মঈন খানের দাবি: ভালো বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার কারণে আমেরিকা শক্তিশালী

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৮৬ বার
মঈন খানের দাবি: ভালো বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার কারণে আমেরিকা শক্তিশালী

প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, আমেরিকাকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর দেশ বানিয়েছে তাদের উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা। শুধু সামরিক বা অর্থনৈতিক শক্তি নয়, বরং বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়, প্রতিভাবান শিক্ষক ও শ্রমনিষ্ঠ ছাত্র-ছাত্রীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র আজ বিশ্বের নেতৃস্থানীয় দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি এই মন্তব্য করেন বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে নাগরিক ঐক্য আয়োজিত এক আলোচনা সভায়, যেখানে সভাপতিত্ব করেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না।

মঈন খান বলেন, তিনি যখন মানুষের সঙ্গে আলোচনা করেন বা যুক্তি-বিতর্ক করেন, তখন আমেরিকাকে শক্তিধর দেশ বানিয়েছে তাদের শিক্ষাব্যবস্থা। এ প্রেক্ষাপটে তিনি বাংলাদেশে বিগত ১৫ বছর ধরে শিক্ষাব্যবস্থার ধ্বংসযজ্ঞকে শ্লেষ করে সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের নীতিমালা ছিল দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করা, যাতে মানুষ যুক্তিবাদী চিন্তা করতে না পারে, ন্যায়-অন্যায় পার্থক্য করতে না পারে এবং প্রতিবাদ করতে সক্ষম না হয়।

ড. মঈন খান বলেন, গত দেড় দশক ধরে শিক্ষা ব্যবস্থার অবক্ষয় দেশের নাগরিক সমাজকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তিনি শিক্ষকদের ঐক্যবদ্ধভাবে শিক্ষিত প্রজন্ম গঠনের দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং উল্লেখ করেন, শিক্ষকেরা যদি তাদের প্রতিজ্ঞায় অটল থাকে, তবে তারা দেশের শিক্ষিত ভবিষ্যৎ গড়তে সক্ষম হবে।

জার্মান শিক্ষাব্যবস্থার উদাহরণ তুলে ধরে মঈন খান বলেন, সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হয়ে বের হওয়া ছাত্ররা প্রধানত শিক্ষক হওয়ার দিকে মনোনিবেশ করে। এটি দেশব্যাপী একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত ছিল, যা নিশ্চিত করেছিল দেশের শিক্ষিত প্রজন্ম তৈরি হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে শিক্ষাকে ধ্বংস করার জন্য সবচেয়ে বড় হাতিয়ার ছিল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রতি সামাজিক সম্মান, শ্রদ্ধা ও মর্যাদাকে ধ্বংস করা, পাঠ্যবই ও কোর্স সিলেবাসকে নষ্ট করা।

মঈন খান আরও বলেন, “দেশের শিক্ষকদের লাঠি, টিয়ার গ্যাস দিয়ে ছত্রভঙ্গ করা, এটি কলঙ্কজনক। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা আজ যে সংকটে আছে, তার মূল কারণ শিক্ষকদের মর্যাদা হ্রাস, শিক্ষার মৌলিক ভিত্তি ধ্বংস।”

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার অবক্ষয় শুধুমাত্র শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নয়, সমগ্র জাতির মানসিক ও নৈতিক কাঠামোকেও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। শিক্ষার অবমূল্যায়ন ও শিক্ষকদের প্রতি অবহেলা দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। মঈন খান মনে করিয়ে দেন, সুশিক্ষা ও শিক্ষকের মর্যাদা নিশ্চিত না করা হলে জাতির স্থায়ী উন্নয়ন সম্ভব নয়।

সভায় উপস্থিত নাগরিক সমাজের নেতারা ও শিক্ষাবিদরা মঈন খানের বক্তব্যের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন এবং বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

মুঠোফোন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিক্ষার মান উন্নয়নের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে মঈন খান বলেন, “শিক্ষা হলো শক্তি। যদি আমরা শিক্ষার মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করি, তবে দেশ তথা জনগণ শক্তিশালী হবে। অন্যথায়, আমাদের জাতীয় ক্ষমতা হ্রাস পাবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে।”

এ আলোচনা সভায় শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীদের অধিকার, শিক্ষার নীতি ও সরকারের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়। শিক্ষার গুরুত্ব ও মান নিশ্চিত করার মাধ্যমে জাতিকে শক্তিশালী করার দিকেও বক্তব্য রাখেন মঈন খান।

সভায় নাগরিক ঐক্য, শিক্ষাবিদ ও শিক্ষার্থী নেতারা একমত পোষণ করেন, দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য শিক্ষার মান রক্ষা করা অপরিহার্য। তারা শিক্ষকদের মর্যাদা ও শিক্ষার্থীদের সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

এই আলোচনায় শিক্ষার প্রভাব ও জাতির ভবিষ্যৎ গঠনে শিক্ষকদের ভূমিকার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। মঈন খান শিক্ষকদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা যদি তাদের কর্তব্যে অটল থাকে, তবে আমাদের জাতি শিক্ষা ও শক্তির মাধ্যমে বিশ্বের সাথে প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম হবে।”

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত