সর্বশেষ :
আইপিএল ফাইনালে মুখোমুখি আরসিবি-গুজরাত পিএসজির শিরোপা অক্ষুণ্ণ, আর্সেনালের টাইব্রেকার দুঃখ ইরান যুদ্ধের সুবর্ণ সুযোগে তুরস্কে এরদোয়ানের ক্ষমতা সুসংহতকরণের গল্প চীনের আপত্তি উপেক্ষা করে সামরিক শক্তি বাড়ানোর ঘোষণা জাপানের ইউরোপসেরা পিএসজির শিরোপা উদযাপনে ফ্রান্সে রণক্ষেত্র দেশে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি নির্মূলে কঠোর বার্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জামায়াত-এনসিপির অর্থের উৎস নিয়ে রাশেদ খাঁনের তীক্ষ্ণ কটাক্ষ ২৫ কোটি টাকা ‘নিয়ে যাওয়ার’ অভিযোগে মুখ খুললেন আসিফ মাহমুদ জেলা প্রশাসকের কাছে ১০ কোটি টাকার ব্যাখ্যা চাইলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ বিশ্বে বায়ুদূষণের শীর্ষে কিনসাসা, ঢাকার বাতাস এখনো অস্বাস্থ্যকর

বার্ধক্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর এমআরএনএ কৌশল

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৬১ বার
বার্ধক্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর এমআরএনএ কৌশল

প্রকাশ: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বয়স বাড়ার সঙ্গে মানুষের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ক্রমেই কমে যায়। সহজভাবে বললে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সাধারণত হালকা সংক্রমণ, ইনফেকশন বা ক্যান্সারের মতো রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে বিজ্ঞানীরা বার্ধক্যজনিত এই দুর্বলতা মোকাবিলায় কার্যকর কোনো পদ্ধতি উদ্ভাবনের চেষ্টা করছেন। এবার যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) গবেষকরা দাবি করেছেন, তারা এমন এক কৌশল আবিষ্কার করেছেন যা বার্ধক্যেও শরীরকে তরুণদের মতো রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সক্ষম করবে।

গবেষকরা জানিয়েছেন, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার মূল উপাদান হলো টি-সেল, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ শ্বেতরক্তকোষ। এই টি-সেল থাইমাস নামের একটি ছোট অঙ্গে পরিপক্ব হয়, যা মূলত হৃৎপিণ্ডের ঠিক সামনের দিকে অবস্থিত। থাইমাস থেকে নিঃসৃত বিভিন্ন গ্রোথ ফ্যাক্টর এবং সিগন্যাল নতুন টি-সেলকে শক্তিশালী ও কার্যকর রাখে। কিন্তু প্রাপ্তবয়স্ক বয়সে থাইমাস সংকুচিত হতে শুরু করে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এ প্রক্রিয়াকে ‘থাইমিক ইভলিউশন’ বলা হয়। প্রায় ৭৫ বছর বয়সের মধ্যে থাইমাস প্রায় অকেজো হয়ে পড়ে, যার ফলে নতুন টি-সেল উৎপাদন কমে যায় এবং শরীর ইনফেকশন ও ক্যান্সারের বিরুদ্ধে দুর্বল হয়ে পড়ে।

এমআইটির নিউরোসায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ফেং ঝাংয়ের নেতৃত্বে একদল বিজ্ঞানী শরীরকে কৃত্রিমভাবে টি-সেল উদ্দীপক সংকেত দিতে লিভারকে লক্ষ্য করেছেন। বয়স্ক বয়সেও লিভার প্রোটিন উৎপাদনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সক্ষম এবং অন্যান্য অঙ্গের তুলনায় এমআরএনএ পৌঁছে দেওয়া সহজ। এছাড়াও লিভারের মাধ্যমে তৈরি ইমিউন সিগন্যাল সহজেই পুরো শরীরে ছড়িয়ে যায়, যা বার্ধক্যজনিত দুর্বলতার মোকাবিলায় কার্যকর হতে পারে।

গবেষকরা ডিএলএল১, এলএলটি ৩ এবং আইএল ৭ নামের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ইমিউন ফ্যাক্টরকে এমআরএনএ প্রযুক্তির মাধ্যমে লিপিড ন্যানো পার্টিকেলে প্যাকেটজাত করেন। এরপর তা বয়স্ক ইঁদুরের রক্তে ইনজেকশনের মাধ্যমে প্রবেশ করানো হয়। লিভারের কোষ এমআরএনএ গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় প্রোটিন তৈরি করতে শুরু করে। পরীক্ষায় দেখা গেছে, চিকিৎসা প্রাপ্ত বয়স্ক ইঁদুরের টিকার প্রতি সাড়া দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এগুলোতে নতুন, কার্যকরী টি-সেল তৈরি হয়েছে, যা তরুণ ইঁদুরের মতো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা প্রদান করেছে। একই সঙ্গে ক্যান্সারের ইমিউনোথেরাপি ওষুধের সঙ্গে এমআরএনএ ট্রিটমেন্ট প্রাপ্ত ইঁদুরের বেঁচে থাকার হার নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা প্রমাণ করে এই পদ্ধতি ক্যান্সারের বিরুদ্ধে শরীরের নিজস্ব ক্ষমতাকে বহুগুণ বৃদ্ধি করতে সক্ষম।

গবেষণা দলের সদস্য ফেং ঝাং বলেন, ‘‘এটি কেবল বার্ধক্যের সমস্যা সমাধান করছে না, বরং ইমিউন সিস্টেমের অন্যান্য জটিল রোগের চিকিৎসাতেও বিপ্লব আনতে পারে।’’ মিরকো ফ্রেডরিখ নামের অন্য একজন গবেষক বলেন, ‘‘যদি এই পদ্ধতি মানুষের ক্ষেত্রে সফল হয়, তবে দীর্ঘজীবী ও রোগমুক্ত জীবন কাটানো সম্ভব হবে।’’

গবেষণার ফলাফল মানবদেহের ইমিউন সিস্টেমকে নতুন করে বোঝার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। বার্ধক্যজনিত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার দুর্বলতা কেবল ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য সমস্যাই তৈরি করে না, বরং জনস্বাস্থ্যের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ। এমআইটির এই নতুন কৌশল বার্ধক্যজনিত সংক্রমণ, ইনফেকশন এবং ক্যান্সারের মতো রোগের বিরুদ্ধে মানবদেহকে সক্ষম করার পাশাপাশি, প্রতিটি বয়স্ক মানুষকে তরুণদের মতো কার্যকর প্রতিরোধ শক্তি প্রদান করতে পারে।

এছাড়া, গবেষকরা আশা করছেন, এই আবিষ্কার ভবিষ্যতে বার্ধক্যজনিত রোগ প্রতিরোধে এবং ইমিউন সিস্টেমের পুনর্নবীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি রোগ, ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি এবং ক্যান্সারের মতো জটিল রোগের চিকিৎসা ক্ষেত্রে এটি বিপ্লবী পরিবর্তন আনতে পারে। গবেষকরা আরও জানাচ্ছেন, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে মানবদেহে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হতে পারে, যা দীর্ঘ সময় ধরে বার্ধক্যজনিত রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হবে।

সর্বোপরি, এই আবিষ্কার বার্ধক্যকে এক ধরণের সীমাবদ্ধতা হিসেবে নয়, বরং মানবদেহের ইমিউন সিস্টেমকে পুনর্নবীকরণের সুযোগ হিসেবে তুলে ধরেছে। এমআইটির বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, এই পদ্ধতি প্রয়োগে বার্ধক্যজনিত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব হবে এবং মানুষের জীবনমান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত