প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
রাজধানীর উত্তরার খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ আবারও প্রমাণ করেছে তাদের শিক্ষার মান, অধ্যবসায় ও সফলতার ঐতিহ্য। ২০২৫ সালের উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে প্রতিষ্ঠানটি অর্জন করেছে চমকপ্রদ সাফল্য—পাসের হার ৯৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ। এ সাফল্যকে তারা উৎসর্গ করেছে সম্প্রতি বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মৃতির উদ্দেশে, যা শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহলে সৃষ্টি করেছে এক আবেগঘন পরিবেশ।
বাংলা ও ইংরেজি—দুই মাধ্যমেই এ বছর মাইলস্টোন কলেজ থেকে মোট ২ হাজার ৯৮১ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ২ হাজার ৯৭৬ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। মোট ৭৯১ জন শিক্ষার্থী অর্জন করেছে সর্বোচ্চ জিপিএ–৫। এমন নজিরবিহীন ফলাফলে প্রতিষ্ঠানটি আবারও রাজধানীর অন্যতম সফল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকায় শীর্ষে অবস্থান নিয়েছে।
বিভাগভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিজ্ঞান বিভাগে অংশ নেয় ২ হাজার ৩৭৩ জন শিক্ষার্থী, এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ২ হাজার ৩৭০ জন। পাসের হার ৯৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ এবং জিপিএ–৫ পেয়েছে ৭৪৮ জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে অংশ নেয় ৩০৫ জন শিক্ষার্থী, তাদের সবাই পাস করেছে, অর্থাৎ শতভাগ সফলতা। এই বিভাগে ২৩ জন পেয়েছে জিপিএ–৫। মানবিক বিভাগেও ফলাফল সমানভাবে প্রশংসনীয়—৩০৩ জনের মধ্যে ৩০১ জন উত্তীর্ণ, পাসের হার ৯৯ দশমিক ৩৪ শতাংশ এবং ২০ জন পেয়েছে জিপিএ–৫।
ফলাফল প্রকাশের পর কলেজ প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বয়ে যায়। শিক্ষার্থীরা উল্লাসে মেতে উঠলেও পুরো পরিবেশে ছিল এক ধরনের আবেগময়তা। কারণ, এই সাফল্য উৎসর্গ করা হয়েছে ২১ জুলাইয়ের বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে। মাইলস্টোন কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জিয়াউল আলম বলেন, “আমরা এ বছরের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলকে উৎসর্গ করছি তাদের প্রতি, যারা সেই দুর্ঘটনায় প্রিয়জন হারিয়েছেন। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি, আর এই সফলতা তাদের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ।”
তিনি আরও বলেন, “মাইলস্টোন কলেজের এই ধারাবাহিক সাফল্যের মূল কারণ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা। প্রশাসনের কার্যকর তদারকি, শিক্ষকদের নিষ্ঠা, শিক্ষার্থীদের মনোযোগ এবং অভিভাবকদের সহযোগিতা ছাড়া এ সাফল্য সম্ভব হতো না। আমরা গুণগত শিক্ষার পাশাপাশি সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমেও জোর দিই—যা আমাদের শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ ও নেতৃত্বগুণে সহায়তা করে।”
উত্তরার শিক্ষাঙ্গনে মাইলস্টোন কলেজের অবস্থান এখন এক অনন্য উচ্চতায়। প্রতি বছর ফলাফলে ধারাবাহিক সাফল্য অর্জন করে প্রতিষ্ঠানটি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি মানদণ্ড তৈরি করেছে। বিশেষ করে বিজ্ঞান বিভাগে তাদের অসাধারণ পারফরম্যান্স সারাদেশে আলোচিত। কলেজটির শিক্ষকরা মনে করেন, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা পদ্ধতি, আধুনিক ল্যাবরেটরি, নিয়মিত মূল্যায়ন এবং শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা—সব মিলিয়ে এই সফলতার ভিত্তি তৈরি হয়েছে।
অভিভাবকরা বলেন, “মাইলস্টোন কলেজ শুধু বইপড়ার জায়গা নয়, এটি একটি মানসিক বিকাশের ক্ষেত্র। এখানে শিশুদের শেখানো হয় দায়িত্ববোধ, মূল্যবোধ ও মানবিকতা।”
এইচএসসি ফলাফল নিয়ে শিক্ষার্থীদের মুখে এখন আনন্দের হাসি, আর কলেজ কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়—এই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে আগামী বছর আরও এগিয়ে যাওয়া। অধ্যক্ষ জিয়াউল আলম বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু ভালো ফল নয়, ভালো মানুষ তৈরি করা। সাফল্যকে উৎসর্গের এই মনোভাবই আমাদের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানবিকতা ও দেশপ্রেমের বীজ বপন করবে।”
বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে উৎসর্গিত এই ফলাফল তাই শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাফল্যের পরিসংখ্যান নয়—এটি এক গভীর মানবিক বার্তা, যে বার্তা বলে দেয়, মাইলস্টোনের শিক্ষা কেবল জিপিএ নয়, হৃদয়েরও উৎকর্ষ।