তাদের অবস্থান শক্তিশালী করা হয়েছে। এটি ১৯৭৪ সালে সিরিয়ার সঙ্গে করা বিচ্ছিন্নতা চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সিরিয়ার বিশ্লেষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, সাম্প্রতিক হামলাগুলো কেবল নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে, ভবিষ্যতে সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চল এবং গোলান মালভূমি নিয়ে ইসরাইলের প্রতিরক্ষা নীতি ও আধিপত্যের সম্প্রসারণের ইঙ্গিত বহন করছে। এ ধরনের হামলার ফলে স্থানীয় সেনা ও নাগরিকদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনার আশঙ্কা করছেন।










