চৌহালীতে যমুনা নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনে নদী ভাঙনের আশঙ্কা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৭৯ বার
চৌহালীতে যমুনা নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনে নদী ভাঙনের আশঙ্কা

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ‘২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার খাষপুখুরিয়া ইউনিয়নের যমুনা নদীতে চলছে প্রকাশ্যেই অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব। দীর্ঘ দুই মাস ধরে প্রতিদিন শত শত নৌকা ভর্তি বালু নদী থেকে তোলা হচ্ছে এবং তা বিক্রি করে গড়ে প্রতিদিন কয়েক লাখ টাকার বাণিজ্য হচ্ছে। এতে একদিকে নদীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে আশপাশের গ্রাম ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন অন্তত ১০টি নৌকা দিয়ে ২৫ থেকে ৩০ ট্রিপ বালু উত্তোলন করা হয়। প্রতিটি ট্রিপে বহন করা হয় ৬শ থেকে এক হাজার ফুট বালু, যা বিক্রি হচ্ছে ফুটপ্রতি ২০ থেকে ২৫ টাকায়। ফলে প্রতিদিনই কয়েক লাখ টাকার লেনদেন হচ্ছে। এ বিশাল আকারের বালু বাণিজ্যের আড়ালে গড়ে উঠেছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট, যারা নৌকা মালিক ও মাঝিদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করছে। প্রতিটি নৌকা লোডের জন্য মাঝিদের দিতে হয় ৭শ থেকে ১৫শ টাকা পর্যন্ত। শুধু তাই নয়, প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তিকেও নিয়মিত দেওয়া হচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাঝি জানান, মাঝে মধ্যে পুলিশের অভিযানে নৌকা জব্দ হলে ছাড়াতে গুনতে হয় এক লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত।

স্থানীয় বাসিন্দা সাব্বির হোসেন বলেন, “খাষপুখুরিয়ায় অবাধে বালু তোলার কারণে যমুনার ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। আশপাশের গ্রাম, ফসলি জমি এমনকি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। অবিলম্বে এই বালু উত্তোলন বন্ধ না করলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটবে।”

সাক্ষরতার প্রকৃত চিত্র নিয়ে নতুন করে বিতর্ক

এদিকে বালু উত্তোলনকারী কয়েকজন মাঝি অভিযোগ করেন, এলাকার প্রভাবশালী ঠান্ডু মোল্লার ছেলে জামাল মোল্লা, রজব আলীর ছেলে মোতালেব মিয়া এবং হোসেন আলীর ছেলে ইমদাদুল হক ‘চর খরচা’ নামে প্রতি নৌকা থেকে টাকা নেন। যদিও জামাল মোল্লা ও মোতালেব মিয়া এই অভিযোগ অস্বীকার করেন। আর ইমদাদুল হক জানান, “আমাদের বংশের কেউ টাকা নিতে পারে, তবে কত নেয় তা আমার জানা নেই।”

এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রশাসনের নীরব ভূমিকার কারণেই অবৈধ বালু উত্তোলন দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। স্থানীয়রা মনে করেন, প্রশাসন যদি কঠোর ব্যবস্থা নিতো তবে এত বড় পরিসরে বালু ব্যবসা সম্ভব হতো না। তারা অবিলম্বে এ কার্যক্রম বন্ধ করে নদী রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “যারা বালু তুলছে তারা অন্যায় করছে, আবার যারা চাঁদা নিচ্ছে সেটি তো আরও বড় অন্যায়। আমি একাধিকবার অভিযানে গিয়েছি, কিন্তু দিনের বেলায় ওদের ধরা যায়নি। আমি অফিস ছেড়ে বের হলেই তারা খবর পেয়ে যায়। এখন হয়তো অন্য কৌশল অবলম্বন করতে হবে, তাহলেই হয়তো তাদের আটক করা সম্ভব হবে।”

অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের উদ্যোগ কতটা সফল হবে তা সময়ই বলে দেবে, তবে স্থানীয়দের আশঙ্কা, তৎপরতা জোরদার না হলে যমুনার ভাঙন আরও ভয়াবহ রূপ নেবে এবং জনজীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত