প্রকাশ: ১৫ জুলাই’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
নামাজের সময় যদি কোনো মুসল্লি মসজিদে এসে ইমামকে সিজদায় অবস্থানরত অবস্থায় পান, তবে কখন এবং কীভাবে নামাজে শরীক হওয়া উচিত তা নিয়ে নানা প্রশ্ন জন্ম নেয়। কেউ কেউ ইমামের সঙ্গে সিজদায় অবস্থায় তাকবির করে নামাজে শরীক হন, আবার অনেকে ইমামের দাঁড়ানো পর্যন্ত অপেক্ষা করেন, তারপর তাকবির দিয়ে নামাজে অংশগ্রহণ শুরু করেন। এই পরিস্থিতিতে ইসলামি বিধান অনুসারে সঠিক পদ্ধতি কী, তা জানা গুরুত্বপূর্ণ।
প্রথমত, হাদিস শরিফে পবিত্র নবী করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নির্দেশ অনুযায়ী, যেকোনো ব্যক্তি যখন নামাজে এসে ইমামকে যেকোনো অবস্থায় পাবেন, তখনই তিনি সেই অবস্থাতেই ইমামের সঙ্গে শরীক হয়ে নামাজে অংশগ্রহণ করবেন। অর্থাৎ, যদি ইমাম সিজদায় থাকেন, মুসল্লিও সিজদায় সঙ্গে শরীক হবেন, অপেক্ষা করবেন না ইমামের দাঁড়ানোর জন্য।
একই সঙ্গে অন্যান্য হাদিসে বর্ণিত রয়েছে, যে ব্যক্তি যখন নামাজে এসে ইমামকে সিজদায় পায়, সে অবিলম্বে ইমামের সঙ্গে সিজদায় শরীক হবে। তবে এই সিজদা নামাজের একটি রাকাত হিসেবে গণ্য হবে না। নামাজের রাকাত হিসেবে গণ্য হবে সেই ব্যক্তি যার সময়মতো রুকু করা হয়েছে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হলো হিশাম ইবনে উরওয়ার বর্ণনা, যেখানে তিনি তার পিতা উরওয়া (রহ.) থেকে শোনান যে, কেউ যদি ইমামকে সিজদায় অবস্থায় পায় এবং তখনই নামাজে শরীক না হয়ে ইমামের দাঁড়ানোর অপেক্ষা করে, সেটি পছন্দনীয় নয়। অর্থাৎ, সরাসরি ইমামের সঙ্গে সিজদায় শরীক হওয়া অধিক উত্তম।
এ বিষয়ে বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও ইসলামী গ্রন্থ যেমন সহিহ বুখারী, উমদাতুল কারী, আলমাবসূত ও ফাতাওয়া খানিয়া তত্ত্বাবধানে বিষয়টি বিশ্লেষিত হয়েছে এবং একই নীতি প্রচলিত রয়েছে।
অতএব, নামাজে দেরি হয়ে মসজিদে প্রবেশ করলে ইমাম যেই অবস্থায় থাকুক না কেন, তাতে অবিলম্বে ইমামের সঙ্গে শরীক হয়ে নামাজে অংশগ্রহণ করাই সঠিক এবং প্রমাণিত নিয়ম। এতে নামাজের কোন ক্ষতি হবে না এবং শারীরিক ঝামেলা বা ভুল-ভ্রান্তি এড়ানো সম্ভব হবে।
নামাজের প্রতি এই মনোযোগী ও সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি মুসল্লিদের মধ্যে ঐক্য এবং পবিত্রতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।
সূত্র: জামে তিরমিজি, সুনানে আবু দাউদ, মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, সহিহ বুখারি ও অন্যান্য ইসলামি গ্রন্থ।