ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন, সামনে তাপপ্রবাহের শঙ্কা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৪৮ বার
ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন, সামনে তাপপ্রবাহের শঙ্কা

প্রকাশ: ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
একটি বাংলাদেশ অনলাইন

দেশজুড়ে কয়েকদিন ধরে ভ্যাপসা গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বৃষ্টির পরিমাণ কমে যাওয়া এবং বাতাসে জলীয় বাষ্পের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় দিন-রাতের তাপমাত্রা তুলনামূলক কম হলেও প্রচণ্ড গরম অনুভূত হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী চার থেকে পাঁচ দিন এই অবস্থা অব্যাহত থাকবে এবং এর সঙ্গে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে, যা গরমের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে তুলবে।

আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক বৃহস্পতিবার সকালে জানান, তাপমাত্রা স্বাভাবিক সীমায় থাকলেও বাতাসে অতিরিক্ত জলীয় বাষ্প জমে থাকার কারণে অস্বস্তিকর ভ্যাপসা গরম তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রামে আগামী কয়েকদিন হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও দেশের অন্য অঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। ফলে গরম আরও প্রকট আকার ধারণ করতে পারে।

গত কয়েকদিনের আবহাওয়ার তথ্য অনুযায়ী, বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ ৮০ শতাংশ বা তারও বেশি রেকর্ড করা হয়েছে। এর ফলে প্রকৃত তাপমাত্রা তেমন বেশি না হলেও গরমের অনুভূতি ব্যাপকভাবে বাড়ছে। রাজধানীসহ সারা দেশে এই ভ্যাপসা গরম মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত করে তুলেছে। বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন সবচেয়ে বেশি। রাজধানীর কেরানিগঞ্জের কদমতলীতে রিকশাচালক আলী ইমাম বলেন, “দিনের রোদে রিকশা চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ছে, আবার রাতের গরমে ঘুমানোই দায় হয়ে গেছে।”

অগাস্ট মাসের আবহাওয়া পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশালে স্বাভাবিকের তুলনায় বৃষ্টিপাত কম হয়েছে। বিপরীতে ময়মনসিংহ, সিলেট, রাজশাহী ও রংপুরে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। সব মিলিয়ে অগাস্ট মাসে গড়ে মাত্র ১ দশমিক ২ মিলিমিটার বেশি বৃষ্টি হয়েছে, যা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ১ শতাংশ বেশি।

সেপ্টেম্বর মাসের জন্য দেওয়া দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ মাসে স্বাভাবিক বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও তা অনেক ক্ষেত্রে কম হতে পারে। এ মাসে দুই থেকে তিনটি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যার একটি নিম্নচাপে রূপ নিতে পারে। এছাড়া এক থেকে দুটি মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। ভারী বৃষ্টির কারণে দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্ব এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কাও রয়েছে।

দেশে ইতিমধ্যে তাপমাত্রার ঊর্ধ্বগতি স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে। মঙ্গলবার সীতাকুণ্ডে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর বুধবার সিলেটে রেকর্ড করা হয় ৩৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানী ঢাকায় বুধবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যদিও গত ২৪ ঘণ্টায় নিকলিতে ৫৭ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে, দেশের অধিকাংশ এলাকা ছিল বৃষ্টিহীন।

আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, সেপ্টেম্বরের প্রথমার্ধে ভ্যাপসা গরম এবং তাপপ্রবাহ জনজীবনে আরও ভোগান্তি বয়ে আনতে পারে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এ অবস্থায় প্রচুর পানি পান, ঘরে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা এবং বাইরে কাজ করার সময় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত