মার্কিন–ইসরায়েলি হামলায় ইরানের ক্ষতি ২৭০ বিলিয়ন ডলার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৫৪ বার
মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় ইরানের ক্ষতি

প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

তেহরান: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক হামলায় ইরানের প্রায় ২৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে ইরান সরকার। মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছেন দেশটির সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি। এই বিপুল ক্ষয়ক্ষতির হিসাব এখনও চূড়ান্ত নয় বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাতে জানা যায়, ফাতেমেহ মোহাজেরানি রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আরআইএ নভোস্তিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং বিভিন্ন স্তরে মূল্যায়ন চলছে। তিনি বলেন, আলোচনার টেবিলে যুদ্ধ-পরবর্তী ক্ষতিপূরণ প্রশ্নটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে উঠে এসেছে।

তার ভাষায়, ইরান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে ক্ষতিপূরণের বিষয়টি সামনে আনছে এবং ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক বৈঠকেও এ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে আলোচিত হয়েছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এখন পর্যন্ত যে ২৭০ বিলিয়ন ডলারের হিসাব সামনে এসেছে তা সম্পূর্ণ চূড়ান্ত নয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চলমান সংঘাত ও সামরিক উত্তেজনার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা বেড়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর অঞ্চলজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ওই হামলায় ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষতির দাবি করেছে ইরান, যদিও স্বাধীনভাবে এসব তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, হামলার পর তারা পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইসরাইল, ইরাক, জর্ডান এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি থাকা ঘাঁটিগুলোর দিকে পাল্টা হামলা চালায়। এর ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে এবং দুই পক্ষের মধ্যে সরাসরি উত্তেজনা বাড়ে।

এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে গত সপ্তাহে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই যুদ্ধবিরতি খুবই নড়বড়ে এবং পরিস্থিতি যে কোনো সময় আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে।

অন্যদিকে কূটনৈতিক অগ্রগতির লক্ষ্যে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের মধ্যে প্রায় ২১ ঘণ্টাব্যাপী দীর্ঘ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। তবে দীর্ঘ আলোচনার পরও কোনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে। দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় আলোচনায় অগ্রগতি হয়নি বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই বিপুল ক্ষয়ক্ষতির দাবি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করবে। বিশেষ করে যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠন, ক্ষতিপূরণ দাবি এবং আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার বিষয়টি সামনে আসায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

এদিকে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি এই ক্ষতির হিসাব বাস্তব হয়, তবে তা ইরানের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে। অবকাঠামো, জ্বালানি খাত এবং শিল্প উৎপাদন খাতে বড় ধরনের ধাক্কা লাগার আশঙ্কা রয়েছে।

সব মিলিয়ে ইরানের এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটকে আরও এক ধাপ এগিয়ে দিয়েছে। কূটনৈতিক সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত